মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী

পেশাগত জীবনে চিকিৎসক ডাঃ মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী বাংলা অন্তর্জালে একাধারে একজন কবি এবং ধর্ম, ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞান, নারী ও মানবতা বিষয়ক লেখক।

ভিক্টিম ব্লেইমিং ই কি মানবতাবাদ? ভিক্টিম ব্লেইমিং ই কি নারীবাদ?

জনৈক ফেসবুকার ‘মালবিকা শিলা’ পুরুষতান্ত্রিক নির্লজ্জতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ শাকিব খানের দোষগুলোকে আড়াল করে ভুক্তভোগী অপু বিশ্বাসের ঘাড়ে ১০টি ভিত্তিহীন অভিযোগ আরোপ করেছেন যা চরমভাবে আপত্তিকর বিধায় বস্তুনিষ্ঠ যৌক্তিক আলোচনার দাবি রাখে। একজন মানুষ সৎ ও মানবিক হলে কখনোই উল্টে ভুক্তভোগীর ওপর চরম নির্দয়ভাবে এসব কুযুক্তি দিতে পারেন না। আসুন মালবিকা শীলার গতকালের লেখাটিতে অপু বিশ্বাসের প্রতি আরোপ করা অভিযোগগুলোগুলো দেখি এবং যুক্তি দিয়ে তার পুনঃর্মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি।

১) শাকিবের প্রেমে উন্মাদ হওয়া।

জবাবঃ বলা হয় Love is blind অর্থাৎ প্রেম অন্ধ। প্রেম ভালোবাসা কোনো অন্যায় নয়। শাকিবের প্রেমে অন্ধ হওয়া অপুর বোকামি হতে পারে কিন্তু অন্যায় নয়। কারো বোকামির জন্য তার দুর্দশার মুহূর্তে তাকে আদর্শিক ও মানসিক সাপোর্ট না দিয়ে বিভিন্ন দোষে অভিযুক্ত করা আর যাই হোক, মানবিকতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তির আচরণ নয়। আপনাদের মতো নির্দয় প্রকৃতির মানুষগুলো যখন কারো দুর্দশায় সহযোগিতা সহানুভূতির হাত না বাড়িয়ে উল্টো তাদেরকেই দোষারোপ ও কটাক্ষ করা শুরু করেন, তখন বোঝা যায় আপনারা মানুষ নন কেননা মানুষের মধ্যে দয়া মায়া মমতা থাকা বাঞ্ছনীয়, যার ছিটেফোঁটা আপনাদের মধ্যে নেই। 
যেই ভুলগুলোর কারণে একজন মানুষ জীবনে নির্যাতন, নিপীড়ন ও দুর্দশার শিকার হয়, মানবিকতা ও বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সেই ভুল করা ব্যক্তিকে পুনরায় জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য অনুপ্রেরণা ও সাহস জোগানোর চেষ্টা করেন, তাকেই ভুল প্রমাণ করতে কিংবা দোষারোপ করে মানসিকভাবে আরো দুর্বল করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগেন না। আপনার অ্যাপ্রোচ চরম ভুল এবং নারীবাদ তথা মানবতা – উভয়েরই চরম বিপক্ষে।

২) নিজের ক্যারিয়ারের কথা না ভাবা।

জবাবঃ সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ। অপু বিশ্বাস নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভেবেছিলেন বলেই শুটিংয়ে ফিরেছিলেন যার খবর প্রথম আলোসহ বেশ কিছু দৈনিকে এসেছিলো।

সূত্রঃ https://goo.gl/NwHRyk

অপু বিশ্বাস চলচ্চিত্র শুরু করার পর থেকে সেটি থেকে বিরত থাকার জন্য শাকিব খানের ক্রমাগত চাপপ্রয়োগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাথরুমে অপু বিশ্বাসের পড়ে যাওয়া ও সিজারের স্থানে ইন্টারনাল ব্লিডিং হওয়া অর্থাৎ অভিনয় করার ক্ষেত্রে সৃষ্ট অক্ষমতা থেকে অপু বিশ্বাস বাধ্য হয়ে অভিনয় থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সিজারের স্থানে ব্লিডিং হলে, সেই ক্ষতস্থান না শুকোনো পর্যন্ত এবং সেই ক্ষতস্থানের দাগ না যাওয়া পর্যন্ত অভিনয় করা সম্ভব নয়। এজন্যই সামগ্রিক অবস্থা অনুধাবন করে অপু বিশ্বাস অমনটি জানিয়েছেন। শাকিবের চাপে অপু বিশ্বাসের নামাজ-রোজা-হজ্বের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো না কিন্তু বাথরুমে পিছলে পড়ার কারণে অপুর চলচ্চিত্র থেকে অন্তত কিছু সময়ের জন্য সরে আসা তথা বিশ্রামে থাকা অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত।

৩) ধর্মান্তরিত হওয়া।

জবাবঃ বাংলাদেশের ‘মুসলিম বিবাহ আইন’ ও ‘বিশেষ বিবাহ আইন’ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই আপনি এই বিষয়টি না বুঝেই তুলে এনেছেন। অপু বিশ্বাস যদি ধর্মান্তরিত না হতেন তবে উক্ত বিয়েটিকে আইনের পরিভাষায় 'অনিয়মিত বিয়ে' হিশেবে গণ্য করা হতো। অনিয়মিত বিয়েতে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা থাকে, বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যার ভিকটিম নারীরাই হয় -এটি বিবাহ আইনগুলো পড়ে জেনে নেবেন। উদাহরণস্বরূপ – অনিয়মিত বিয়েতে কেউ একে অপরের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে না। ফলে এই অনিয়মিত বিয়ে নিঃসন্দেহে অসুবিধাজনক। এসব অসুবিধে এড়াতেই অপু বিশ্বাস ধর্মান্তরিত হয়েছেন, এর পেছনে শাকিবের জোর জবরদস্তিও যে ছিলো তার প্রমাণ শাকিবের নিজের স্বীকারোক্তি যে –ধর্মান্তরিত হয়ে তার স্ত্রী ধর্ম-কর্ম করে সওয়াব অর্জন করবেন, মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলবেন এবং গৃহিণী হয়ে থাকবেন। কিন্তু শাকিবের সে আশা পূরণ হলো না। এসব ঘটনার কারণেই নাকি শাকিব খান অপুকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন!

বিস্তারিতঃ 
১) http://archive.prothom-alo.com/print/news/38899
২) http://learnerlawyers.blogspot.com/2013/06/blog-post_12.html

বিয়ের কারণে ধর্ম পরিবর্তিত হোক এটা আমরা চাই না কিন্তু সমাজ ও আইন মেনে আমাদের চলতে হয়। ফলে, সবকিছু বৈধ অবস্থানে রাখতে কেউ ধর্ম পরিবর্তন করতে চাইলে করতেই পারেন, এমন তো না যে কাগজে কলমে ধর্ম পরিবর্তন করলে বাস্তবেও সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে! বাংলাদেশে সকল নাস্তিকদের পাসপোর্টে কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রে ধর্ম ইসলাম/হিন্দু/বৌদ্ধ/খ্রিষ্টান লেখা, এর মানে এই নয় যে তারা উক্ত ধর্মের অনুসারী বা বাস্তবজীবনে উক্ত ধর্মগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন! বিয়ের কারণে ধর্মান্তরিত হওয়া বিয়েকে বৈধ রাখতে সমাজ ও আইনের সঙ্গে করা একটি অ্যাডজাস্টমেন্ট, এর বেশি কিছু নয়।

বিয়ের কারণে ধর্ম পরিবর্তন করার পক্ষে আমি নই। বাস্তবে -বিয়েতে যেন ভবিষ্যতে কোনোরূপ আইনগত বাধা ও জটিলতা না আসে, সেজন্য একটি দেশের বিবাহ আইন মেনেই আমাদের বিয়ে করতে হয়। আইনগতভাবে বৈধ বিয়ের কিছু নীতিমালা আছে। সেই নীতিমালা মেনে বিয়ে করলে অনেক জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়। সম্পত্তি, সন্তান সন্ততির অধিকার ইত্যাদি অনেক বিষয় জটিলতার মধ্যে পড়ে যায় যখন -'অনিয়মিত বিয়ে' আইনের অধীনে বিয়ে হয়। সেই জটিলতা যেন না আসে, সেজন্যই ধর্মীয় বিবাহ আইনগুলোকে ব্যবহার করে মানুষ বিয়ে করে। ধর্ম পরিবর্তন করা মানেই সেই ধর্ম মনে প্রাণে বিশ্বাস বা পালন করা - তা নয়।

৪) বিয়ে করে শাকিবের স্বার্থে সেই তথ্য গোপন রাখা

জবাবঃ আপনি তো থিওরিটিক্যাল কথা বলেই খালাশ, অথচ বাস্তবে বাংলাদেশের পুরুষশাসিত সঙ্কীর্ণমনা সমাজে একজন নারী/স্ত্রীকে স্বামী কিংবা স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অনেক অন্যায়ের সঙ্গেই আপস করে চলতে হয়। শারীরিকভাবে দুর্বল, সমাজের দৃষ্টিতে দুর্বল, সংসারে দুর্বল একজন স্ত্রীকে এজন্য কোনভাবেই দোষ দেওয়া চলে না বরং তার প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই একজন মানবতাসম্পন্ন মানুষের কাজ। আপনি সেখানে অপুর দোষ ধরতে ও তাকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করতে উদ্যত হয়েছেন, আপনার চরিত্রের অমানবিক দিকটা এখানে নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। শাকিবের স্বার্থে যদি অপু কাজ করে থাকে, তবে সেটি তো অপুর ত্যাগতিতিক্ষা তথা মহানুভবতাকেই কার্যত প্রমাণ করে।

৫) যে সন্তান বাপের নামেই পরিচিত হবে তার জন্মের সময় বাপের অনুপস্থিত থাকাটা মেনে নেওয়া

জবাবঃ চরম অযৌক্তিক একটি বক্তব্য। কারণ, শাকিব খান বাচ্চাটা কখনোই চান নি, চেয়েছিলেন অপু অ্যাবরশন করে ফেলুক। আর শাকিব খান একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, তিনি যদি সন্তান জন্মদানের সময়ে উপস্থিত থাকতে না চান, তাহলে একজন গর্ভবতী নারী কিভাবে শাকিব খানকে ধরে বেঁধে জোর করে উপস্থিত থাকাবেন? প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যক্তিকে জোর করে ধরে বেঁধে উপস্থিত রাখা যায়? এই পৃথিবীতে যে যার ইচ্ছের মালিক, কাউকে ধরে বেঁধে জোর করে কোনো কাজ করানো যায় না। একজন গর্ভবতী নারী তো ঠিকমতো চলতে ফিরতে, উঠতে বসতেই পারেন না, দৌড়নো তো দূরের কথা। তাহলে এমন একজন নারী কিভাবে কাউকে আটকে রাখবেন?

৬) অপুর অপছন্দের নায়িকার সাথে শাকিবকে দেখে, মিডিয়াতে কান্নাকাটি করে হুলুস্থুল ফেলে দেওয়া

জবাবঃ ইস্যুটি এখানে ‘অপছন্দের নায়িকা’ নয়। ইস্যুটি হচ্ছে –শাকিবের স্ত্রী, সন্তান থাকার পরেও কেনো শাকিব সেই কমিটমেন্টকে তোয়াক্কা না করে শবনম বুবলীর বাসায় যাবেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলবেন এবং সেই ছবিকে বুবলী পোস্ট করে শাকিবকে পরিবারের অংশ হিশেবে বুঝিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেবেন –‘ফ্যামিলি টাইম’? গোপনে গোপনে শাকিবের সায় না থাকলে বুবলী এই কাজ কখনোই করতে পারতেন না। বিষয়টি শুধু অপু কেনো, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পৃথিবীর কোনো স্ত্রীই মেনে নিতে পারবেন না। যেখানে শাকিব ৯ বছর ধরে বিষয়টি গোপন রেখেছেন এবং অপুকেও বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে ৯ বছর চুপ রেখেছেন, সেখানে মিডিয়াতে আসা ছাড়া অপুর সামনে কোনো পথই খোলা ছিলো না। সেটাকে যারা “মিডিয়াতে কান্নাকাটি করে হুলুস্থুল ফেলে দেওয়া” –হিশেবে প্রতিপন্ন করতে চান, তারা নৈতিকতার দিক থেকে যে চরম অসৎ সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন অধিকারবঞ্চিতা সদ্য সন্তান প্রসবা নারীর কান্নাকাটিকে যেই মহিলারা ব্যঙ্গ করে বা টিটকারি মেরে উপস্থাপন করেন, তারা মানুষ নয় বরং পশুর পর্যায়ে পড়েন।

৭) কয়দিন পরেই "স্বামী"র সাথে গুলগুলা হাসি দিয়ে ছবি দেওয়া।

জবাবঃ সংসার বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশের অনেক নারীকেই একদিকে নীরবে স্বামীর চড়থাপ্পড় খেয়ে যেতে হয় আবার পরক্ষণেই চোখের জল মুছে তাকে সামাজিকতা ও সম্মানরক্ষার খাতিরে সেজেগুজে ছবি তুলে দেখাতে হয়। এটা বাংলাদেশের সমাজের অত্যাচারিত, নিপীড়িত, নিষ্পেষিত নারীদের নির্মম চিত্র। এই কাজটি করা অপু বিশ্বাস বা অন্য নারীদের অন্যায় নয় বরং পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার সামনে মুখ থুবড়ে পড়া অসহায়ত্বের মর্মস্পর্শী বহি:প্রকাশ।

৮) নিজে উপার্জনক্ষম হয়েও টাকাপয়সার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া।

জবাবঃ নিজে উপার্জনক্ষম হয়ে অপু বিশ্বাস কখনোই শাকিবের টাকাপয়সার জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে ছিলেন না। বরং এপ্রিলের দিকে একটি টিভি চ্যানেলের ইন্টারভিউতে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছিলেন

-জীবনযাপনের জন্য প্রচুর অর্থের দরকার নেই, ৫০০০০ টাকা হলেই যথেষ্ট। এর মাধ্যমে তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, অর্থবিত্তের চেয়ে সংসার তার কাছে আগে এবং সংসার ফেলে তিনি অর্থবিত্তের দিকে দৌড়বেন না। আর ক’দিন আগে শাকিব খান যখন ডিভোর্স লেটারে দেনমোহর ৭ লাখ টাকা দাবি করলেন, তখন অপু বললেন – সেটি ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। অপু বিশ্বাস যত ফিল্ম করেছেন, তাতে ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা তার কাছে কোনো বিষয়ই নয়। বরং, ডিভোর্স ঠেকানোর প্রতিবাদ হিশেবে এবং তাদের সম্পর্কের মূল্য এতো সস্তা নয় –এমনটি বোঝাতে তিনি দেহমোহরের উক্ত অংকের কথা বলেছিলেন।

৯) ডিভোর্সের কথায় আবার প্যানপ্যান শুরু করা।

জবাবঃ ‘প্যানপ্যান’ শব্দটা ব্যবহার করেছেন, এর মাধ্যমে আপনার নিম্ন মানসিকতার পরিচয় খুবই সুস্পষ্ট হয়। অপু বিশ্বাস শাকিব খানকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন, বিয়ের পর বাচ্চাও হয়েছে। ফলে, ৯ বছর বিয়ে গোপন রাখার পর সেটি ফাঁস হলে শাকিব খান কয়েক মাসের মধ্যে অপু বিশ্বাসকে ছুড়ে ফেলে দেবেন –এটি পৃথিবীর কোনো স্ত্রীই মানবেন না। শাকিব অপু বিশ্বাসের সঙ্গে ৯ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্কের মজা লুটলেন এবং তারপর বাচ্চা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন -এবার যাহ ভাগ! –এহেন অন্যায় কাজে মানসিক বিকারগ্রস্ত নন এমন কোনো নারী নীরব হয়ে থাকবেন?

১০) নিজেকে ভিক্টিম হিসেবে উপস্থাপিত করা।

জবাবঃ

ক) শাকিব খান ৯ বছর ধরে অপু বিশ্বাসকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছেন
খ) ৯ বছর আগে বিয়ে করেও সেই বিয়ের স্বীকৃতি দেন নি
গ) অপু বিশ্বাসকে অনেকবার অ্যাবরশন করে ফেলতে চাপ প্রয়োগ করেছেন ও সফল হয়েছেন
ঘ) অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করেও শবনম বুবলীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা কিংবা পরকীয়া করে যাচ্ছেন
ঙ) অপু বিশ্বাসের প্রতি স্বামী হিশেবে কখনো কোনো দায়িত্ব পালন করেন নি
চ) উল্টো দম্ভ ভরে ঘোষণা দিয়েছেন, সন্তানের দায়িত্ব নিলেও অপু বিশ্বাসের দায়িত্ব তিনি নেবেন না
ছ) সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরও অপু বিশ্বাসের সঙ্গে একসাথে থাকেন নি বা বাচ্চার দায়িত্ব নেন নি বরং মাসে মাসে টাকা পাঠানোর মাধ্যমে দায় এড়োতে চেয়েছেন

অন্তত এই ৭টি সুস্পষ্ট কারণে অপু বিশ্বাস নিঃসন্দেহে ভিকটিম। এই কারণগুলোকে কোনো ভাবেই কেউ খণ্ডানোর সামর্থ্য রাখেন না।

Malabika Sheela এর প্রতি বিনীত আহবান, আশা করি তথ্যসূত্র উল্লেখপূর্বক যুক্তি ও ব্যাখ্যা দিয়ে আমার বক্তব্যের যুক্তিখণ্ডন করবেন যাতে প্রমাণিত হয় আমি নই আপনিই সঠিক। সেই সৎ সাহস আছে কী আপনার? দুঃখজনক যে, ভিক্টিম ব্লেইমিং ওমেনস চ্যাপ্টার সম্পাদক এবং কিছু তথাকথিত নারীবাদীদের মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে? এর আগেও উইম্যানচ্যাপ্টার সম্পাদক 'গৃহপরিচারিকা যখন গৃহকর্ত্রী হয়ে উঠতে চায়' নামে একটি চরম বর্ণবাদী লেখা প্রকাশের মাধ্যমে এক কর্নেলের স্ত্রী তথা গৃহকর্ত্রীর পক্ষে সাফাই গেয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। ভিক্টিম ব্লেইমিংই কি মানবতাবাদ? ভিক্টিম ব্লেইমিংই কী নারীবাদ? সকলকে ধন্যবাদ।

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।