সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন কিংবা না-থাকুন!

বুধবার, জুলাই ১১, ২০১৮ ৩:০৭ AM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


যে কোনো সম্পর্কই সুন্দর এবং পবিত্র। যদি তা সততা, বিশ্বাস আর আন্তরিকতার ওপর নির্ভরশীল হয়! হতে পারে সেটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক; প্রেমের সম্পর্ক; কিংবা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। সম্পর্ক হওয়ার জন্য কোনো দিনক্ষণ বা সময় নির্ণয় সম্ভব নয়। সম্পর্ক অনেক সময় অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত, অনাহূতভাবে হয়ে যায়। ধীরে ধীরে নানারকম বাঁক ঘুরে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে যায় মানুষ। মানুষ যে সম্পর্কের মধ্যেই জড়াক না কেনো; সেই সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করা উভয় পক্ষের কাছেই গুরুদায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বাস্তবে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার করুণ কাহিনীর ঘনঘটাই দেখি বেশি।

সম্পর্কের মধ্যে যখন ভুল বোঝাবুঝির কারণ ঘটতে থাকে; তখন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ভুলের অবসান ঘটিয়ে ফেলা উচিত। ভুল বোঝার কারণ প্রথমত একপক্ষ থেকে শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে দু’পক্ষের মধ্যে সেই ভুলের ডালপালা বিস্তারলাভ করতে থাকে। প্রথমপক্ষ যখন ভুল করে; তখন ভুল স্বীকার করে নেওয়াই উত্তম। কিংবা ভুল বুঝে নিয়ে -ভুল ভাঙিয়ে দেওয়া শ্রেয়। অন্যথায় সম্পর্কে ফাটল ধরতে বাধ্য। আর যদি কোনো ভ্রূক্ষেপ না করে -এক পক্ষ আনাড়ি টাইপের আচরণ করে যায়; তখন বুঝে নিতে হবে -এই সম্পর্কের প্রতি সে বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে। কিংবা অন্য কোনো নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে! এছাড়া অন্যকোনো কারণও থাকতে পারে! সে-যাইহোক! একপক্ষ সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে; অন্যপক্ষ ধীরেধীরে নীরব ভূমিকায় চলে যাবে এটাই স্বাভাবিক!

তবে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে বা সমাপ্তি টানতে হলে -যে কোনো একপক্ষকে সরাসরি মুখোমুখি বসে ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া উচিত।  তা না হলে  অন্যপক্ষ সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকবে! তাছাড়া বলে-কয়ে বিদায় না নিয়ে গোপনে আড়ে-আবডালে যদি একপক্ষ এড়িয়ে যায় বা অবহেলা করে কিংবা প্রতারণার আশ্রয় নেয়; তাহলে বলবো-- এটা একটি অনৈতিক, অমানবিক প্রচেষ্টা।  মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে গেলে, যে কোনো বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। এতে করে কেউ দূরে সরে গেলেও; ভুলবোঝার অবকাশ থাকবে না! এমন কি একের প্রতি অন্যের শ্রদ্ধা, মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ থাকবে!

বেশিরভাগ নারী পুরুষ সম্পর্ক শেষ করার দায় নিতে চায় না। এমনকি বলে-কয়েও এর সমাপ্তি টানে না। এক ধরণের অবহেলা, অপমান আর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যায়। এই কাজটা যে কতবড় অন্যায়, অনৈতিক, অমানবিক এটা বোধহয় অনেকেই বোঝেন না; কিংবা উপলব্ধি করেন না!

একবার যদি সম্পর্ক যখন সুন্দর ছিলো; মধুময় ছিলো; সেসব কথা মনে করেই কিন্তু সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে সম্পর্কের ইতিটানা যায়।  অথচ অনেকেই এই কাজটা না করে, কেমন যেন এড়িয়ে যান; নিজেকে গুটিয়ে নেন। এতে অপরপক্ষ যে কতটা ভেঙে পড়তে পারে; বা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হতে পারে; তা মোটেও বোঝেন না; বা আমলে আনেন না। আমি আবারও বলছি, বিষয়টা শুধু অন্যায়ই না;  মহাঅন্যায়! একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের চরম অপমান। কাউকে দেওয়া এই কষ্ট একসময় অভিশাপ হয়ে কষ্টদাতার বুকে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে; আসেই! ইতিহাস তাই বলে! কষ্ট দেওয়ার সময় কোনো কষ্টদাতাই এই ব্যাপারটি ভাবেন না; বা মাথায় রাখেন না!

পশ্চিমা দেশে এই বোধটা বেশ সচল। কেউ সম্পর্কের ইতি টানতে চাইলে; বলে-কয়ে বুঝিয়ে সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটান। কিংবা যেকোনো গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু সমাধানের পথ খুঁজে বের করেন। কাউকে হেয় করা, অপমান করা বা ছোট করার অবকাশ নেই। সবাই বোঝাপড়ার একটা স্তর থেকে একে অপরকে বুঝে নেন। এটা হলো মানবিকতা আর মনুষ্যত্বের প্রতি পরম শ্রদ্ধা প্রদর্শন। আমি এমন অনেককেই দেখেছি -যারা আমাকে এসে বলেছেন, "আমাদের ব্রেক আপ হয়ে গেছে!" আমি জিজ্ঞেস করি, কীভাবে? তখন সে বললো, "গতকাল আমাকে ডিনারের অফার করে বলেছে!" বিষয়টা সহজ না, তবে সুন্দর। মেয়েটা আবার ধীরে ধীরে নতুন করে জেগে ওঠে। 

পৃথিবীটা সুন্দর এবং বিশাল। শুধু একজনের জন্য জীবন ব্যর্থ হবে কেনো? এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন৷ যে চলে যেতে চায়; তাকে চলে যেতে দেওয়াই ভালো। সম্পর্ক থাকুক আর নাইবা থাকুক; অন্তত মানুষ হয়ে যেন একে অপরের পাশে থাকি। মানুষ মানুষের জন্য। বলা যায় না কখন কোথায় কে কীভাবে কাছে আসবে! তাই সম্পর্ক থাকুক আর নাই থাকুক; অন্তত মনুষত্বটুকু অটুট থাকুক! থাকুক একের প্রতি অপরের শ্রদ্ধা!


  • ৩৮০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা