পিতামাতা যা-ই করে তাতেই সন্তানের মঙ্গল নিহিত, পর্ব – ৩

বুধবার, আগস্ট ১৫, ২০১৮ ৪:১০ AM | বিভাগ : ওলো সই


আমার বয়স তখন ১২/১৩, একটা রোগ দেখা দেয় আমার শরীরে ওইসময়। প্রশ্রাবে সমস্যা। খুব ঘন ঘন প্রশ্রাবের বেগ হয়, সাথে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া। ৫/১০ মিনিট পরপর আমাকে দৌড়াতে হয় প্রশ্রাব করার জন্য। রাতে ঘুমোতে পারি না। গ্রামে তো ঘরের ভেতরে বাথরুম ছিলো না, বাইরে। সারারাত আমি ঘরে আর বাইরে দৌড়াদৌড়ি করি। নিঝুম বিজন রাতে বাইরে বেরুতে ভীষণ ভয় লাগে। তবু না বের হয়ে তো উপায় নেই। ভাল করে প্রশ্রাব হয় না। একটু একটু ফোঁটা ফোঁটা করে হয়। কিন্তু বেগ হয় একটু পর পরই। আহা! কী যে কষ্ট, কী যে যাতনা!

অসুখের শুরু থেকেই মা আমার উপর তার অভিশাপের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়, আনন্দও প্রকাশ করতে থাকে অভিশম্পাতের সাথে। বেশ ভালো হয়েছে, মাগী! যোনিতে পচা ধরেছে তোর। আল্লার কাছে এই-ই তো আমি দিনরাত প্রার্থনা করেছি! তোর যোনি আমার দোয়ার বরকতে পচে গেছে, দিনরাত প্রশ্রাব ঝরছে। কেউ বিয়ে করবে না তোকে, সারাজীবন আমার ছেলেদের বান্দি হয়ে থাকবি। আল্লার কাছে হাজার শোকর।

শরীরের অশান্তির চেয়ে বেশি আমি কাবু হয়ে যাই মায়ের গালিগালাজ আর অভিশাপে। রাতদিন আমার প্রশ্রাব ঝরে যতো, তারচে বেশি ঝরে অশ্রু। বেশ কয়েকবছর এ-অসুখ ছিলো। প্রতিদিনই সে আমাকে গালি দিয়েছে, মর মাগী, মর পচা-যোনি, মর পেসাব-ঝরুনি!

সারারাত আমি ঘুমাতে পারতাম না। ক্ষণে ক্ষণে বাইরে দৌড়াতে হতো প্রশ্রাব করতে। ভোররাতের দিকে আমার চোখে তন্দ্রা চলে আসতো। তাই খুব সকালে উঠতে পারতাম না। আমাদের ঘরে কেউই সকালে উঠত না। মা ছাড়া আর কেউই নামাজ পড়তো না। মা নামাজ পড়লেও সকালে বেশ বেলা করে উঠতো। ফজরের নামাজ সবসময় সে ক্বাজাই পড়তো। কিন্তু মা বিছানায় শুয়ে শুয়েই ভোরে আমাকে গালি ও অভিশাপ দিতে শুরু করে দিতো। ও মাগী, ও সতীন, সকাল হয়ে গেছে, এখনো যোনি ছড়ায়ে দিয়ে শুয়ে আছিস কেনো? কাজ নাই? নামাজ নাই? ভোরবেলায় আল্লা রহমতের ফেরেস্তাদের পাঠায় মানুষের দ্বারে দ্বারে। ফেরেস্তারা যেসব ঘরের মানুষদের নামাজ পড়া অবস্থায় দেখতে পায় সেসব ঘরে রহমত ঢেলে দিয়ে যায়। আমার ঘরে এত বড় চর্বিওয়ালা এক মাগী চর্বিওয়ালা যোনি মেলে, চর্বিওয়ালা বুক মেলে শুয়ে থাকে। এজন্যই তো আমার ঘরে কোনো রহমত নাই, কোনো আয় রোজগার নাই, কোনো উন্নতি নাই। এসব বলতে বলতেই বিছানা থেকে উঠে এসে সে আমার গায়ের উপরে এক জগ পানি ঢেলে দিতো। আমি ধড়ধড় করে উঠে দৌড় দিতাম ঘর ঝাঁট দিতে, রাতের এঁটো হাঁড়িপাতিল থালাবাসন ধুতে দৌড় দিতাম পুকুরঘাটে।

আমার গায়ে পানি ঢালা শেষে গালি ও অভিশাপ দিতে দিতে সে আমার ঘুমন্ত ভাইদের গায়ে কাঁথা-লেপ টেনে ঠিক করে দিতো। মাথায় কপালে হাত বুলিয়ে আদর করে বলতো, ঘুমাও, বাছারা। আমি দোয়া করি, তোমরা একদিন রাজা হবে, আর এই মাগী হবে তোমাদের বান্দি। এই বলে সে নিজেও ঘুমাতে চলে যেতো তার বিছানায়। আমার ভাইদের সামান্য জ্বর হলেই মা অস্থির হয়ে যেতো, কাঁদতো ওদের জন্য। আর দীর্ঘদিন আমি গুরুতর অসুস্থ ছিলাম, আমার মা এ-দীর্ঘ সময়ে কোনোদিন আমার মাথায় হাত রেখে বলেনি, তোর কেমন লাগছে? শরীরে যন্ত্রণা হচ্ছে কি? উপরন্তু গালি আর অভিশাপ দিয়েছে অকাতরে অবিরাম, ঝাঁটাপেটা করেছে আমাকে, ঘুমন্ত আমার গায়ে পানি ঢেলে দিয়েছে। (চলমান...


  • ৩৩৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

তামান্না ঝুমু

ব্লগার ও লেখক

ফেসবুকে আমরা