ঢাকা মেডিকেলে হাত ধোয়ার পানি পর্যন্ত নাই

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০ ১০:৪১ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


পরশুদিন ঢাকা মেডিক্যাল গিয়েছিলাম অনেকটা নিরুপায় হয়ে। তার আগের রাত দুইটায় খুব শ্বাসকষ্ট আর শুকনা কাশি নিয়ে বাসার পাশের মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হসপিটালে যাই। ইমার্জেন্সি ডক্টর সব দেখেশুনে আর্জেন্ট করোনা টেস্টের জন্য রেফার করেছে ঢাকা মেডিক্যালে!

অসুস্থতার সূত্রপাত গত ২৫শে মার্চ....
আমি অবশ্য দুইচারদিন বিদেশে থাইক্যা জাতে উইঠ্যা গেছিলাম মানে বাঙালি জাতীর আদিম কালচার ভুলে গিয়েছিলাম! আমরা যে যেখানে সেখানে কফ থুঃথুঃ ফেলি।  রাস্তার ধারে চেইন খুইল্যা লুঙ্গি তুইল্যা চ্যানচ্যানাইয়া মুইত্যা দেই। বিড়ি সিগারেট খাইয়া মানুষজনের নাক মুখের উপর দিয়া ধুয়া ছাইড়া নিজেরে আস্তা শাহ্‌রুখ খানের বাচ্চা মনে করি ইত্যাদি খাসলতের চিত্র অনেকদিন ম্যামরির বাইরে ছিলো।

সেদিন সন্ধেবেলা বাসার নিচে গিয়েছিলাম লাজ ফার্মাতে বাচ্চার ডায়াপার আর কিছু ওষুধ কিনতে। ফার্মেসির গেটে শার্ট প্যান্ট ইন করা এক ভদ্রলোক তার পশ্চাৎদেশের সব শেকড় বাকড় ছিঁড়ে গায়ের জোরে এমন এক হাচি দিছে আমার মুখের সামনে। আশপাশের লোকজন নিজেদের কিছুটা সরিয়ে নিতে পারলেও আমি পারিনি, মাস্ক পড়া ছিলাম তবুও মাস্ক প্রায় ভিজে গেছে! জিনিসপত্র না কিনেই বাসায় ফিরে অনবরত গোসল করেছি। এরপরদিন থেকেই কাশি শুরু হয়েছে।

আমার এক ডক্টর বন্ধুকে ফোন করে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ খেয়েছি। কখনো ভালো কখনো খারাপ। পুরাপুরি কমছিলো না, আবার শ্বাসকষ্ট বাড়তেই থাকে। ইসলামি ব্যাংক হসপিটালের ডক্টরের পরামর্শে করোনা টেস্টের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল যে যাবো কোনো গাড়ি নেই। অপারগ হয়ে ভাইয়ার বাইকে করে যাই, তার আবার ক'দিন আগে এক পা ভেঙে ফেলেছে পুরাপুরি সেরে উঠেনি এখনো!

পুরা রাস্তা ফাকা পুলিশ র‍্যাব একটু পর চেক করছে তাদের নিরাপত্তা এক্টিভিটি খুব ভালো লাগছে! এক পুলিশ অফিসার কিছুতেই বাইকে যেতে দেবে না। পরে ব্যাগ খুলে পেপারস দেখালাম- ডক্টর করোনা টেস্ট সাসপেক্ট করেছে। পুলিশ তা দেখে এক লাফে আইল্যান্ডে উঠে গেছে। এত্ত দুঃখের মাঝেও খুব হাসি পেলো!

ঢাকা মেডিক্যালে প্রথমে দুজন ডক্টর দেখে বিস্তারিত শোনে বললেন, "যেহেতু দুই মাস হয়ে গেছে চায়না থেকে এসেছেন তাই ভয়ের কারণ নেই। ইনফেকটেড হলে এতো দিনে মরার হলে মরে যেতেন আর বাচার দেখেই বেচে আছেন"

তবে ফার্মেসির ঘটনা শোনে বললেন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কিনা সেটাই সন্দেহ। তবে কোভিড১৯ টেস্ট অনেক ব্যায়বহুল এবং কিট স্বল্পতাও রয়েছে (এর মধ্যে ভিআইপি পাওয়ার এপ্লাই করে টিম বাসায় নিয়ে টেস্ট করে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে)। অন্যদিকে আমাদের এইখানে প্রচুর সিরিয়াস প্যাশেন্ট আসছে, স্ট্রেচারে জায়গা হচ্ছে না। তাদের প্রায়োরিটি আগে! কিছু মেডিসিন লিখে দিচ্ছি আশা করি সেরে যাবেন।

কী আর করা, আমি যেহেতু এখনো স্ট্রেচারে শুয়ে পরিনি আর ভিআইপিও না, উনাদের আশার উপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই! দেশের এতো বড়ো একটি মেডিক্যালে দুই ভাইবোনে মিলে তন্নতন্ন খুঁজে সাবান তো দূরের কথা একটু পানিও পাইনি হাত ধোয়ার জন্য! অথচ এই সার্ভিসের জন্য অনেক মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে!  কতো টাকা লাগে একটা মেডিক্যালে সাবান পানি সরবরাহ করলে?

এক স্বাস্থ্যকর্মি কে বললাম ভাই আপনারা কি মুইত্যাও পানি খরচ করেন না? কোথাও একটু পানি নাই? বললো, না আপা আমাদের মুতার টাইমই তো নাই দেখেন না রুগীর কি ভীড়!

রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকেরা নির্লজ্জ নির্বোধের মতো শুধু বয়ান দিয়েই যাচ্ছে তাদের প্রস্তুতির কথা মিডিয়ায় জানান দিচ্ছে। আমরা কারণে অকারণে ডাক্তারদের অনেক সমালোচনাই করে থাকি অথচ এই দুর্যোগে যখন সবাই ফ্যামিলি নিয়ে বাসায় আছি তখন তারা জীবন বাজি রেখে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে! অথচ অনেক চিকিৎসকরা মেডিক্যাল মাস্ক পিপিই জরুরী ইকিউপমেন্ট পাচ্ছেনা!


  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

তাহেরা তমা

ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত।