সৌদিতে নারী শ্রমিক নির্যাতনের পেছনে রয়েছে কোরানের বিশ্বাস

শুক্রবার, নভেম্বর ১, ২০১৯ ৩:৪৮ PM | বিভাগ : আলোচিত


বাংলাদেশী নারীরা যখন সৌদি মালিকদের বলে, আমার কোনো ক্ষতি করবেন না, দেশে আমার স্বামী আছে, সংসার আছে। তখন সৌদিয়ানরা বলে, তোদের সঙ্গে তোদের স্বামীর তালাক হয়ে গেছে। আমি তোকে কিনে নিয়েছি…

সৌদি মুমিন ভাইটি যা বলে সেটি ইসলামী তথা কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী শতভাগ সঠিক। অর্থ্যাৎ সৌদি আরবে বাসাবাড়ির কাজের ভিসাতে নারী শ্রমিকদের উপর যা ঘটে তার মূলে রয়েছে কোরানীয় বিশ্বাস। আমি ইবনে কাথিরের তাফসিরের স্ক্রিনশট দিলাম, পুরো তাফসিরটা পড়বেন, সেখানে লেখা আছে দাসীকে বিক্রি করলে তার তালাক হয়ে যায়। যুদ্ধবন্দিনী দাসী ছাড়াও বাজারে ক্রয়কৃত দাসীর বিষয়ে বিধান একই। দাস দাসী ইসলামী বিধানে কেবল যুদ্ধের ময়দান থেকে শত্রুদের বন্দি করেই সংগ্রহ করতে হবে তা নয়, দাসীর পেটের সন্তানও দাস-দাসী হিসেবে গণ্য। এছাড়া বাজারে দাসী ক্রয় করা বৈধ।

যাই হোক, বাংলাদেশ সরকার বা বেসরকারী এজেন্সির কাছ থেকে সৌদি এজেন্সির মাধ্যমে নারী শ্রমিকরা আসলে বিক্রি হয়ে যায়। সৌদি মালিকরা বিভিন্ন চুক্তি মেয়াদে দাসী কিনে নেন। সেই দাসী বাসাবাড়ির কাজ কর্ম করার সঙ্গে মালিক ও তার পুত্রদের দৈহিক বিনোদন মেটায়। এটা যে হালাল, চারটি স্ত্রী রাখার পর দাসীদের বিষয়ে যে কোনো লিমিটেশন নেই সেটা তাফসিরে দেখুন জ্বলজ্বল করে লেখা আছে। ইসলাম দাসী নারীদের পতিতাবৃত্তিকে কোনো অপরাধ কিংবা অনৈতিকতা বলে মনে করেনি। কুরআনে এই আয়াত বা আইন অন্য কোনো আয়াত নাযিল হয়ে বাতিলও হয়নি। তাই সৌদি আরবে কোনো গৃহমালিক দাসী কিনে এনে শোকেসে সাজিয়ে রাখবে না। দাসী ধর্ষণ করে অনুতাপেও পুড়বে না। দাসী ধর্ষণ করেই হয়ত মাগরিবের নামাজ আদায় করতে চলে যায়।

বিষয়টা সাধারণ ধর্ষক বা লম্পটের মত কোনো প্রকার বিবেকঘটিত অস্বস্তি এখানে নেই। আমরা আসলে আমাদের দেশের মেয়েদের দাসী হিসেবে বিক্রি করছি। শ্রীলংকান, ফিলিপাইন, ভারত তাদের নারী শ্রমিকদের সৌদি আরব পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু বাংলাদেশ তার ভাইদের দাসী রপ্তানি করে তৃপ্ত না রাখলে শ্রমবাজার বন্ধ করার হুমকি দিবে। শ্রমবাজার বন্ধ হলে রেমিটেন্স দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নতির গান কী করে গাইবে আপা আর ভাইয়ারা? গতরখাটা পয়সা দিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কানাডা আমেরিকার চাইতে… এরকম কৌতুকও তাহলে শোনা যাবে না। উন্নয়ের ফুল ভ্যলিউমে শীৎকারে আসমা নাজমাদের কান্না তাই হারিয়ে যাবে ঝরা পাতার শব্দের মত…।

[বি:দ্র: বাংলা তাফসিরগুলি যারা অনুবাদ করেছেন তারা একটা চালাকী করেছেন ‘দাসী বিয়ে’ কথাটা লিখে। আসল বিষয় হচ্ছে দাসীদের বিয়ে করা লাগে না। কারণ ফাঁকিটা তাফসির পড়লেই ধরতে পারবেন। সেখানে লেখা আছে চারজন স্ত্রীই একজন মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট তবে দাসীর সংখ্যা নয়। দাসীকে বিয়ে করলে তো সে স্ত্রীর মর্যাদা পাবে। তাহলে অগুণতি দাসীর সংখ্যা কিভাবে রক্ষিত হবে? ইংরেজি বা মূল আরবী তাফসিরে এই বাটপারীটা নেই।]


  • ৩১২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুষুপ্ত পাঠক

বাংলা অন্তর্জালে পরিচিত "সুষুপ্ত পাঠক" একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার।

ফেসবুকে আমরা