প্রেম হওয়া নয়; না হওয়াই অসুস্থতা

বুধবার, জুলাই ২৫, ২০১৮ ৪:১০ AM | বিভাগ : ওলো সই


আমার বিয়েতে ভাংচি পড়েছিল এজন্য যে স্কুলজীবনে আমার কোনো বা কোনো কোনো ছেলের সঙ্গে প্রণয় হয়েছিল। কেউ কেউ নাকি বলেছিল, মেয়েটা নষ্ট আর খারাপ; ছেলেদের সাথে প্রেম করে।সাধারণত ১০-১২ বছর বয়েসে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি হয়। এ সময়ে ওদের শরীর ও মনে পরিবর্তন আসে, হরমোনাল পরিবর্তন আসে। শরীরে অনুভূতি জাগতে শুরু হয়। কারুর প্রতি আকর্ষণবোধ বা প্রেম জন্মানো খুবই স্বাভাবিক জিনিস এসময়। যদি কারুর ক্ষেত্রে তা না হয় তাহলে ভাবতে হবে মেয়েটির শরীর মন বা হরমোনে কোনো সমস্যা হচ্ছে। ঠিক মত সবকিছু হচ্ছে না। মন বিকশিত হচ্ছে না, সঠিক হরমোন নিঃসৃত হচ্ছে না ঠিক মত। উন্নত দেশে কোনো বাচ্চার এরকম হলে বাবামা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। আর আমাদের সমাজে হয় উল্টোটা। প্রেমে পড়লে তাকে নষ্টামি ও অসুস্থতা মনে করা হয়। ওই বয়েসে আমার প্রেমানুভূতি হয়েছিল; তার মানে আমি শারীরিক মানসিক ও হরমোনগতভাবে সুস্থ্য ছিলাম। প্রেম না হলেই বরং চিন্তার কথা ছিল।

বিয়ের আগে আমার মা আমাকে নষ্টা চরিত্রহীন ইত্যাদি বলে গালি দিত। কারণ সে জানতে পেরেছিল যে কয়েকটি ছেলে আমাকে চিঠি লিখেছে এবং আমিও এদের কারো প্রতি সামান্য অনুরক্ত ছিলাম। নষ্টা ও দুশ্চরিত্রের মেয়েরাই নাকি কোনো ছেলের দিকে তাকায়! আমি তো সমকামী নই যে কোনো ছেলের প্রতি অনুরক্ত না হয়ে কোনো মেয়ের প্রতি অনুরক্ত হবো! আমি নাকি ছেলে দেখলে পালগ হয়ে যাই। আরে! আমি ছেলে দেখলেই তো পাগল হবো! মেয়ে দেখলে পাগল হবো না। কারণ আমি তো সমকামী নই, বিষমকামী। আমার ভাইয়েরাও প্রেম করেছে। আমার মা তার পুত্রসন্তানদেরকে তো কোনোদিন নষ্ট দুশ্চরিত্র বলেনি কোনো মেয়ের প্রেমে পড়ার অপরাধে!

বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে বর বরের মা বাপ বোনের কাছে হাজার হাজারবার গালি শুনেছি, বিয়ের আগে আমার প্রতি কোনো ছেলে অনুরক্ত ছিল বলে। জড় পদার্থের মত সব নীরবে হজম করেছি তখন, একটা টুঁ-শব্দ করলেই আমাকে ওরা হত্যা করবে ব'লে। ওরা বেশ গর্ব করে বলতো, ওরা নাকি জীবনে কারো প্রেমে পড়েনি এবং ওদের প্রেমেও ইহজীবনে কেউ পড়েনি। বড় আফসোস! ওদের শারীরিক মানসিক ও হরমোনাল বিকাশ ঘটেনি এই জীবনে। সারাজীবন বিনা চিকিৎসায় অসুস্থ্য কেটে গেল ওদের।

তিন বছর বয়েসেও যদি কোনো শিশুর দাঁত না ওঠে বা চারদিন ধরে যদি কারুর খিদে না লাগে তবে নিশ্চিতভাবে তা কোনো অসুখ। এটাকে কো্নো সুখবর মনে করে বসে না থেকে এদের চিকিৎসা করানো জরুরি। তেমনি কারুর কৈশোর, এমন কি যৌবনেও যদি প্রেমানুভূতি না জাগে তাও এক প্রকারের ভয়াবহ রোগ বৈকি। এরকম লোকের চিকিৎসার প্রয়োজন। এবং যারা এই রোগকে সুস্থ্যতা ও পুণ্যতার লক্ষণ মনে করে তাদের মনোবৈকল্যের চিকিৎসা আরো বেশি জরুরি।

যে ছেলে বা ছেলেরা আমার প্রতি অনুরক্ত ছিল সে বা তারা এবং আমি, আমরা কেউ সমকামী নয় বলেই জানি আজ অব্দি। কাজেই বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতিই আমাদের অনুরাগ জাগা স্বাভাবিক। না জাগলে সেটাই বরং হতো অস্বাভাবিকতা ও অসুস্থ্যতার লক্ষণ।


  • ৫৬৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

তামান্না ঝুমু

ব্লগার ও লেখক

ফেসবুকে আমরা