পিতামাতা যা-ই করে তাতেই সন্তানের মঙ্গল নিহিত, পর্ব – ১

সোমবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৮ ৫:২১ AM | বিভাগ : ওলো সই


আমার বয়েস তখন ১২-১৩, এইটে পড়ি। সেদিন ছিলো শুক্রবার। বৃষ্টি হচ্ছে অঝোরে, ঝড় বইছে দমকা এলোমেলো। শুক্রবার তাই স্কুল বন্ধ আমার ও আমার পিঠাপিঠি ছোটো ভাই শুভর। আমাদের মা প্রাইমারি স্কুল মাস্টার। তারও ছুটির দিন। রান্নাঘরে রান্নার জোগাড় চলছে। বাসায় কোনো গৃহকর্মী নেই। রান্নার জোগাড়পত্র করছি মা আর আমি।

আমি সন্দ্বীপে বড় হয়েছি। তখন সন্দ্বীপে দরিদ্র মানুষেরা সামান্য একটু ভাতের বিনিময়ে অবস্থাপন্ন গৃহস্থদের সব গৃহকর্ম করে দিতো। কিন্তু আমার মা সমস্ত কাজ আমার হাতেই করাতো, কোনো গৃহকর্মী নিতে চাইতো না। আমি কাজ করতে করতে আধমরা হয়ে যদি কাকুতিমিনতি করতাম কাউকে কাজের সাহায্যের জন্য ডাকতে তখন তার এককথার জবাব–ফকিরের বাচ্চারা ভাত বেশি খায় বড়লোকেদের বাড়িতে কাজ করতে এলে। আর তোকেই বা আমি বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো কেনো অন্য কাউকে ভাত খাইয়ে কাজ করিয়ে? তোকে বিনা কাজে বসিয়ে খাইয়ে তোর শরীরে চর্বি করে দিয়ে আমার লাভ কী?

কচুমুখী আর কচুর লতি রান্না হবে সেদিন; কী যেন মাছ দিয়ে। মাছ কোটার পরে আমি কচুমুখী আর লতি কুটছি। কাটাকোটা শেষ হলে খোসাগুলি ফেলতে আমি রান্নাঘরের দরজার বাইরে বের হলাম। রান্নাঘরটি দক্ষিণদুয়ারী। রান্নাঘরের বেড়ার বাইরে চালের নিচেই চিকন বারান্দার মতো টানা জায়গা। সে পথ দিয়ে হেঁটে আমরা রান্নাঘরের পশ্চিমদিকে অনেকখানি লাগোয়া টয়লেটে যাই। টয়লেটের সামান্য পশ্চিমেই একটা পুকুর। পুকুরটা অনেকটা পরিত্যক্ত। আমি প্রতিদিনের ঘর ও রান্নাঘরের উঠোন ঝাঁট দেওয়া ময়লা এবং মাছ-তরকারি কোটা ময়লা সেই পুকুরের পাড়ের ভেতরের দিকে ফেলি।

সেদিন ময়লা ফেলতে পুকুরপাড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে দেখি, বৃষ্টি বাদলে অবস্থা ভয়াবহ। রান্নাঘরের পশ্চিমের কোণ ঘেঁষে একটা পেয়ারাগাছ। আমি পেয়ারাগাছের গোড়ার দিকে লক্ষ্য করে তরকারির খোসাগুলি ছুঁড়ে ফেলি। আমার মা তা দেখতে পেয়ে আমাকে আকাশ-পাতাল গালাগাল ও অভিশাপ দিতে শুরু করে। আমাকে এলোপাথারি লাথি মারতে থাকে। আমি বলার চেষ্টা করি, বৃষ্টি ও ঝড়ের জন্য আমি পুকুরপাড়ে গিয়ে ময়লাগুলি ফেলতে পারি নি। বৃষ্টি থেমে গেলে ঝাঁট দিয়ে দেবো। তাতে সে আমাকে আরো বেশি প্রবলবেগে মার, অভিশাপ ও গালি দিতে থাকে।

এরপর আরো বেশি ক্রুদ্ধমূর্তি ধারণ করে বলে, এবার দেখবি আসল মজা। তোর নাগরকে ডেকে এনে এখন তোকে উচিত শিক্ষা দেওয়াবো। আমার নাগর মানে আমার পিতা। পিতা বসে ছিলো মেইন ঘরের বারান্দায়। সে পোস্টমাস্টারের চাকরি করতো। তারও আজ ছুটির দিন। আমাদের ঘরে টিনের চাল। টিনের চালে প্রচণ্ড বৃষ্টির আওয়াজ ও ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দের কারণে পিতা রান্নাঘরের আরো প্রচণ্ড মার গালি ও অভিশাপের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলো না।

মুহূর্তেই মা পিতাকে সামনের ঘরের বারান্দা থেকে হাত ধরে টেনে এনে আমার সামনে হাজির করে। পেয়ারাগাছের নিচে তরকারির খোসাগুলির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে, এই মাগী ওই যে ওইখানে তরকারির খোসা ফেলেছে। পিটিয়ে এর যোনি থেতলিয়ে দাও। পিতা বলে, তথাস্তু। মায়ের হুকুম তামিল করতে সাথে সাথে হুংকার দিয়ে পিতা আমার গায়ে উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকে শূন্যে তুলে আছাড় মারে রান্নাঘরের মেঝেতে কয়েকবার। আমাকে মেঝেতে শুইয়ে আমার শরীরের উপর পাড়াতে থাকে প্রবলভাবে। চোখ দিয়ে তার দাউদাউ আগুন বের হতে থাকে জিঘাংসা আর ক্রোধের। মুখ দিয়ে উগড়াতে থাকে জ্বলন্ত লাভা; ঘৃণ্য সব গালির লাভা। চ-বর্গীয় গালিসহ অন্যান্য বর্গীয় গালির অন্তহীন স্রোত অবিরাম বের হতেই থাকে।

এবার সে একটা দা হাতে তুলে নেয়। যে দা দিয়ে আমি তরকারি কুটেছিলাম সেই দা-টা। দা আমার গলায় বসিয়ে দেয়। জবাই করে দিতে চায় আমাকে। তারপর তার একটা পা দিয়ে আমার এক পা পাড়িয়ে চেপে ধরে রেখে অন্য পা শূন্যের দিকে টেনে টেনে আমাকে ছিঁড়ে ফেলতে চায় এবং দা-টা আমার যৌনাঙ্গের মধ্যে ধরে বলতে থাকে, এই দা এখনই তোর যোনি দিয়ে ঢুকায়ে দেবো। আমি চিৎকার করে কাঁদি। কাতর হয়ে বলি, আব্বা, আব্বার গো, আর করবো না জীবনে। মাফ করে দেন। এবার সে আরো ভয়ানকমূর্তি ধারণ করে বলে, পেয়ারাগাছের নীচ থেকে সমস্ত তরকারির খোসা একটা একটা করে তোর মুখ দিয়ে কামড়ে কামড়ে পুকুরপাড়ে নিয়ে ফেলবি এখনই।

আমাদের অনেক হাঁসমুরগি ছিলো। বৃষ্টি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সবাই এসে আশ্রয় নিয়েছে আজ পেয়ারাগাছের নিচে। ডালপালা পাতার কারণে গাছের নিচে বৃষ্টির পানি পড়ে কম। ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওরা দিনভর বিষ্ঠাত্যাগ করেছে। গাছের তলটা তাই আজ জলকাদা আর হাঁসমুরগির বিষ্ঠায় সয়লাব। তার এই হুকুম শুনে আমি অসহায় করুণ মিনতির চোখে মায়ের দিকে তাকাই। আমি আশা করি, মা আমাকে এই শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। তাকে বলি, মা, আর করবো না। মায়ের মুখে সন্তুষ্টি আর তৃপ্তির হাসি। আমাকে বলে, এখনই যা, মাগী, খোসাগুলি একে একে মুখ দিয়ে কামড়ে পুকুরপাড়ে ফেল, নইলে অবস্থা আরো খারাপ করিয়ে দেবো। আমার ছোটভাই শুভ চলমান ঘটনায় খুবই মজা পাচ্ছে। ফিকফিকিয়ে হেসে বলছে, ফেল মাগী, ফেল। এবার পিতা সর্বশক্তি দিয়ে আমার নিতম্বে লাথি মারে। আমি নিজেকে পেয়ারাগাছের নিচে উপুড় আবিষ্কার করি।

আমার মুখ আর চুল হাঁসমুরগির বিষ্ঠা আর জলকাদার মধ্যে ডুবে আছে, আমার গায়ে এসে পড়ছে ঝড়বৃষ্টির ছাঁট। হাঁসমুরগিরা আমার দিকে কৌতুকের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পিতা হাতে দা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রান্নাঘরের দুয়ারে, তার পাশে মা আর ছোটো ভাই শুভ। তিনজনই সুর মিলিয়ে বলছে, ফেল, মাগী ফেল, কামড়ে কামড়ে ফেল। আমি হাঁসমুরগির বিষ্ঠা আর জলকাদার ভেতর থেকে কামড়ে কামড়ে একটা একটা করে লতি আর কচুমুখীর খোসা পুকুরপাড়ে নিয়ে ফেলতে থাকি হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে। ঝড়ের কারণে খোসাগুলি একটু চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিলো ফেলার সময়। আমি চোখ দিয়ে খুঁজতে থাকি এদিক-ওদিক আঁতিপাতি, আর কোথাও কোনো খোসারর চিহ্ন আছে কি না।

বৃষ্টির ছাঁট এসে লাগে আমার চোখে। নিজের চোখের বৃষ্টি তো আছেই। আমার দৃষ্টি জলে ডোবা ঝাপসা। আমি চোখে ভালো দেখতে পাই না। চোখমুখে বিষ্ঠায় কাদায় মাখামাখি হয়ে আমি মায়ের দিকে তাকাই কাতর চোখে। সে আমায় দেখিয়ে দেয়, ওই যে ওই দূরে আরো কয়েকটা দেখা যাচ্ছে খোসা! আমি ছুটে যাই, হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে একে একে সবকটি খোসা কামড়ে কামড়ে নিজের মুখে তুলে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসি পুকুরপাড়ে। আমার মুখের ভেতরে দাঁত জিহ্বা সব বিষ্ঠাময়। আমার চুল মুখমণ্ডল হাত পা পুরো শরীর বিষ্ঠায় মাখামাখি।

আপনারা ভাবছেন, বিষ্ঠায় কামড় দিয়ে দিয়ে আমি খোসা তুললাম কীভাবে? আমার কি বিবমিষা লাগে নি? না। জীবন বাঁচাতে তখন আমি আরো ঘৃণ্য কিছু করতেও পিছ পা হতাম না। জীবন এমনই জিনিস! আমি এই হুকুম পালন না করলেই তো সাথেসাথে কোপ বসিয়ে দেবে। আমার তখন মান-অপমান বোধ নেই। আমার জিহ্বা বিষ্ঠার স্বাদ উপভোগ করতে ভুলে গেছে। ঘ্রাণেন্দ্রিয় ভুলে গেছে বিষ্ঠার গন্ধ উপভোগ করতে। শরীর ভুলে গেছে ব্যথা পেতে। আমি রান্নাঘরের সামনে এসে দাঁড়াই। আমার পিতামাতা ও ভাইয়ের মুখ তখন পরিতৃপ্ত ও খুশিখুশি। শুভ, আমার ভাই, মাকে বলে, মা, আমি এখন থেকে ওকে হাঁওরা ডাকবো, কেমন? মা তার ছেলেকে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আদুরে করে বলে, তুমি আজকে থেকে একে অবশ্যই হাঁওরা ডাকবে, বাছা।

হাঁওরা হচ্ছে কোদালের মতো একটা জিনিস। আকারে কোদালের চেয়ে কিছুটা বড়। মানুষ মাটি কাটা ও ময়লা আবর্জনা ফেলার কাজে ব্যবহার করে। আমি আজ পিতামাতার সম্মিলিত হুকুমে নিজের মুখে কামড়ে বিষ্ঠা ফেললাম। আমি হাঁওরাই তো! সেদিন থেকে আমার বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার ভাই আমাকে হাঁওরা ডেকেছে অন্যান্য খারাপ নামের সাথে। নানান খারাপ নাম উপাধি খেতাব ইত্যাদি তো আমি পেতামই প্রতিদিন আমার পিতামাতা ও ভাইদের কাছ থেকে।

ছোটভাই শুভ আমাকে কথায় কথায় চরম বিদ্রূপে শুধু মুখে হাঁওরা ডেকেই ক্ষান্ত হতো না, ওইটুকুতে ভরতো না তার মন; ও বিশাল হাঁ করে বিষ্ঠাতে কামড় দিয়ে দিয়ে তরকারির খোসা মুখে তুলে তা পুকুরপাড়ে নিয়ে ফেলার অভিনয় করে দেখাতো খুব মজা করে। কষ্টে অপমানে আমার বুক ভেঙে যেতো। আমি মাকে কেঁদে কেঁদে বলতাম, ওকে একটু মানা করো না! মা আমার দিকে বিষদৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার পুত্রকে দ্বিগুণ উৎসাহ দিয়ে বলতো, অবশ্যই বলবে, আরো বেশি বেশি বলবে।
 

  • ৯৮৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

তামান্না ঝুমু

ব্লগার ও লেখক

ফেসবুকে আমরা