স্বামীকে কব্জা করার উপায়......

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ ৮:০৬ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


স্বামীকে কবজা করার উপায়। এই নামে একখান বাংলা বই আছে। যেইটা এই মুহূর্তে আমার প্রোফাইল পিক। যিনি ছবিটা তুলেছেন তিনি বিরাট, গভীর বোধ সম্পন্ন বলতেই হয়। ছবিটা আমার কাছে খুবই সিম্বলিক লেগেছে। বইটার উপর কিছু চুরি, সাজগোজ করার জন্য লিপস্টিক এবং পাশেই একটা মানিব্যাগ। মানিব্যাগ টাকে আমার কাছে মনে হয়েছে কব্জা করার সিম্বল। মানে টাকা যার, ক্ষমতা তার।

জামাইয়ের টাকার উপর পুরোপুরি দখল মানে মোটামুটি ধরে নেয়া যায় জামাই বাবাজির উপর দখল। বইটার শিরোনাম নিয়ে আমরা যতই হাসি না কেনো বিশ্বজুড়ে এই বিষয়টার যে বিরাট বড় চাহিদা আছে সেইটা গুগলে যেয়ে সার্চ দিলেই বুঝবেন। হাউ টু কন্ট্রোল ইয়োর হাজবেন্ড লিখে সার্চ দিয়ে ৭৩ লক্ষ বিশ হাজার রেজাল্ট পেয়েছি। তার মানে বিশ্বজুড়ে এর চাহিদা অনস্বীকার্য। টেন ওয়েজ টু কন্ট্রোল ইয়োর হাজবেন্ড, কন্ট্রোল ইয়োর হাজবেন্ড ইন সেভেন ডেইজ ...অতঃপর অতঃপর চলছেই।

ইউটিউবে ভারত তো রীতিমত বটিকা বিক্রি করছে এই জামাই বস করার। কাজেই যতই হাসুন না কেনো নারী কুল, ইহা বিষয়তো বটেই। এখন আমার প্রশ্ন হলো এই যে, বস করা বা নিয়ন্ত্রণ নেয়া এইটা আমরা আসলে কেনো চাই? উভয়েই হয় নারী নয় পুরুষ একজন আরেকজনের উপর নিশ্ছিদ্র নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দাম্পত্য সম্পর্ক পূণর্তা পায় এইটা অন্তত দক্ষিন এশিয়ার আমরা মনে করি না।

দাম্পত্য সম্পর্ক যে ডেমোক্রেটিক হতে পারে সেই ধারনাই আমাদের নেই। আমাদের বিয়েগুলো শুরুই হয় একটা অসম অবস্থান থেকে। অসাধারন বিয়ে না, সাধারন বিয়েগুলোর বৈশিষ্ট্য দেখেন -ছেলে বয়সে বড় হবে মেয়ে বয়সে ছোট হবে, ছেলে ভালো মাইনে পাবে মেয়ে কোনো রকম একটা কাজ করবে অথবা বেকার হলেও সমস্যা নাই, ছেলে লম্বা হবে, মেয়ে খাটো হবে, সাধারনভাবেই মেয়েগুলোর জানাশোনা স্বামীর চেয়ে কম হবে ইত্যাদি ইত্যাদি

বিয়ের শুরুতেই আমরা নিশ্চিত হয়ে নেই যেন পুরুষটি নারীর চেয়ে সব দিক থেকে আগানো থাকে, শুরুতেই আমরা নিশ্চিত করে নেই যেন স্ত্রী স্বামীর চেয়ে শ্রেণি বিবেচনায় নীচে অবস্থান করে। কেনো? সকল দিক থেকে নীচে অবস্থান করা মানুষের নিয়ন্ত্রণ অটোমেটিক্যালি উপরস্থ মানুষের হাতে চলে যায়। কাজেই স্ত্রী, স্বামীর সাথে যে বারগেইন পয়েন্টে যাবে তার জন্য কিন্তু আমরা কোনো ক্যাপিটালই একটা মেয়ের হাতে রাখি না। শুধু একটা বিষয়ে মেয়েদের ওয়াক ওভার দেয়া আছে, যে যত আগাবে তার তত ডিমান্ড। সেইটা হচ্ছে নারীর সৌন্দর্য।

ছোট বেলা থেকেই অবচেতন ভাবে আমার একমাত্র ক্যাপিটাল হচ্ছে আমার দৈহিক সৌন্দর্য যেইটা দিয়ে আমি একটা ছেলের সাথে বারগেইন পয়েন্টে যেতে পারি। এইখানে পুরুষ অথবা সমাজ নারীকে একবারে ওয়াক ওভার দিয়ে রেখেছে তুমি যদি সুন্দর হও তাইলেই হবে আর কিছু কিন্তু আমার দরকার নাই। দুঃখ জনক হলেও সত্যি আমাদের তাবত দরকার পুরষের চাহিদা অনুযায়ীই সাজানো আছে।


  • ৩৬৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

দিলশানা পারুল

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে পড়াশোনার পাশাপাশি লম্বা সময় ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে যুক্ত ছিলেন দিলশানা পারুল। দশ বছর বামপন্থি রাজনীতির সাথে ‍যুক্ত ছিলেন, তারপর দশ বছর এনজিওতে শিক্ষা গবেষনা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় এডুকেশন সেক্টরে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি অনলাইনে লিখালিখি করেন।

ফেসবুকে আমরা