নির্ভয়া বিচার পেয়েছে তনু, রূপাও বিচার পাক

রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০ ১:৩৫ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রাতে দিল্লীতে চলন্ত বাসে ২৩ বছরের তরুণী নির্ভয়াকে চারজন গণধর্ষণ করেছিলো। গণধর্ষণের পর শারীরিক নিপীড়ন চালিয়ে নগ্ন অবস্থায় চলন্ত বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো তাকে। নির্ভয়া এবং তার পুরুষ বন্ধুর উপর নৃশংস অত্যাচার চলেছিলো। দিল্লী পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ছায়া শর্মা নিজের বাছাই করা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তৎক্ষনাত একটি তদন্ত দল গঠন করেন। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সেই তদন্ত দল সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসে। সমস্ত ভারত এই ঘটনার প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলো। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ২৩ বছর বয়সী নির্ভয়াকে গণধর্ষণ করে হত্যার দায়ে ছয় আসামির মধ্যে চারজনের ফাঁসির আদেশ দেয় দিল্লির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। ঐ ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে একজন নাবালক বলে সংশোধনাগার থেকে ৩ বছর পরে ছাড়া পেয়ে যায়। আরেক অভিযুক্ত রাম সিং জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করে। ২০১৪ সালে দিল্লী হাইকোর্ট চারজনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে। ২০১৭ সালে সেই রায় পুনর্বিবেচনা করে দেখতে আদালতে আর্জি জানিয়েছিলো অন্যতম অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর সিং যা ডিসেম্বর ২০১৯ এ খারিজ হয়ে যায়। ৭ জানুয়ারি ২০২০ মামলাটির রায় হয় এবং ২২ জানুয়ারি ২০২০ আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।

অবশেষে গত ২০ মার্চ ২০২০ ভোরে ৪ জনকে একসাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপ থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ছাত্র পড়াতে গিয়ে আর ঘরে ফিরে আসতে পারে নি সে। তনু হত্যার ঘটনায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ তাঁর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ পর্যন্ত এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিনবার বদল করা হয়। ২০১৬ সালের ২১ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ পান ওই থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম। ঐ বছরের ২৫ মার্চ তদন্তভার দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি এ কে এম মঞ্জুর আলমকে। ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তদন্ত করেন সিআইডির কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম। পরে তদন্তভার পান সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন। ২০১৬ সালের ১৬ মে তনুর পোশাকে পাওয়া বীর্য পরীক্ষা করে তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে বলে সিআইডি জানিয়েছিলো। এরপর তনুর পোশাকে পাওয়া তিনটি ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তির ডিএনএ মেলানো হয়। তবে কোনো ফল আসে নি। জালাল উদ্দিন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর কয়েকজনের সঙ্গে ডিএনএ মেলানোর উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে তনুর নাট্যসংগঠন ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের পাঁচজন কর্মীর সঙ্গে ডিএনএ মেলানো হয়। ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর সকালে সিআইডির সদর দপ্তরের নতুন ভবনে তনুর বাবা, মা, ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, চাচাতো বোন লাইজু জাহান ও চাচাতো ভাই মিনহাজ হোসেন গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে সার্জেন্ট জাহিদের নাম বলেন। তনুর মা আরও বলেন, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকারী কে তা বেরিয়ে আসবে। কারণ সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে যাওয়ার পর জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়।

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষ এই মামলার দিকে চেয়ে আছে। কিন্তু কেস আছে কি নাই, তা–ও বলতে পারছি না। সিআইডি কোনো যোগাযোগ রক্ষা করছে না।’

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘তনুর বাবা এবং আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছি। মৃত্যুর আগে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়ার সুযোগ পেলে অন্তরে শান্তি পেতাম। প্রায় এক বছর ধরে সিআইডির সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। অফিসে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না।’

তনুর পরিবারের অভিযোগ ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘যাঁদের ডিএনএ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রোফাইল তৈরি করে ম্যাচিং করা হবে। এগুলো নিউইয়র্ক ও ইংল্যান্ডে করা হয়। এরপর আলামতের সঙ্গে মেলানো হবে। সোয়াব কাঠি দেখা হবে। তদন্ত আরও সতর্কভাবে চলছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি। বাদীর সঙ্গেও দেখা হচ্ছে।’

মামলার তদন্ত সংস্থা কুমিল্লা সিআইডি বলছে, তারা এ পর্যন্ত সামরিক বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় দুইশ' লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷ আর সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ জিজ্ঞাসাবাদ এখনো চলছে৷ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টের সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদ এরই মধ্যে বদলি হয়ে গেছেন ঢাকায়৷ সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিন জনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও জানায় সিআইডি। তবে তাদের নাম জানানো হয় নি।

২০১৯ এর আগস্ট মাসের পর তনু হত্যামামলার আর কোনো অগ্রগতির সংবাদ পাওয়া যায় নি। আজ চারবছর পরও তনু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নি, তদন্তও শেষ হয় নি, ডি এন এ রিপোর্ট সম্পর্কেও কেউ কিছু জানে না এবং সংশ্লিষ্ট কেউ এই বিষয়ে খোলাসা করে কিছু বলছে না, সেই হিসাবে চার বছর ধরে তনু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আদতে কোনো অগ্রগতি নেই।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে ছোঁয়া পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যায় তারা। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। রুপা হত‌্যা মামলায় ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চার আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। হত‌্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে এ রায় হলেও আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করায় তা থমকে আছে। এখনো আপিল শুনানি শুরু হয় নি। ফলে মৃত‌্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয় নি। আপিলের কারণে আদালতের নির্দেশ সত্বেও ছোঁয়া পরিবহনের সে বাসটি রুপার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় নি।

রুপা হত্যাকাণ্ডের ১৭৩ দিন ও মামলার ১৭১ দিন পর মাত্র ১৪ কার্যদিবসের শুনানিতেই রায় হয়েছিলো নিম্ন আদালতে। দেশের ইতিহাসে এত দ্রুত কোনো চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হয় নি। হাইকোর্টে বর্তমানে ২০১৫ সাল ও তার পরে পাঠানো ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। রুপা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ২০১৮ সালের হওয়ায় এখনো এর শুনানি হয় নি। আগামী দু-এক বছরের মধ্যে আপিল শুনানি হবে কি না, তাও অনিশ্চিত।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের একজন সহকারী আইনজীবী ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো মাত্র ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছিলো। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে এ মামলা স্থানান্তর হওয়ার পর সাক্ষী পর্যায়ে সাত কার্যদিবসে এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছিলো। কিন্তু আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করায় রায়টি থমকে আছে। ফলে রুপার পরিবার সঠিক বিচার এখনো পাচ্ছে না।’

উপরোক্ত তিনটি ঘটনার একটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে দিল্লীতে অথচ বাংলাদেশের দু‘টো মর্মান্তিক ঘটনার একটির কোনো অগ্রগতিই হয় নি এবং অপরটি নিম্ন আদালতের রায় সত্ত্বেও ঝুলে আছে কারণ আমাদের দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যাবস্থার অনিয়ম অনীহার কারণে।

 

তনু এবং রুপা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে আমাদের দেশের মানুষও বিক্ষোভে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে কিন্তু তাতেও তদন্ত কিংবা বিচার এগুচ্ছে না। কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন হচ্ছে না। দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের মাধ্যমে আমাদের দেশ ধর্ষকদের প্রতি কোনো সতর্কবানী পৌঁছে দিতে পারছে না কারণ এসব ঘটনায় এই দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো মাথাব্যথা নাই। প্রতিদিন ধর্ষণ হচ্ছে এবং অপরাধীরা বেশিরভাগই বিনা বিচারে পার পেয়ে যাচ্ছে এবং ধর্ষণের ব্যাপারে আরো সাহসী ও উৎসাহী হয়ে উঠছে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ এই চার বছরে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের ১৭ হাজার ২৮৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৩০টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে কিন্তু রায় কার্যকর হয় নি তখনো। ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ছয়টি জেলায় (ঢাকা, ঝিনাইদহ, জামালপুর, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও নোয়াখালী) ধর্ষণের মামলা পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় দেখা যায়, ঐ সময়ে ৪৩৭২টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে, কিন্তু সাজা হয়েছে মাত্র পাঁচ জনের- এই যদি হয় অবস্থা তবে ধর্ষক ভয় কেনো পাবে আর কেনই বা সমাজ ধর্ষণমুক্ত হবে, কিভাবে হবে?

 

ধর্ষণ ও তৎপরবর্তী হত্যার শিকার পরিবারগুলোর কথা কি ভেবে দেখেছেন কেউ? প্রায় আটবছর পর নির্ভয়া হত্যা মামলার সুরাহা হয়েছে যেখানে তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার খুব দ্রুতই নিষ্পন্ন হয়েছিলো – এই প্রায় আটবছর পরিবারটি কি নারকীয় যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে গেছে তা আমাদের বেশীরভাগ মানুষের ধারণার বাহিরে। তনু’র পরিবারের অবস্থাটি ভেবে দেখুন একবার – উনারা অন্ধকার এক কুপের ভেতর বাস করছেন আর রুপার পরিবারও জানে না তাদের জীবদ্দশায় এই মামলার রায় ও শাস্তি কার্যকর হতে দেখতে পাবে কিনা।

ধর্ষণের যত ঘটনা ঘটে, তার সামান্য অংশই আইন-আদালতের সামনে আসে। বাংলাদেশের সমাজে এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে, কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হলে তার উপরেই অনেকে দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য অনেকে মামলাও দায়ের করতে চান না। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

 

ধর্ষণের মামলায় চূড়ান্ত সাজা হবার উদাহরণ খুব বেশি নেই বলেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আপোষ করে নেয় অনেকে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধর্ষণের মামলায় বেশিরভাগ অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাবার মূল কারণ সাক্ষীর অভাব। অনেক সময় মামলার বাদীও শেষ পর্যন্ত মামলা লড়তে চান না।

আসামীরা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসার পর ভুক্তভোগীদের উপর ভয়-ভীতিসহ নানা ধরণের চাপ প্রয়োগ করে। ফলে এক সময় অভিযোগকারী বাধ্য হয় মামলার আপোষ করতে।

পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলেও অনেক সময় ভিকটিম এবং সাক্ষীদের অনাগ্রহের কারণে অপরাধীরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। ভিকটিমের নিরাপত্তা এবং সাক্ষী উপস্থাপনের দায়িত্ব পুলিশের। ভিকটিমের নিরাপত্তা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি পুলিশকেই নিশ্চিত করতে হবে।
অথচ তনু ও রুপার পরিবার আপোষ করে নি, তারা মামলা চালিয়ে যাচ্ছে আর বিচারের ও শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় আছে। ধর্ষণের মামলায় বেশিরভাগ অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাবার মূল কারণ সাক্ষীর অভাব যা তনুর হত্যাকান্ডে দৃশ্যমান। তনু ও রুপার পরিবারের মনোবল ও বিচারের দাবীকে কোনকিছুই দমিয়ে রাখতে পারে নি।

ধর্ষণের মামলা প্রমাণ করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পক্ষের সদিচ্ছা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাক্ষী রেখে কেউ ধর্ষণ করে না। সেখানে মূল সাক্ষী হচ্ছে ভিকটিম এবং তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট। এক্ষেত্রে আর কোনো কিছু লাগে না। ধর্ষণ মামলা দ্রুত শেষ করার কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু যখন ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তখন ভিকটিম উপস্থিত থাকতে পারা সম্ভব না হলেও আলামত থাকে এবং তদন্ত ঠিকমতো পরিচালিত হলে অপরাধীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা কঠিন কোনো কাজ নয় যদি রাষ্ট্রযন্ত্র এই বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখে। কিন্তু দেখা যায় আমাদের যথাযথ প্রশাসন ও সরকার এইসব ব্যাপারে কোনো আগ্রহ প্রকাশ করে না। ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে অপরাধীদের জামিন না দিয়ে বরং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের দেশে সেই পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাই না। বিভিন্ন সময় ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনা থামছে না। ধর্ষণের কোনো ঘটনা নিয়ে তোলপাড় না হলে সেটির তদন্ত থেকে শুরু করে সবকিছুই ধীরে চলে। নুসরাতকে হত্যার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলে প্রধানমন্ত্রী যখন নির্দেশনা দেন, তখন এর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। কিন্তু সকল মানুষই রাষ্ট্রের, সকলের জন্যই একইভাবে আইনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া উচিত। শুধু একটা মামলা কোনো উদাহরণ হতে পারে না।

তনু এবং রুপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হোক, অপরাধীদের ফাঁসি হোক এবং দৃষ্টান্ত স্থাপিত হোক যেন আমাদের দেশে নুতন করে কোনো তনু কিংবা রুপার কথা আমাদেরকে জানতে না হয় আর কোনদিন। নির্ভয়া দেরীতে হলেও বিচার পেয়েছে, তনু রুপাও দ্রুততম সময়ের ভেতর সুবিচার পাক সেই দাবী জানাই নিরন্তর।


  • ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শামীম আরা নীপা

এক্টিভিস্ট