উলামাদের আড়াল করার ফন্দি

সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯ ৯:২৭ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


এখন শুরু হয়ে গেছে আলেম সমাজ উদ্ধারের ফন্দিফিকির। পুরো ঘটনা বাদ দিয়ে এখন ফোকাস হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রদের মন্দির পাহারার ছবি। এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি আদৌ…। মাদ্রাসার ছাত্ররা ইউনিভার্সিটির ছাত্র না। এরা একজন অন্ধ রাখালের অধীনে থাকা ভেড়ার পাল। এখানে বিবেক বুদ্ধি খাটানোর কিছু নেই। এখানে ‘বড় হুজুর’ যা বলবেন সেটাই সঠিক। মন্দির পাহারা যদি মাদ্রাসার ছাত্ররা দিবে তাহলে হিন্দুদের দাওয়াত গ্রহণকে বিদাত বলবে কেনো এরা? আহমদ শফি ‘ধর্ম যারা যার উৎসব সবার’ প্রচারণার বিরোধীতা করে কী বলেছিলেন মনে নেই? পুজার দাওয়াত তো দূরের কথা পুজা হচ্ছে তার সামনে দিয়েও গেলেও ফিরে তাকানো উচিৎ নয়। হিন্দুরা সব চোর- এটা আহমদ শফী বলেনি? বিগত ২৪ ঘন্টায় কী এমন ঘটে গেছে পৃথিবীতে যে সীতাকালি মন্দির রক্ষার জন্য হাটহাজারীর মাদ্রাসার ছাত্ররা পাহারা বসাবে?

মাদ্রাসার ছাত্ররা মন্দির পাহারা দিলে প্রশ্ন চলে আসে কারা তাহলে মন্দির ভাঙ্গতে আসছিলো? ঐ যে ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ বলে রহস্যময় একটা গোষ্ঠীর কথা বলা হচ্ছে। মানে পুরো দৃষ্টিটাই আলেম ওলামাদের উপর থেকে ঘুরিয়ে নিতে এই নিউজটা ছড়ানো হয়েছে। প্রশাসন থেকেও এখন বলা হচ্ছে আলেম সমাজ নয় একটা ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চাইছিলো। অথচ ভোলার মাদ্রাসা ঘরে পুলিশ বাহিনী নিজেদের বাঁচাতে দরজা জানালা বন্ধ করে রাখলেও শত শত মাদ্রাসা ছাত্র ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা জানালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলো। সেটা সম্ভব হলে পুলিশের কেউ জ্যান্ত ফিরত না। গোটা ভোলায় সেদিন টুপি দাড়িওয়ালাদের দৈরাত্যে কম্পিত ছিলো। ঘটনা ঘটার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হাটহাজারী মাদ্রাসা বিক্ষোভ কর্মসূচীর আয়োজন করে যার শিরোনাম ছিলো ‘হিন্দু বিপ্লব চন্দ্রের সর্বোচ্চ শাস্তি’ চাই। সেই বিক্ষোভে হাটহাজারী মাদ্রাসার বাবুনাগরি বলেন, ভোলায় নবীপ্রেমি শহীদের প্রতিটি রক্তের বদলা নেয়া হবে। বাবুনাগরির এই বক্তব্যের পর পরই হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা তান্ডব চলাতে শুরু করে। থানায় আক্রমন শুরু করে এবং হাটহাজারী মাদ্রাসা লাগোয়া সীতাকালি মন্দিরে হামলা চালায়। বাবুনাগরি তো ‘হিন্দু বিপ্লব চন্দ্রের’ শাস্তির ও এর বদলা নিবেন বলেছিলেন। সেটাই বাস্তবায়নে সীতাকালি মন্দিরে হামলা চালায় হাটহাজারী ছাত্ররা। এখান দেখা যাচ্ছে মন্দির পাহারার যে ছবিটি ফেইসবুকে ঘুরছে সেটা ছিলো হাটহাজারী মাদ্রাসার মানববন্ধনের ছবি। কারণ দেখা যাচ্ছে পিছনে মন্দিরের অংশটি প্রাচীরের বাইরে যা মন্দিরের পিছনের অংশ। এই ছবি দেখিয়ে দাবী করা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্ররা মন্দির পাহারা দিয়েছে! শুনুন, ইসলামের বাইরে গিয়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা কিচ্ছু করবে না। তারা তাদের মুরব্বীদের নির্দেশ ছাড়া এক চুল নড়বে না। বিজ্ঞাপন করে দেখানো হচ্ছে এটাই হচ্ছে ‘অসাম্পদায়িক বাংলাদেশ’ যেখানে মাদ্রাসার ছাত্ররা মন্দির পাহারা দেয়। মিথ্যা দিয়ে সত্য পরিস্থিতিকে পাল্টে দেয়া যায় না। গোটা ঘটনার ইসলামিক চেহারা আড়াল করে, মাদ্রাসা ছাত্রদের দিনভর তান্ডবকে লুকিয়ে ফেলে তাদেরকে মন্দির পাহারাদার বানিয়ে ফেলা হয়েছে! আগের এক পোস্টে বলেছিলাম, আবারো বলছি, কুরআনের সুরা মায়দার ৯০ ও সুরা ইব্রাহিমের ৩৫ নং আয়াত পড়লে মূর্তি কেনা, বেচা ও পাহারা দেয়া যে হারাম সেটা জানা যায়। আর মন্দিরের ভেতর মূর্তি থাকে। সেটা পাহারা মাদ্রাসার ছাত্রদের পক্ষে ধর্মীয় কারণেই সম্ভব নয়। ঘটনা হচ্ছে বাবুনাগরি দুপুরে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বদলার হুমকি দেয়ার পর হাটহাজারীতে তান্ডব শুরু হয়ে যায়। চট্টগ্রামের হিন্দুদের উপর বড় আকারের হামলা হতে পারে সেই আশংকায় উপর মহল থেকে সম্ভবত বাবুনাগরিদের কাছে ‘দয়া প্রার্থনা’ করা হয়েছিলো। তাই সীতাকালি মন্দির হালকা ইট পাটকেলের উপর দিয়ে এ যাত্রা বেঁচে গেছে। এখানে কোনো সম্প্রীতি আবিস্কার করে তাই প্লিজ আত্মপ্রতারণার শিকার হবেন না...।

পুলিশের হাতে বিপ্লব চন্দ্রের আইডি হ্যাককারী ইমন ও শরীফ নামের দুইজন আটক হয়েছে এরাই বিপ্লবের আইডি ব্যবহার করে ইসলামের নবীকে গালাগালি করেছিলো। মাদ্রাসার ছাত্রদের মন্দির পাহারার কাহিনী বানিয়ে যারা মুসলমান ও ইসলামের মহত্ত্ব প্রচার চালাচ্ছে তারা কিন্তু এই ইমন আর শরীফ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না। বাবুনাগরিও কিন্তু বলছে না এই দুটোকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে। আজকেও মোহাম্মদপুরে মাদ্রাসার ছাত্ররা রাস্তা আটকিয়ে বিক্ষোভ করেছে ‘হিন্দুদের ইসলাম অবমানরার’ প্রতিবাদে। আকাম করলো কারা, সেই আকামে দিনভর কারা তান্ডব চালালো, পুলিশকে আটকে রেখে কারা মারধোর করলো- সেই তাদের পরিচয় এখন ‘ওরা মন্দির পাহারা দিয়েছে’!

যারা ভোলায় পুলিশকে আটকে মার্ডার করতে চেয়েছে ২৪ ঘন্টা পার হওয়ার পরও তাদের চুল কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। বাবুনাগরির উশিকানিতে চট্টগ্রামে তান্ডব চালানোর জন্য প্রশাসন হাটহাজারী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো এ্যাকশানে যায়নি। উল্টো আলেম সমাজ পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিলেও একটি ‘স্বার্থান্বেষি মহল’ পরিস্থিতির অবণতি করে ফেলে’ এরকম ভাষ্য আসা শুরু করেছে। এই ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ ব্যাকেটের মধ্যে যাতে ভবিষ্যতে হিন্দুত্ববাদী ইসকন, বিজেপি আরএসএস কানেকশন, র’ মোসাদের এজেন্টদের ঢোকানো যায় সেই রাস্তা তো খোলা রইল। আলেম সমাজকে আড়াল করে ‘জর্জ মিয়া’ ঢুকিয়ে একটা চিত্রনাট্য আশা করা যায় দুই একদিনের মধ্যেই এসে যাবে। এখন পর্যন্ত কোনো ‘সুধির সমাজ’ সরাসরি তৌহদী জনতার বিরুদ্ধে কথা বলেনি। মাদ্রাসা ছাত্রদের এত সাহস কোথা থেকে আসে সেই প্রশ্নও কোনো ‘সুধির ভাই’ তুলেননি।


  • ৬৭২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুষুপ্ত পাঠক

বাংলা অন্তর্জালে পরিচিত "সুষুপ্ত পাঠক" একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার।

ফেসবুকে আমরা