স্মৃতিচারণ : পর্ব- ১

রবিবার, এপ্রিল ১, ২০১৮ ৬:৪২ PM | বিভাগ : ওলো সই


২০০৯ সাল। পার্টিতে তখন আমার ১ বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালে পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হই। প্রথম ১ বছর গার্মেন্টস, কৃষকদের মধ্যে কাজ করেই চলছিলো। কৃষকদের মধ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তীতে লেখা যাবে। এ লেখায় শুধুমাত্র একটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হবে। ২০০৯ সাল গ্রাম থেকে এসে আবারও গার্মেন্টসে চাকরি নেই- পার্টির সিদ্ধান্ত মোতাবেক। আন্দোলন করার ফলে গার্মেন্টস থেকে ছাটাই হই। যেহেতু শ্রমের মধ্যদিয়ে নিজের পার্টিজান মনোভাব দৃঢ় করতে হবে সেহেতু আমাকে বাসা বাড়িতে কাজে দেওয়া হয়। 

মোহাম্মদপুর পার্টির সাবেক কর্মীর শালীর বাসায় আমার কাজ। স্ত্রী-স্বামী দু’জনের সংসার। মধ্যবিত্ত পরিবার। স্বামী চাকরি করেন। স্ত্রী (পার্টির সাবেক কর্মীর শালী) প্রেগনেন্ট। ডাক্তারের পরামর্শমতে উনি বেডরেস্টে ছিলেন। আর সেজন্যই সার্বক্ষণিক একটা কাজের মেয়ে দরকার। আর যেহেতু আমারও কাজ দরকার পার্টি তাই আমাকেই নিয়োগ দেন। 

উনার স্বামী ছিলেন কিপটে প্রকৃতির মানুষ। খুব কিপটে। একটা কাঁচামরিচের হিসেবও করতেন।

যাহোক, মহিলা বিছানায় প্রস্রাব-পায়খানা করে। গোসল থেকে শুরু করে সব বিছানায়। আর এসব কাজই আমাকে করতে হয়। সকাল ছয়টা উঠতাম রাত ১ টায় ঘুমোতে যেতাম। বারান্দার ফ্লোরে। একটা তেল চটচটে বালিশ, আর একটা কাঁথা। তাতে সমস্যা নেই। শ্রমিকশ্রেণির রাজনীতি করতে আসছি এসবে কোনো সমস্যা নেই বলেই মনে করতাম। আর ঘুম যেহেতু বরাবরই আমার দখলে যখন যেখানে ইচ্ছে সেভাবেই ঘুমিয়ে পড়তে পারাটা আমার বিশাল যোগ্যতাও বটে।

উনার বেড রেস্ট নামে যে ধরনের কাজকারবার চলতো তাতে আমার কিছুটা অস্বস্তি লাগতো। এত বড় একজন মানুষের প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করা! আমার রুচি কমে যেতে থাকে। খাদ্য রুচি সমস্যা হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে চকচকে শরীর খটখটে হয়ে যাওয়া শুরু করে। তবুও কোনো দিন পার্টির কারো কাছে মোবাইল করে এসব জানাই নি- পাছে তারা যদি আমার পার্টিজান নিয়ে প্রশ্ন তুলে। আমার তো টিকে থাকতেই হবে, এই সমাজকে শ্রেণিহীন সমাজ করতেই হবে। সমাজতন্ত্র আনতেই হবে।

তারপর ছিলো মহিলাটির বাড়তি কিছু প্রেশার। এই কই গেলে বলে- এমন চিল্লানি দিতো। যাতে আশেপাশের দু’এক ফ্ল্যাট পর্যন্ত সাউন্ড যেতো। যেটা সহ্য করার মানসিকতা ছিলো না- তবুও করেছি। 

এভাবেই চলছিলো। বাসার রান্না করা, ঘর মোছা, টয়লেট পরিষ্কার করা, কাপড়চোপড় পরিষ্কার, উনার প্রশ্রাব-পায়খানা পরিষ্কার থেকে শুরু করে সব। ২০০৯ সালে আমি কিন্তু খুব বড় মানুষ ছিলাম না! পলিটিক্যালি খুব ইমম্যাচিউরড ছিলাম। তবে দৃঢ়তা ছিলো। যেটা এখন বরং কমেছে। 

হঠাৎই একদিন রাতে বাসার কর্ত্রী খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। খুব দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে পিজি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। বাচ্চাটা খুব বিপদজনক অবস্থায় ছিলো। যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের অঘটন ঘটতে পারে। এটা আমার জন্য মানসিক চাপও ছিলো। তাই বাড়তি যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু, আমি তো কাজের মেয়ে! আমার বাড়তি যত্নে উনাদের সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পাওয়াটাই স্বাভাবিক! ডাক্তারের পরামর্শমতো তাকে হসপিটালেই থাকতে হবে। আর তার একমাত্র সঙ্গী- কাজের মেয়ে (আমি)। 

পরের দিন সকাল থেকেই শুরু হলো হসপিটালের যাবতীয় কাজ। তার প্রস্রাব-পায়খানা করানো হসপিটালে বসেও আমার দায়িত্ব ছিলো। হসপিটালের আলাদা যে পরিবেশ ওটা এমনিতেই আমাকে সহ্য করছিলো না। তার উপর আবার এভাবে প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করা! আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে থাকি। তবুও হাসি মুখ। হসপিটালে বেশ খাবারেরও কষ্টও যাচ্ছিলো। হসপিটাল থেকে দুপুরে যে ভাত দেওয়া হতো। ভাতের সাথে একটু সবজি, একটা মাছের টুকরাও দেওয়া হতো। উনি সবজি আর মাছের টুকরাটা নিজের জন্য রেখে আমাকে ভাতটুকু দিতেন শুধু। সেটা হজম করার মতো শক্তি তখনও তৈরি হয় নি। 

এর মধ্যে পার্টির কর্মী আমাকে কল দিয়ে জানালো রোগীর যত্ন ঠিকমতো নিচ্ছো তো? হু! বলে কান্না থামালাম। আহা, রোগী! উনি তো রোগী! আর আমি রোগীর কাজের মেয়ে। উনাকে আপনি রোগী দেখলেও উনি আপনার কর্মীকে কাজের মেয়ে হিসেবেই ভাবছে- মনে মনে বিড়বিড় করলাম। 

হসপিটাল মানে কাজের লোক যারা থাকেন অর্থাৎ হসপিটালের কাজের লোক। তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা। তাদেরকে টাকা দিয়ে হাতে রাখা। কিন্তু উনাদের কাজের মানুষ যেহেতু আছে সেহেতু হসপিটালের কাজের মানুষের দরকার কী! কিন্তু, হসপিটালের কাজের মানুষ এটা মানতে পারে না- তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত। তাদের ক্ষিপ্তটার কারণ আজ বুঝি! তারা মনে করেছে তাদের টাকা আমি হাতিয়ে নিচ্ছি। হাহাহাহা। 

রাতে হসপিটালে আমার থাকার জায়গা ছিলো না। অর্থাৎ আমার জন্য রোগীর পক্ষ থেকে কোনো বিছানাপত্রের ব্যবস্থা করা হয়নি না। আমি বুয়া খালাদের সাথে ঘুমাতাম, ফ্লোরে একটা মাদুর পেতে। উনাদের বালিশই শেয়ার করতাম। এভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পর একদিন উনারা কি কারণে আমার রোগীর কাছে পঞ্চাশটা টাকা চান। উনি দিতে নারাজ হন। সেদিনের রাতে ঘটে গেলো বিস্ময়কর ঘটনা। আমি শুতে গেলেই উনারা আমাকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিলো। এখন উপায়! আমি ঘুমাবো কই! বাহিরে বসে রইলাম। নার্সদের প্রশ্ন এই তোমার রোগী কে? তোমার ঘুমানোর ব্যবস্থা করে নি? আমি কোনো উত্তর না দিয়ে বসেই রইলাম। সেই রাত বাহিরে ফ্লোরে বসে, হয়তো শুইয়েও পড়েছিলাম। 

পরের দিন উনি আমাকে শাসালেন। হ্যাঁ, তুমি বুয়াদের সাথে কী খারাপ ব্যবহার করেছো? আমি বললাম না তো! পরের দিনই তার বাচ্চা হয়। সুস্থই হয়। এটা আমার জন্য খুশির খবর ছিলো। উনার আত্মীয়-স্বজনে ভরে যায়। আহা, কত রঙবেরঙের সুহৃদ। দেখতে থাকি। আমার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কারো জল এগিয়ে দেওয়া, কারো টয়লেট দেখিয়ে দেওয়া। এভাবেই চলছিলো আমার বুয়ার জীবন। 

আমার পার্টি থেকে হসপিটালে আমাকে দেখতে এসে আমার করুণ চেহারা দেখে কিছুটা আঁচ করতে পেরে প্রশ্ন করেন- ‘তোমার হয়েছে কী?’ সেদিন নিজেকে ধরে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। আমার সাথে কাঁদছিলো আকাশ, বাতাস, পুরো পৃথিবী। কিছুই বলতে পারছিলাম না। কিছুই বলারও ছিলো না। যেখানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য, অন্যায়কে অন্যায় বলার জন্য বাবা-মা সবাইকে ছেড়ে চলে আসলাম- সেখানে বড় অন্যায়ের স্বীকার হচ্ছি নিজেই! ভাবতেই গা শিউরে উঠে। উনি আমার গৃহকর্তা, গৃহকর্ত্রীকে জানিয়ে যান- আমার জন্য একটা বালিশ এবং একটা চাদরের ব্যবস্থা করা হোক।

 
হ্যাঁ, তা করেও বটে। কিন্তু আমার কাজ তো বেড়েই যাচ্ছে। এখন বাচ্চার হাগামুতাও পরিষ্কার করতে হয় আমাকে। বাচ্চার মা কিছুটা সুস্থ হলেও পুরোনো অভ্যাস থেকে যায়। উনি চায় যতদিন পারা যায় মেয়েটিকে দিয়ে প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করে নেই। বাচ্চা হওয়ার পনের দিন পর ছুটি হয়ে যায়। মোটমাট দেড় মাস হসপিটালে থাকতে হয়েছিলো। দেড় মাসের করুণতা এ লেখায় প্রকাশ হয় নি। ওত আবেগ দিতেও চাচ্ছি না। সমাজে কত কাজের মেয়েরই তো এই ব্যবস্থা! কতজন পারে প্রকাশ করতে। সমাজের সবস্তরেই তো এই বৈষম্য। হসপিটালের ডাক্তার, নার্সদের সাথে আমার এই দেড়মাসে সখ্যতাও গড়ে উঠেছিলো। আমি আমার পার্টির মুখপত্র ‘আন্দোলন’ পত্রিকাও দিয়েছিলাম দু’জন ডাক্তার এবং তিনজন নার্সকে। তাদেরকে বলেছিলাম এই পত্রিকাটা ভালো। এরা মানুষের কথা বলে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

বাসায় আসার পর আমার কাজ বেড়ে যায় তিনগুণ। বাসার সমস্ত কাজ। দুই মা বেটির প্রস্রাব, পায়খানা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ। আবার তাদের মেহমানদের আনাগোনায় বেড়ে যায়। এই ছ’মাসে যাদের মুখ একবারও দেখি নি তারা এখন আত্মার আত্মীয়। তাদের সে কী অনুভূতি! বাচ্চার মা পুরো সুস্থ। হাঁটতে পারে। ঝগড়া করতে পারে। স্বামীকে দু’ধমকে পুরো ফ্ল্যাট কাঁপিয়ে তুলতে পারে। সবই পারে। কিন্তু যখন তার প্রশ্রাবের চাপ আসে, টয়লেট আসে তখন গিয়ে বিছানায় শোয়। অর্থাৎ টয়লেট, প্রশাব পরিষ্কার আমারই করতে হবে।

দুই মা-বেটির প্রশাব-পায়খানা পরিষ্কার করতে করতে আমি আর পারি না। বাধ্য হয়ে পার্টির একজনকে খবর পাঠাই। উনি এসে আমাকে বলেন তোমাকে নিয়ে যাবো। আমি ভয়েই ছিলাম। হয়তো, আমি আমার পার্টিজানের পরিচয় দিতে পারলাম না। খুব ভয় কাজ করছিলো মনের ভিতর। 

হ্যাঁ, পার্টি থেকে সিদ্ধান্ত হয় আমাকে নিয়ে যাওয়ার। কয়েকদিন পরই পার্টি আমাকে নিয়ে যায়। যেদিন আমাকে নিয়ে যাবে বলে সেদিন দেখি উনার কি মায়াকান্না! আহা, মেয়েটিকে কত ভালোবাসতাম বলে- ন্যাকামো শুরু করে। সেদিন আর আমার সহ্য হয় না। আমি আমার জমানো কথাগুলো সব শুনিয়ে আসছিলাম। চিৎকার করে বলেছিলাম- তোদের বিচার হবে, তোদের বিচার করবে জনগণ। এই ধরিত্রীতে তোদের মতো শোষকচরিত্রের মানুষগুলোর বিচার হবেই, হতেই হবে।

তারপর শুরু হলো আবার নতুন জীবন। সে প্রসঙ্গ আজ থাক। তবে, যে কথা বলে এই ঘটনার শেষ টানতে চাচ্ছি তা হলো এই কথাগুলো কেনো বললাম! লাভ কী! কোনো লাভ নেই। আমাকে কিছু মানুষ খুব অপমান করার চেষ্টা করেন- হরহামেশাই বলে দেন- ‘কোনো পার্টি না করে, পার্টির কী বুঝবেন? লাফান ক্যানো?’ হ্যাঁ তাদেরকে বলতে চাই পার্টি করেছি। সবটুকুই দিয়েই করেছি। শোঅফ করার জন্য পার্টি করি নি। যেকোনো সময় গুলি খেয়ে মরতে পারতাম, যেকোনো সময় ক্রসফায়ার হতে পারতো জেনেও পার্টি করেছি। পার্টি অফিস টু প্লেসক্লাব, শাহবাগ দৌড়ানোর মতো পার্টি করি নি। অল্পদিনের মধ্যেই যে কাজ করেছি তা আপনারা অনেকেই পুরো জীবনেও করতে পারেন নি, পারবেনও না। 

বামপন্থী রাজনীতিকে ভালোবাসি বলেই সমালোচনা করি। যদি ভালোই না বাসতাম তবে এসব সমালোচনার করার মানে কী? আপনারা/তোমরা/তোরা সমালোচনা করেন আবডালে, আড়ালে আর আমি সম্মুখে এটাই তফাৎ। এটাই পার্থক্য।

আর এখন কোনো পার্টির রেজিস্ট্রার্ড মেম্বার নই বলে পার্টি/রাজনীতি কিছু বুঝি না এসব বালমার্কা কথা বন্ধ করুন। বহু রেজিস্ট্রার্ডকে চেনা আছে একইসাথে বহু রেজিস্ট্রার্ডবিহীনকেও চেনা আছে- তারা যেকোনো সময়, জীবন দিতে রাজি। যেকোনো সময় মানুষের বিপদে দৌড়াতে রাজি। আর আপনারা রেজিস্ট্রার্ড হয়ে, ধর্ষণ হয়ে মরে গেলেও পনের দিন লাগে সিদ্ধান্ত নিতে রাস্তায় দাঁড়াবেন কি না? রাস্তায় দাঁড়ালে আপনাদের সংগঠন লাভবান হবে কীনা? দু’জন সমর্থক বাড়বে কিনা? গাঁজাখুরি চিন্তা ভাবনা! একজন মানুষ মরে গেলেও উনার জানাযায় যাবার আগে আপনাদের দশবার মিটিং করতে হয়। 

আমি পার্টি করেছি। ভবিষ্যতে আবারও করতে পারি। আর যতদিন না করছি ততদিন আমার সমালোচনা চলবে। আপনারা পারলে যুক্তি দিয়ে খণ্ডাবেন, নচেৎ বসে বসে এসির বাতাস খাবেন। কিন্তু আমাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করবেন না, আমাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। লাভ নেই। চিন্তার শক্তিকে কেউ থামিয়ে দিতে পারে না। আর যাতে থামিয়ে দিতে না পারেন তাই আপনাদের কামলা এত সহজেই হচ্ছি না। 
শুভ কামনা...


  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

লাবণী মণ্ডল

নারীবাদী লেখিকা।

ফেসবুকে আমরা