উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বদলে দিয়েছে আন্দোলনের ভাষা

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৮ ১:১৮ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


তুরাগ পরিবহনের ছাত্র লাঞ্চনাকারী তিনজন আসামীকে ধরা হয়েছে। পুলিশ ধরতে বাধ্য হয়েছে বলা ভালো। ফেবু ব্যাবহারকারী সবাই মোটামুটি বিষয়টা জেনে গেছি। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েগুলোর আন্দোলনের ভাষা।

গতকাল দুপুর পর্যন্ত তারা মামলা করে এবং ৪০ টি বাস বন্ধ করে দিয়ে অপেক্ষা করেছে। দুপুরে এসে তারা প্রেস ব্রিফিং করেছে সুর্নিদিষ্ট ছয়টি দাবী নিয়ে। তারা ২৪ ঘন্টা মালিক এবং পুলিশ প্রশাসনকে বেধে দিয়ে বলেছে এর মধ্যে যদি আসামী গ্রেপ্তার না হয় তাহলে আজ দুপুরে তারা মানব বন্ধন করবে এবং মনাববন্ধনের পর এই ৪০টি বাসের কোনো দায় দায়িত্ব ছাত্র বা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ নেবে না। আমার এই বাক্যটা যে কি অসাধারন লেগেছে। আকলমান্দ কে লিয়ে ইশারাই কাফী হ্যায়। সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন কিন্তু আমি নিশ্চিত মালিকের কলিজা শুকিয়ে গেছে এই বাক্যটা শুনে। যেইখানে যে ভাও উল্টা করে নাও বাও। যে যে ভাষা বোঝে। ফলাফল রাতের মধ্যেই আসামী গ্রেপ্তার।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে ছয়টি দাবি উপথ্থাপন করেছে সেই দাবিগুলো নিয়ে আসলে আমাদের সবার ভাবার অনেক সুযোগ এবং প্রয়োজন আছে।

সম্প্রতি ঢাকা শহরে পাব্লিক পরিবহন মেয়েদের জন্য বিভীষিকার আরেক নামে পরিনত হয়েছে। সেই যায়গা থেকে এই ছয় দাবির ২-৬ পাঁচটি দাবিকে সামগ্রিক পরিবহন ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য আমার অসম্ভব কার্যকরি এবং যৌক্তিক মনে হয়েছে। দাবিগুলো উল্লেখ করলাম নিজেদের ভাবার জন্য এবং এই দাবিগুলোকে সামগ্রিক ভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়াজ তোলার জন্য।

১. আগামীকাল ২৪-০৪-২০১৮, রোজ মঙ্গলবার, দুপুর ১২.০০ টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রকৃত অপরাধীককে শনাক্ত করতে হবে.।

২. শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে..।

৩. প্রশাসন এবং মালিক পক্ষের কাছে সকল কর্মচারীর সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্র এবং তথ্য থাকতে হবে, যাতে করে যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তাদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়...।

৪. মাদকের সাথে জড়িত কোনো মালিক, ড্রাইভার, হেল্পার কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন পরিবহন ও পরিবহন সমিতিতে যুক্ত থাকতে না পারে সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে....।

৫. পরবর্তীতে এমন নেক্কারজনক ঘটনা যাতে না ঘটে সেই নিশ্চয়তা আমাদের সাথে বসে মালিকপক্ষকে লিখিত অঙ্গিকার নামার মাধ্যমে নিশ্চিয়তা প্রদান করতে হবে এবং পরবর্তীতে যদি এমন দুর্ঘটনা ঘটে তবে তার দায়ভার মালিকপক্ষকে নিতে হবে.....।

৬. বি.আর.টি.এ এর কাছে আমাদের দাবি থাকছে যে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ীর লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো গাড়ী যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে তা সুনিশ্চিত করতে হবে......।


  • ৯২৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

দিলশানা পারুল

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে পড়াশোনার পাশাপাশি লম্বা সময় ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে যুক্ত ছিলেন দিলশানা পারুল। দশ বছর বামপন্থি রাজনীতির সাথে ‍যুক্ত ছিলেন, তারপর দশ বছর এনজিওতে শিক্ষা গবেষনা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় এডুকেশন সেক্টরে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি অনলাইনে লিখালিখি করেন।

ফেসবুকে আমরা