গণমাধ্যমেও চাই নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন

রবিবার, অক্টোবর ১, ২০১৭ ৪:২২ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যম। এ দুটি শব্দের সাথে আমরা সকলেই ভালোভাবেই পরিচিত। পাশাপাশি নারীর অধিকার বা পুরুষের সাথে নারীর সমঅধিকারের বিষয়ও দেশের সর্বস্তরের মানুষ এখন সোচ্ছার বা অবগত। নারী আন্দোলকারী ব্যক্তি, সংস্থা বা সরকার এমনকি এনজিও কর্মীরা নারীর সমঅধিকার নিয়ে কাজ করছে। এখন প্রতিটি স্তরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকতায় নারীদের অংশগ্রহণ থাকলেও ইতিপুর্বে গণমাধ্যমে নারীর সমধিকারের বিষয় তেমন সোচ্ছার হতে দেখিনি।

একবিংশ শতাব্দীতে সাংবাদিকতা আকর্ষণীয় একটি পেশা হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে। তথ্য প্রযুক্তি আর প্রতিযোগিতার এই যুগে গণমাধ্যমগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সবার আগে সংবাদ পৌঁছে দেয়া। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো এই কাজটা বেশ সফলতার সঙ্গেই করছে। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। আর এই সফলতার পিছনে পুরুষের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জের ভাগিদার হচ্ছেন নারীরাও। নারীদের বিশাল অবদান থাকা সত্বেও গণমাধ্যমে তাদের তেমন অধিকার বা ক্ষমতায়ন দেখা যায় না। তবে একটি কথা না বললেই নয়- সাংবাদিক, এখানে নারী-পুরুষ ব্যবধান হওয়া উচিত কি?

এখন প্রতিটি স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বা নারী নেতৃত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও আছেন একজন নারী, একাধিক প্রধানমন্ত্রীও নারী, দেশ স্বাধীনের পর সম্প্রতি প্রথম নারী নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, এমপি, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদ অলঙ্কৃত করছেন নারীরা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে নারীর অগ্রগতি বা উন্নয়ন হয়েছে ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। এতো কিছুর পরেও নারীর উন্নয়ন বা নেতৃত্ব হলেও ক্ষমতায়ন বাড়েনি। তেমনি গণমাধ্যমে নারী সাংবাদিকতার অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও নেতৃত্ব বা ক্ষমতায়ন বাড়েনি। নেতৃত্বে দেখা যায় মাত্র ১ থেকে ২টি পত্রিকা, টিভি সম্পাদনা বা পরিচালনায় রয়েছেন নারী। সে হিসেবে এখনো গণমাধ্যমে সমান অংশে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়েনি। এক্ষেত্রে নারীদেরও এগিয়ে আসা উচিত।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ নারী কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি নীতিমালার পাশাপাশি প্রতিটি পত্রিকা অফিসের নিজস্ব নীতিমালা থাকতে হবে। প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। এ বিষয়ে প্রতিটি হাউসে তদারকির মাধ্যমে খোঁজখবর নিতে হবে।’(সূত্রঃদৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন,৫ মার্চ ১৬)। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের বিষয়ে অনেক কাজ করছি। ইতোমধ্যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ রয়েছে। সেখানে প্রচুর মেয়েরা লেখাপড়া করছে। সরকারিভাবেও নারী-পুরুষ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নারী ও পুরুষ সাংবাদিকদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে হবে। আর তা দূর করতে হলে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে সাংবাদিকদেরই।’ (সূত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম,৫ মার্চ ১৬)।

আমরা শুধু মুখে খই ফুটিয়ে বলছি- নারীর অধিকার, নারীর সমঅধিকার ইত্যাদি। কিন্তু এখনো দেখা গেছে কর্মস্থল থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষ্যম্য। গণমাধ্যম বা সাংবাদিককে বলা হয় চতুর্থ রাষ্ট্র কিংবা জাতির আয়না। যারা জাতির নিয়ম-অনিয়ম সমস্যা-সম্ভাবনা জাতির কাছে তুলে ধরেন। সেই সাংবাদিকরাই সব সময় থাকেন অবহেলা আর বৈষম্যের পাত্র হিসেবে। আর নারীর অবস্থানতো বলার অপেক্ষায়ই রাখে না। তারপরেও মন্দের ভালো বলতেই হবে। নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়ছে, নারীদের প্রতি বৈষম্যও কমছে, তেমনি নারীদের প্রতি সম্মানও বাড়ছে। সবশেষ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিচারকার্যের শুরুতে আটজনকে মামলার শুনানিতে বিশেষ সুযোগ দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই আটজন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীই ছিলেন নারী। সংসদে ১৪তম অধিবেশনেও নারী এমপিদের দিয়ে শুরু করেন স্পিকার। আরও একটি সুসংবাদ হলো ‘নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ষ্ঠ বলে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন।

পরিশেষে বলতে চাই- সব মিলিয়ে নারী উন্নয়নে জয়জয়কার। নারী এখন পিছিয়ে নেই। নারীরা দেখিয়ে দিচ্ছে তারা পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুতেই এগিয়ে থাকছে। নারী সর্বক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। সবশেষে নারীরা উড়ালেন বিশেষ বিমান। এমনিভাবে সাংবাদিকতায় হোক নারীদের সমান অংশে দখল। যেখানে থাকবেনা কোন বৈষম্য। গণমাধ্যমে সম্পাদক বা বার্তা প্রধানেও সমান অংশে পদচারণা থাকতে হবে। এক-তৃতীয়াংশ নয়, থাকতে হবে ১০০-১০০ নারী কর্মীর অংশগ্রহণ বা প্রতিনিধিত্ব। গণমাধ্যমেও চাই নারী সমঅধিকার।


  • ৮৪৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শফিকুল ইসলাম খোকন

সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ে গবেষক

ফেসবুকে আমরা