জন্মান্ধ পাকিস্তান

সোমবার, নভেম্বর ৫, ২০১৮ ১:২৭ PM | বিভাগ : মুক্তচিন্তা


২০০৯ সালে পাকিস্তানে তিন সন্তানের জননী খৃস্টান নারী আসিয়া বিবি (৪৭) এক গরমের দিনে খামারে কাজ করার সময় মুসলমান শ্রমিকদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে পানি খেয়েছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত মুসলমান সহকর্মীরা দাবি করেছিলো, মুসলমান না হয়ে তাদের গ্লাসে আসিয়া পানি পান করায় গ্লাসটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে।

এই অজুহাতে তারা আসিয়াকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাপ দেয়। আসিয়া তা প্রত্যাখ্যান করলে মুসলমান সহকর্মীদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

পরে মুসলমান শ্রমিকরা দাবি করে, আসিয়া বিবি ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। আসিয়া বিবি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হওয়ার কথা স্বীকার করলেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দেশটির প্রথম নারী হিসেবে ২০১০ সালে পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে আসিয়া বিবিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এমনকি পাকিস্তানেও তার পক্ষে দাঁড়ান অনেকে। তবে এদের মধ্যে অন্তত দুইজনকে তাদের অবস্থানের কারণে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। আসিয়া বিবির পক্ষে কথা বলায় পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে তারই দেহরক্ষী হত্যা করে। আর সেই দেহরক্ষীকে পাকিস্তানে বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে তেহরিক-ই-লাব্বাইক। গত ৩১ অক্টোবর আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

রায়ের পরপর বিক্ষোভ শুরু করে তেহরিক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি)। তারা করাচি ও লাহোরের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো রাস্তা অবরোধ করে। ইসলামাবাদেও একই অবস্থা। টিএলপির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আফজাল কাদরি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার ও রায় বাতিল করা বেঞ্চের অপর দুই বিচারককে হত্যার আহ্বান জানিয়েছে। তার ভাষ্য, ‘তাদের তিনজনকেই হত্যা করা উচিত। হয় নিরাপত্তা রক্ষী, না হয় গাড়ির চালক আর না হয় বাবুর্চির উচিত তাদেরকে হত্যা করা।’ মুহাম্মদ আফজাল কাদরি পাকিস্তান সরকার ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার বাজওয়াকে উৎখাতেরও আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি।

বিকৃত রুচির বিশ্বাসকে রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় দিয়ে একটি চমৎকার জাহান্নাম হয়ে গেছে পাকিস্তান। ইতিমধ্যে আসিয়া বিবির আইনজীবি সাইফুল মুলুক প্রাণ ভয়ে দেশত্যাগ করেছেন। চরম বিপদের মধ্যে থাকা আসিয়া বিবির স্বামী আশিক মাসিহ তার পরিবারের সদস্যদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডায় আবেদন করেছেন।


  • ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুব্রত তালুকদার

কবি সুব্রত তালুকদার একজন সচেতন সমাজকর্মী।

ফেসবুকে আমরা