কেনো গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না

বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯ ১১:৫০ PM | বিভাগ : আলোচিত


এক মেয়ে ফেবুতে জামা এবং শাড়ী বিক্রির লাইভ করছেন। শিরোনামে লেখা আছে, শুধু মেয়েদের জন্যে। এক পুরুষ ঐ লাইভে গিয়ে গালি দিয়ে এলেন 'কি খান'। শব্দ দু'টি উল্টে নিলেই বোঝা যাবে গালির মাধুর্য্য।

মেয়েটি তাঁর কাজ করছেন আর একজন পরিণত যুবক নিজের কাজ বাদ দিয়ে বাঁধা প্রদান করতে উঠে পড়ে লেগেছেন, তার না আছে নারীর প্রতি কোনো সন্মানবোধ, না আছে কাজের প্রতি কদর। দু'টো কোয়ালিটিই একটি দেশের উন্নয়ণের পরিপন্থী।

আজকাল অনেককেই বলতে শুনি নারীকে সন্মান পেতে হলে প্রথমে তাকে আগে মানুষ ভেবে নিয়ে তার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে, তাই তাকে আর নারী ভাবা যাবে না; নারী কি কোনো অসন্মানজনক শব্দ? নাকি নারী বললে একজন নারী অপমানে মাটির সাথে মিশে যান?

পুরুষ বলে যদি পুরুষ লিঙ্গকে বোঝানো হয়, এতে যদি তার কোনো অসন্মানবোধ না হয়, প্রাপ্তিতে যদি কোনো ঘাটতি না ঘটে তাহলে নারী শব্দেওতো নারীর কোন অপমান নেই এবং তার প্রাপ্তিতেও কোন অসমতা থাকা উচিত নয়। পুরুষ শব্দ যেমন পুংলিঙ্গ নির্দেশক তেমনি নারী শব্দটিও স্ত্রীবাচক শব্দ প্রকাশক, অসন্মানজনক কিছু নয়। তেমনি তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেও ঐ একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ নারী, পুরুষ বা তৃতীয় লিঙ্গ সবাই-ই মানুষ শ্রেনীরই তথাপি তাদের লৈঙ্গিক ভিন্নতা আছে, কিন্তু এই লৈঙ্গিক ভিন্নতা কোন প্রকার বৈষম্যকেই জাষ্টিফাই করে না। তাহলে একজন নারী কী তার জীবন-যাপন নিজের মত করে করতে পারছে? তার পুরুষের সমপর্যায়ের নাগরিক অধিকার কি নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্র? সম্পওি বন্টনে কি সমতা আনা হয়েছে?

সম্প্রতি গেঞ্জিতে 'গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না' বার্তা, বাসে এক মেয়ের কাঁধে একজন বৃদ্ধ লোকের পুংলিঙ্গ ঠেকিয়ে চলাচল এবং পরবর্তীতে দেশীয় কিছু পুরুষের নানাবিধ রিএ্যাকশন কী দেশে নারীর জীবন, চলাচল, এবং অধিকার কতটা বাঁধাগ্রস্থ তারই ভয়াবহ রূপ প্রকাশক নয়?

হাটে-ঘাটে, পথে নারীর গায়ে অহরহ লিঙ্গ ঠেকিয়ে পুরুষ চলাচল করলেও নারীর কেন টু শব্দটিও করার জো নেই, নিজের বস্ত্রেও সে যেনো কিছু না লেখে, লোকে যেনো জানতে না পারে তার প্রতি এই অত্যাচারের কাহিনী। অন্যথায় নারীর চরিত্রে লেপন করা হয় নানাবিধ কালিমা। এমন কী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পতিতা বিশেষণেও বিশেষায়িত করা হয় । পতিতার গায়েও কী যখন তখন লিঙ্গ ঠেকিয়ে চলাচল সাজে?

দৈনন্দিন জীবন যাপনে নারী কী পোষাক পরছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কখন যাচ্ছেন, কীসে যাচ্ছেন, কেনো যাচ্ছেন, কার সাথে যাচ্ছেন, নারী কী বলবেন কী বলবেন না, কাকে ভালোবাসবেন, তার প্রেমিক থাকতে পারবে কী পারবে না ইত্যাদি সবদিক বিবেচনা করে কতিপয় পুরুষ সার্টিফিকেট দেবেন নারীর জীবনযাপন এবং তার চলাচলকে জাষ্টিফাই করা চলে কিনা, আর নারী সেই সার্টিফিকেট নিয়ে তার জীবন যাপন করবেন। যেনো তার ঠেকা পড়েছে নিজের স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে জড় বস্তুতে পরিণত হতে। নারী কি তার স্বাধীনতাকে বন্ধক রেখেছে? নাকি তার হাত-পা-মাথা নেই? যেই নারীর গর্ভ ছাড়া আজও পুরুষের আরেকটি জন্মের উপায় নির্ধারণ করা যায়নি তারাই কিনা নারীকে ক্ষণে ক্ষণে নিকৃষ্ট ঘোষণা দেন, তার অধিকার হরণ করেন, কন্ট্রোলের পায়তারা কষেন। আবার সেকথা বলারও উপায় নেই, বললেই তেলেবেগুনে পুড়ে যায় তাদের মন। নারীর তুলনায় পুরুষ যদি উন্নত হয়ই সে কেনো নারীর দ্বিগুণ সম্পওি ভোগ করে। যদিও দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই নাগরিক অধিকার সমান। নারীর গা ঘেঁষে কোন পুরুষ দাঁড়ালে অথবা লিঙ্গ দিয়ে যত্রতত্র ঘষাঘষি করলে নারী সেটা ভিডিও করবে, গেঞ্জিতে লিখবে, চেঁচামেচি করবে, অথবা আদালতে দৌঁড়াবে--যার যেমন করে প্রতিবাদ করতে মন চায় ঠিক তেমন করেই করবে।

কেউ প্রতিবাদ না করলেও সই, কে জানে হয়তো তার ব্রেন ক্ষতিগ্রস্থ, মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি, অথবা এখনও জীবনবোধেই পরিপক্কতা আসেনি। তবে যতোদিন নারী চুপচাপ থেকে অত্যাচার সয়ে যাবে ততোদিনই পুরুষের অপকর্ম বাড়তে থাকে। নারীর চুপচাপ সয়ে নেয়াই নারীর এ্যাবিউজের মূল কারণ।

প্রশ্ন উঠেছে, নারীর টি-শার্টে 'গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না' লেখায় লক্ষ লক্ষ পুরুষের দৃষ্টি গিয়ে ঠেকেছে নারীর বুকে, অতএব...! নারীর বুকের দিকে তাকানো দেশীয় প্রচলিত আইনে কী কোন অপরাধ? অথবা এতে কী নারীর স্তনের কোন ক্ষতিবৃদ্ধি ঘটেছে? স্তন ক্যান্সারের কী ঝুঁকি বাড়ে এতে? নাকি পুরুষ কোন দিকে তাকালো সেই নিয়ে নারী গবেষণা কাজে লিপ্ত রয়েছেন?

পুরুষকে কী কখনও তার চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে সতর্ক করা হয় যে নারী তার দিকে তাকালো-- কোথায়, কখন, কত ডিগ্রীতে? কোন দিকে? নাকি নারীর চোখ নেই?

নারীর বক্ষদেশ এবং নিতম্বকে পুঁজি করে নারীকে সর্বক্ষেত্রে কন্ট্রোল এবং বঞ্চিত করার অপকৌশল নয়তো এটি?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে নারীর কী কোন পার্সোনাল স্পেসের দরকার নেই? অথবা গেঞ্জি পরিহিতা কোনো নারী কী তার পার্সোনাল স্পেসের দাবী তুলতে পারবেন না?

অবশ্যই পারবেন। মানুষ তার সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে, উপর-নীচে সবদিকে যে দূরুত্ব রেখে অপরের সাথে কথাবার্তা বা ডিলিংস করতে কমফোর্ট ফিল করে সেটা তার পার্সোনাল স্পেস। সাইকোলজিক্যালি প্রায় প্রতিটি মানুষেরই এমন একটা নিজস্ব জায়গা থাকে তার স্ব স্ব চাহিদা মোতাবেক। চারপাশের এই শূন্য জায়গাটি তার সেফর্টি নির্দেশক এবং যেখানেই সে যায় এই জায়গাটি তার সাথে সর্বদা চলমান, যদিও মানুষে মানুষে পার্সোনাল স্পেসের ভিন্নতা থাকে, বেশী কম হয়। এমন কী কালচার, ধর্ম, লিঙ্গ, এবং দেশ ভেদেও এটি ভিন্ন সাইজের হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই স্পেসটি কম হলেও অধিকাংশেরই একটি কমফোর্টজোনের দরকার হয়।

এই পার্সোনাল স্পেসে অনাকাঙ্ক্ষিত কারও প্রবেশ ঘটলেই মানুষের শান্তি বিনষ্ট হয়, এ্যাংজাইটি শুরু হয়ে যায়, মূলত মানুষের ব্রেনে টেমপোরাল লোব এর এ্যালমন্ড শেইপড এ্যামিগডেলার এ্যাক্টিভেশনের কারণে ভীতির সঞ্চালন ঘটে। তখন বিপদ ভেবে মানুষের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিসটেম চালু হয়ে যায়, ফাইট অর ফ্লাইট মুডে চলে যায় শরীর ডেঞ্জার থেকে রক্ষা পেতে, হার্টবিটস বাড়ে, ব্লাডপ্রেশার বাড়ে, চোখ বড় হয়।

তিন চার বছর থেকেই মানুষের এ্যামিগডেলার কার্যকর হতে শুরু হয় এবং বয়ঃস্বন্ধি নাগাদ পূর্ণ বিকশিতরূপ বা পরিণতি লাভ করে। যাদের এ্যামিগডেলা যথাযথভাবে কার্যকরী নয়, হয়তো কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্থ অথবা ফাংশনিং নয় তারা নিজের বা অন্যের পার্সোনাল স্পেসের প্রয়োজনীয়তা এবং পরস্পরের ইমোশন অনুভব করতে অক্ষম, যদিও জেন্ডারভেদে ইমোশন ভিন্নভাবে কার্যকর হয়। এ্যাংজাইটি, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, পোষ্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, এবং নানাবিধ ফোবিয়া এ্যামিগডেলার সাথে লিঙ্কড।

এ্যামিগডেলার গঠণের ভিন্নতায় অটিস্টিক যারা তারা মানুষের পার্সোনাল স্পেসের বিষয়টি উপলব্দি করতে পারে না। ব্রেনের ড্যামেজ ঘটলেও এমন হতে পারে। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্তদের এ্যামিগডেলার সাইজ সুস্থদের তুলনায় বড় হয়। মানুষের ভায়োলেন্ট আচরণ, ভয়, ইমোশন, সামাজিক দক্ষতা, সেক্স, ফিডিং ইত্যাদি অনেক কিছুই এ্যামিগডেলার সাথে লিঙ্কড। এ্যামিগডেলা অতীত এবং বর্তমানের অভিজ্ঞতা, তথ্য, উপাওের আলোকে এক্টিভেট হয় আর এ্যাক্টিভেট হতেই চিন্তাশক্তি অকার্যকর করে জীবন বাঁচাতে সরাসরি শরীরকে এ্যাকশনে পাঠায় জীবনকে সুরক্ষিত করতে।

যেহেতু পার্সোনাল স্পেস সরাসরি মানুষের মানসিক স্বাস্থের সাথে লিঙ্কড তাই এই সম্পর্কিত সবারই সাধারণ কিছু জ্ঞান থাকা দরকার। যেগুলো সামাজিক দক্ষতা অর্জণেরও সহায়ক। যেমন, আমেরিকায় দম্পতিদের পার্সোনাল স্পেস যেখানে শূন্য থেকে বিশ ইঞ্চির মধ্যে সেখানে পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজনদের এক/দেড় ফিট থেকে তিন ফিটের মতো। সহকর্মী বা অল্প চেনাজানা লোকদের জন্যে এই দূরুত্ব আরও বেশী, তিন থেকে দশ ফিট। একেবারেই অপরিচিত জন যারা তাদের কমপক্ষে চার ফিট দূরুত্ব রেখে কথা বলা উচিত। আর লার্জ গ্রুপে এই দূরুত্ব বেড়ে হয় বারো ফিট। এছাড়া একেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই দূরুত্বের প্রয়োজন একেক রকম হয়। সম্পর্কের ধরণ, চেনাজানা, বিশ্বাস, আস্থা, লিঙ্গ, ধর্ম, কালচার, দেশ ইত্যাদিও কমফোর্টজোন বা পার্সোনাল স্পেসটিকে প্রভাবিত করে।

শুধু ব্যক্তি বা সামাজিক জীবনেই নয় কর্মজীবনেও পার্সোনাল স্পেসের ধারণাটি ব্যবহৃত হয় কম্পানির নীতি অনুযায়ী। বেসিক রুলস হলো কারও গা না ছুঁয়ে কথা বলা, অতি কাছাকাছি না হওয়া যেনো আরেকজনকে সরে যেতে হয়। কোন রুমে নক না করে না ঢোকা। অচেনাদের সাথে চার ফিটের মত দূরুত্ব রেখে কথা বলা। কারও ব্যাগ বা সেল না হাতানো। কারও ঘাড়ের ফাঁক দিয়ে কিছু পড়ার চেষ্টা না কথা। অফিসের কাজের সময় বাড়তি কথা বা জোকস বলে আরেকজনকে ডিসষ্টার্ব না করা। দু'জন লোক কথা বলছেন তার মাঝ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও পার্সোনাল স্পেসে হানা দেয়া বোঝায়।

কারও কাছে যাবার সময় কোন ব্যক্তি হঠাৎ পিছিয়ে গেলে বুঝতে হবে ইচ্ছেয় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তার পার্সোনাল স্পেসে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ নিজে পিছিয়ে যাওয়াই ভদ্রতা।

কেউ পার্সোনাল স্পেসে হানা দিলে নানা পদ্ধতিতে সেটা হ্যান্ডেল করা যায়। কখনও বিষয়টিকে এক্সেপ্ট করে নিয়ে, কখনও বা একটু পিছিয়ে সরে গিয়ে হিন্টস দিয়ে, কখনওবা বুঝিয়ে বলে। শিশুদেরকেও ছোট বেলাতেই এই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা উচিত। এতে তারা যেমন নিজের স্পেসটি সুরক্ষিত রাখতে শেখে তেমনি তাদের যৌন হয়রানীর সম্ভাবনাও কমে। পার্সোনাল স্পেসের বিষয়টি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে ওঅপ্রোতভাবে জড়িত। নিজেকে এবং অন্যকে সঠিকভাবে বুঝতে পারা মানসিক সুস্থতার লক্ষণ। সামাজিক দক্ষতারও। মানুষকে না বুঝলে মানুষে মানুষে ডিলিংস কঠিন হয়ে যায়।

পার্সোনাল স্পেস, লৈঙ্গিক সমতা, কর্মস্পৃহা, শ্রমের মর্যাদা, আগুন লাগলে করণীয় ইত্যাদি বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে ঢুকিয়ে শিক্ষাকে আরেকটু বাস্তবধর্মী এবং জীবনঘন করা দরকার সমতা, সহমর্মিতা, মানবিকতা ইত্যাদি বিষয়কে ফোকাসে রেখে।

লিফটের স্বপ্ল স্পেসে অজ্ঞাত লোকের সাথে মানসিক দূরুত্ব বাড়াতে কথা এবং আইকন্টাক বন্ধ রেখে মানুষ যেমন তলার নাম্বারে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তেমনি ঘেঁষাঘেঁষিরত অপরাধীর উপস্থিতিকেও মানসিকভাবে অস্বীকার করে জড় বস্তুর রূপ দেয়। এরপরও যদি কোপ করতে অসুবিধা হয় তখন অনেকেই ডাইরেক্ট এ্যাকশনে চলে চায়, জানতে চায় ঘষাঘষির কারণ অথবা ফিজিক্যাল এ্যাটাক। তবে হালকা পরিস্থিতি থাকা অবস্থাতেই পদক্ষেপ নেয়া ভালো। নারীর সুরক্ষা এবং অধিকার তার নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।


  • ৩২৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শিল্পী জলি

সমাজকর্মী, ইউএস প্রবাসী

ফেসবুকে আমরা