তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন উদযাপন-২০১৮ -তসলিমা পক্ষ

রবিবার, আগস্ট ২৬, ২০১৮ ৮:৪১ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


গতকাল ছিলো উপমহাদেশের প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন। তসলিমা পক্ষ প্রতিবার প্রিয় লেখকের জন্মদিনটি উদযাপনের চেষ্টা করে থাকে। এবারের জন্মদিন অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ঢাকার পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের সিংহভাগই ছিলো বয়সে তরুণ। তাঁরা জানিয়েছেন কীভাবে তসলিমা নাসরিনের লেখা তাঁদেরকে মুক্তচিন্তার পথে এনেছে, কীভাবে তাঁরা নারী অধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়েছেন, তসলিমার লেখা কীভাবে তাঁদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে, বলেছেন নিজেদের জীবনের গল্প, যেখানে লেখক তসলিমার লেখা প্রভাব ফেলেছে। ক্ষোভ জানিয়েছেন মৌলবাদ তোষণকারী সরকারের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে, যারা তসলিমার বই ব্যান করেছেন, তাঁর নাগরিক অধিকার খর্ব করে তাঁকে নির্বাসিত জীবন যাপনে বাধ্য করেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন তসলিমার বইকে দুষ্প্রাপ্য করে তাঁকে পাঠকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী শতাব্দী ভব, সাংবাদিক শাকিল অরণ্য, অনলাইন একটিভিস্ট আসাদ নূর, দিদার মাহমুদ, বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িত শেখ মিজান, কলকাতা থেকে বিয়াস বসুসহ আরও অনেকেই। সকলের আন্তরিক উপস্থিতি জন্মদিন আয়োজনকে সফল করেছে। ঈদের ছুটিতে ঢাকায় না থাকায় অনেকেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। 


এবারের অনুষ্ঠানে বড় একটি চমক ছিলো তসলিমার ছবি ও কোটেশানসহ একটি টিশার্ট, যাতে লেখা ছিলো “তোমার কর্তৃত্ব তুমি নাও নারী”। লাইনটি নেয়া হয়েছে তসলিমা নাসরিনের ৮০’র দশকে লেখা বই নির্বাচিত কলামের একটি জনপ্রিয় কলাম থেকে। টিশার্ট পরে প্রিয় লেখককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেকেই। অনেকেই টিশার্ট চেয়ে আমাকে ইনবক্স করেছেন। টিশার্ট স্বল্পতার কারণে আমাদের পক্ষে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয় নি বলে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। তবে সকলের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় তসলিমা পক্ষ চেষ্টা করবে প্রতিবছরই নতুন কোটেশন দিয়ে নতুন টিশার্ট বানাতে। তাই যারা পান নি তাঁরা মন খারাপ করবেন না, পরেরবার আপনারা সবার আগে পাবেন।


আরেকটি ঘটনা না বললেই নয়, তসলিমা নাসরিনের একজন ভক্ত নাম, দিশারী। কথা ছিলো তিনি জন্মদিনে আসবেন। কিন্তু হঠা ৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তাঁর পক্ষে অনুষ্ঠানে আসা সম্ভব হয় নি। তিনি খুব চাইছিলেন এই দিনে টিশার্টটি পরবেন, প্রিয় লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাবেন। তাই হাসপাতাল থেকেই তিনি একজন লোক পাঠিয়ে একটি টিশার্ট নিয়ে যান এবং একটি কেক পাঠান। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী প্রোগ্রাম শেষে তাঁর পাঠানো কেকটি পথশিশু ও খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। টিশার্ট পেয়ে তিনি একটি ছবি পাঠিয়েছেন যেখানে তিনি টি শার্টটি পরেছেন, একটি হাত স্যালাইন দেয়া অবস্থায়। সত্যি বলতে ছবিটি আমার চোখে জল এনেছে। এত বাধা বিপত্তি, এত নিষেধাজ্ঞা সব প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পাঠকরা আজও তসলিমাকে ভালোবাসছেন, তসলিমার বই আজও তাঁদের সচেতন করে, অনুপ্রাণিত করে, সাহস জোগায়- আয়োজনের সফলতা এটিই প্রমাণ করে।

আমার অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইলো আয়োজনের সাথে জড়িত থাকা প্রত্যেককের প্রতি ও যাদের উৎসাহ ও ভালোবাসায় এমন একটি আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন কেবল একজন মানুষ তসলিমার নির্বাসন নয়, এটি মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও মানবাধিকারের নির্বাসন। তাই আমরা এভাবেই আমাদের প্রিয় লেখককে ভালোবেসে যাবো, প্রতিবাদ করে যাবো সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, গর্বের সাথে উচ্চারণ করবো তসলিমা নাসরিন নামটি। কারণ এই নামটিই আমাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি জোগায়।


  • ৫৯৮ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ইতু ইত্তিলা

প্রবাসী, নারীবাদী

ফেসবুকে আমরা