তীজন, এক অসম লড়াইয়ের উজ্জ্বল জয়টীকা

সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ ৭:২৬ AM | বিভাগ : সীমানা পেরিয়ে


বছর বারোর মেয়েটির খেলাটেলা মাথায় উঠেছে ক'দিন ধরে। মায়ের কাকা ব্রিজলাল নানাজি এসেছেন তাদের বাড়িতে। আধা সন্ন‍্যাসী গোছের মানুষ, স্বপাকে খান। বিকেল হলেই ঘরে বসে গুনগুন করে গান করেন, সে গান শুনে পা দুটো যেনো আটকে যায় মেয়েটার, নানাজীর ঘরের বাইরে। স্বপ্নের মতো মনে হয় তার, একী গান, নাকি গল্প? ছন্দোবদ্ধ বলিষ্ঠ সুরে নানাজী বয়ান করে চলেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, ভীষ্মের শরশয‍্যা, দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ, কীচক বধ... আগে কখনোই এমনটি শোনেনি মেয়েটা। সে গান যেনো যাদুচুম্বকের মতো টানতে থাকে তাকে, অমোঘ আকর্ষণে, নেশার মতো হয়ে যায় তার। প্রতিদিন বিকেলে সমবয়সীদের সাথে খেলা ভুলে যায় সে, গানের টানে লুকিয়ে শোনে নানাজীর ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে।

লুকিয়ে কেনো? ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের চোদ্দো কিলোমিটার উত্তরে গানিয়ারি গ্রাম, এ গ্রামের পার্ধি উপজাতির মধ‍্যে কড়া নিয়ম, মেয়েরা মুখে উচ্চারণ করতে পারবে না রামায়ণ মহাভারত। কিন্তু শত বাধা, শত অত‍্যাচারেও, একঘরে হয়ে, গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়ে, এমনকী বিবাহসম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও মহাভারতের এই কপালিক শৈলীর গান "পাণ্ডবানি" গাওয়া থামিয়ে দেননি সেদিনের সেই কিশোরী। তিনি তীজন, তীজনবাঈ। পাণ্ডবানি গানের একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী, একাধিকবার ভূষিত হয়েছেন ভারত সরকারের পদ্মসম্মানে। নারীর জন‍্য নিষিদ্ধ জগৎ পাণ্ডবানি গানের মঞ্চ, সেই মঞ্চ শাসন করে হয়ে উঠেছেন নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক, বেড়া ভাঙার, স্পর্ধার উদাহরণ। তুফানের মুখে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার, লড়াইয়ের প্রেরণা।

তীজনের চলার পথ ছিলো রক্তাক্ত, কন্টকাকীর্ণ, মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না সেই পথ। বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে আজকের তীজনবাঈ হয়ে উঠেছেন তিনি, হয়ে উঠেছেন স্পর্ধার আরেক নাম। কেমন ছিলো তীজনের সেই রোজনামচা? আসুন একবার চোখ ফেরাই। কিশোরী তীজন প্রতিদিন বিকেলে সাথীদের সাথে খেলা ভুলে নানাজীর ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতো মহাভারতের কাহিনীগান। একদিন ব্রিজলাল নানাজীর চোখে ধরা পড়ে যায় তীজনের এই "চুরি"! নানাজী ডেকে নিয়ে আসেন ঘরের ভেতর। অবশ পা দু'টো ঠকঠকিয়ে কাঁপছে তখন তীজনের। নানাজী বললেন , "যা শুনেছিস এতোদিন লুকিয়ে, সব মনে আছে" ? কাঁপতে কাঁপতেই মাথাটা হেলিয়ে দেয় তীজন। "শোনাতে পারবি"? আবার নানাজীর প্রশ্নের উত্তরে মাথাটা কাত করে দেয় সে। "শোনা দেখি"। নানাজীর আদেশে হয়তো ঠিকমতো শোনাতে পারলে শাস্তি মকুব হয়ে যেতে পারে, এই ক্ষীণ আশায় , শুকনো খটখটে গলাটা ভিজিয়ে নিয়ে শুরু করে তীজন। একটুও না থেমে, একটুও ভুল না করে, একটার পর একটা পর্ব গেয়ে যায় তীজন তার নিখুঁত জোরালো সুরে। নানাজীর দু'চোখ ভরে ওঠে অশ্রুতে, দুহাতে তীজনকে বুকে জড়িয়ে বলে ওঠেন, ভগবান , আমার ঘরেই এমন রত্ন, অথচ আমি জানতেও পারিনি"!

শুরু হলো ব্রিজলাল নানাজীর কাছে তীজনের পাণ্ডবানি গাওয়ার শিক্ষা। সবটাই লুকিয়ে চুরিয়ে, কারণ পাণ্ডবানি বা মহাভারতের গান একচেটিয়া পুরুষদের সম্পত্তি। পার্ধি মেয়েদের গান গাওয়া দূরে থাক, অক্ষরজ্ঞানহীন হয়ে মরে যাওয়াই ছিলো "ভবিতব‍্য"। মেধাবী কিশোরী তীজন তুখোড় পাণ্ডবানি গাইয়ে হয়ে উঠলেন অল্পদিনেই নানাজীর স্নেহে প্রশিক্ষণে। কিন্তু ধরা পড়ে গেলেন মায়ের চোখে, পরিণতি কল্পনা করে শিউরে উঠলেন মা সুখবতী পার্ধি। সুখবতী প্রবল আপত্তি জানালেন, বাধা দিলেন, তিরস্কার করলেন ব্রিজলাল চাচাজীকে। কেনো তিনি পাণ্ডবানির তালিম দিচ্ছেন তাঁর মেয়েকে? তিনি কি জানেন না মেয়েদের জন‍্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ পাণ্ডবানি গাওয়া? কিন্তু বেঁকে বসলো কিশোরী তীজন, পাণ্ডবানি সে গাইবেই! সে জানিয়ে দিলো সে মানে না এই অন‍্যায় বাধা, সে মানে না এই নিষেধ, মরদরা যদি গাইতে পারে তো জনানা ভি গাইতে পারে পাণ্ডবানি! মেয়ের স্পর্ধায় তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন সুখবতী। তোতীর বোল ফুটেছে দু'কলি পাণ্ডবানি গাইতে শিখেই ? মায়ের মুখে মুখে চোপা করবি? সমাজের রিওয়াজ মানবি না? তোর বাক‍্যিবাণ বন্ধ‌ই করে দেবো বরাবরের মতো, দুহাতে প্রাণপণে তীজনের গলা টিপে ধ‍রেন সুখবতী। ছটফট করতে থাকে তীজন। ছুটে এসে তাকে মুক্ত করেন ব্রিজলাল, তিরস্কার করেন সুখবতীকে। কান্নায় বিলাপে ভেঙে পড়েন সুখবতী। সমাজে মুখ দেখাতে পারবেন না তাঁরা, তাছাড়া তীজন "বিহায়ি লড়কী", সমাজের রীতি মেনে ইতোমধ‍্যেই বাল‍্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে তার, শ্বশুরালে নেবে কি ওকে আর এসব কথা তাদের কানে উঠলে?

চুলের মুঠি ধরে ঘষটাতে ঘষটাতে তীজনকে কোঠিতে নিয়ে তালাবন্ধ করে রাখেন সুখবতী। সেখানে খাওয়া জোটে না, অভুক্ত অশক্ত শরীরে এর ওপর চলে প্রহার। তথাপি তীজন সংকল্পে অনড়, জান চলে যায় যাক, পাণ্ডবানি তিনি গাইবেন‌ই। ক্রমে জানাজানি হয়ে পরছে। "হিতাকাঙ্খীর" অভাব দেশগাঁওয়ে কোনোকালেই ছিলো না, তারাই উদযোগ করে খবরটা পৌঁছে দেয় তীজনের শ্বশুরবাড়িতে। শ্বশুরবাড়ি থেকে খবর আসে তীজনকে ত‍্যাগ দিয়েছে স্বামী। এরপর সুখবতী আর তার স্বামী চুনুকলাল পার্ধিও ত‍্যাগ দিলো তীজনকে। ছোড়ি হুয়ি বা বরখেদানো মেয়েকে ঘরে রেখে সমাজের চক্ষুশূল তারা হতে পারবে না। ঘরে আরো বিন বিহায়ি মেয়েরা আছে, তাদের‌ও তো বিয়েশাদী দিতে হবে!

অত‌এব ঘরছাড়া হলো কিশোরী তীজন । গ্রামের প্রান্তে কোনোমতে এক কুঁড়েঘর বানিয়ে সেখানে ঠাঁই নিলো সে। আশপাশের মেয়ে ব‌উরা কোনোদিন দয়া করে রুটি চাটনি দিয়ে যেতো, কোনোদিন সেটুকুও জুটতো না। তবু পাণ্ডবানি গাইবার জিদ ত‍্যাগ করেনি কিশোরী তীজন। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে কাটছিলো দিন। এক শীতের সকালে কয়েকটি বানজারা পরিবার শালপাতা সংগ্রহের জন‍্য গরুর গাড়ি করে কয়েক ক্রোশ দূরের দ্রুগের চন্দ্রখুরি গ্রামে যাচ্ছিলো। ঘরছাড়া তীজন কী ভেবে যেনো তাদের সঙ্গ নিলো। ঘটনাচক্রে চন্দ্রখুরিতে তখন কিসের একটা মেলা হচ্ছে। বাঁশের স্টেজে, লন্ঠনের আলোয় টানা দু'দিন পাণ্ডবানি গাইলেন তীজন, বিশ গাঁয়ের লোকের সামনে। সেই কপালিক শৈলীর পাণ্ডবানি, যা পুরুষদের একচেটিয়া সম্পত্তি, মেয়েদের গাইবার অধিকার নেই। ঐতিহ‍্য অনুযায়ী মেয়েরা গান করতেন বেদমতী শৈলীতে।

তীজন‌ই প্রথম মেয়ে যিনি লোকসমক্ষে এই গান পরিবেশন করলেন, গাইলেন শুধু নয়, একেবারে নিয়মের স্রোত লণ্ডভণ্ড করে আগুন লাগিয়ে দিলেন। তীজনের স্বভাবজাত তেজি গুতুরাল গলায় গানের সঙ্গে কখনো ভীমের মতো ঊরু চাপড়ে কাল্পনিক গদা আস্ফালনে, কখনো দুর্যোধনের অট্টহাস‍্যে, কখনো তানপুরাটাকে গাণ্ডীবের মতো ধরে অর্জুনের মতো টংকার দিয়ে বীরদর্পে হাঁকডাক - দর্শক স্রোতারা যেনো যাদুমন্ত্রে মোহিত হয়ে র‌ইলেন তীজনের কুশলতায়। তেরো বছর বয়সী তীজনের সেই মেলায় গান গেয়ে রোজগার হয় পুরো দশটি টাকা, সে দিনের নিরিখে বড়ো কম নয়।

ওই মেলার মাঠ থেকেই ডাক পড়লো পাশের গ্রামে, টানা আঠারো দিনের পালা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তীজনকে। পালার পর পালা, বায়না বা "চরহৌতরি" আসতো গরুর গাড়ি ভর্তি করে - শাড়ি, খাবার, বাসনপত্র, অর্থ তো আছেই! উস্তাদ উমেদ সিং দেশমুখের কাছে প্রশিক্ষণ নিলেন প্রথাগতভাবে। গানিয়ারি গাঁওয়ের ছায়া, পার্ধি উপজাতির বিধিনিষেধের বাইরের ভারত কিন্তু দুহাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নিলো তীজনকে, তাঁর পাণ্ডবানিকে, মেয়ে বলে দূরে ঠেলে দেয়নি। যদিও চলার পথ মোটেও মসৃণ ছিলো না আজকের কিংবদন্তী পাণ্ডবানিশিল্পী তীজনবাঈয়ের। পার্শ্ববর্তী গ্রাম, জনপদগুলো থেকে পালার পর পালা গাইতে ডাক আসতে লাগলো তীজনের এবং সুখ‍্যাতি ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি দিকে দিকে।

প্রখ‍্যাত নাট‍্যব‍্যক্তিত্ব হাবিব তনভিরের সাথে পরিচয় ঘটে তীজনের। তাঁর প্রতিভা লক্ষ‍্য করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর গোচরে আনেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাণ্ডবানি পরিবেশনের আমন্ত্রণ যায় তীজনের কাছে। এরপর ভারতের সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত হয়ে পৃথিবীর বহু দেশে পা রাখেন তীজন এবং ঘোষণা করেন তাঁর ছকভাঙা পাণ্ডবানির জয়গান। সমস্ত পৃথিবীর মাটিতে উড়তে থাকে গানিয়ারি গ্রামের পার্ধি উপজাতির এই উন্নতশির অদম‍্য নারীর জয়নিশান।

তীজনবাঈ (ছবিঃ ইন্টারনেট)

জন্মেছিলেন ভিলাইয়ের এক অখ‍্যাত গ্রামে দরিদ্র উপজাতির মেয়ে হয়ে। ছত্তিশগড়ের ভিলাই থেকে চোদ্দো কিলোমিটার উত্তরে গানিয়ারি গ্রামে পার্ধি তফসিলি উপজাতি চুনুকলাল পার্ধি ও তাঁর স্ত্রী সুখবতীর পাঁচ সন্তানের মধ‍্যে সবার বড় তীজন। ১৯৫৬ সালের ২৪শে এপ্রিল জন্ম হয় তীজনের। সামনেই তাঁর জন্মদিন, ৬৪ টি বসন্ত পার করতে চলেছেন। এমন‌ই এক গানের প্রেমে পড়লেন তীজন, যা নিষিদ্ধ তাঁর উপজাতির মেয়েদের জন‍্য। মহাকাব‍্যের তাণ্ডবগান দার্ঢ‍্যময় পুরুষের জন‍্য, নারীর জন‍্য আছে সুললিত বেদমতি শৈলী। কিন্তু তীজনের তো কপালিক শৈলীই পছন্দ, শত বাধাবিপত্তি অত‍্যাচার অনাহারেও পাণ্ডবানির থেকে দূরে সরাতে পারেনি তীজনকে। ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হয়ে মঞ্চে উঠেছেন তীজন, ভারতের সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত হয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইংল‍্যাণ্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, মল্টা, সাইপ্রাস, রোমানিয়া, মরিশাস সহ আরো অনেক দেশে, উড়িয়েছেন পাণ্ডবানির জয়পতাকা।

পেয়েছেন ভারত সরকারের একাধিক পদ্মসম্মান। ১৯৮৭ সালে পেয়েছেন পদ্মশ্রী, ২০০৩ সালে পান পদ্মভূষণ, ২০১৯ সালে ভূষিত হন পদ্মবিভূষণ সম্মানে। ১৯৯৫ সালে পেয়েছেন জাতীয় সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার। ২০১৮ সালে পেয়েছেন জাপান সরকারের সাম্মানিক ফুকুওকা পুরস্কার। এছাড়াও বহু পুরস্কার জমা হয়েছে তাঁর ঝুলিতে। পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি.লিট.। ভিলাই ইস্পাত কারখানায় চাকরিও করেছেন। ব‌্যক্তিগত জীবনে বাল‍্যবিবাহের বিচ্ছেদের পর আরো দুবার বিবাহ করেন তিনি। তাঁর বর্তমান স্বামীর নাম তুক্কারাম।

একলা মেয়ের ঝড়তুফান ঠেলে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার রূপকথা লিখেছিলেন যিনি, সেই তীজন আজ বীতশ্রদ্ধ তাঁর উত্তরসূরীদের প্রতি। তাঁর আফসোস, গত চল্লিশ বছরে আর একটিও তো পার্ধি মেয়ে দেখালো না পাণ্ডবানি গাইবার স্পর্ধা ! লাভার ওপর দিয়ে হেঁটে নিজের উত্থানের চূড়োয় পৌঁছনো তীজন গানিয়ারি গ্রামে, নিজের বাড়ির পাশেই বাড়ি করেছেন। বছরের অনেকটা সময়‌ই থাকেন সেই বাড়িতে। মনে সুপ্ত ইচ্ছে, কোনো পার্ধি মেয়ে যখন পাণ্ডবানি গাইবে, তার মা যদি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, পথে যেনো না দাঁড়াতে হয় সেই মেয়েকে। কিন্তু তীজনের সে ইচ্ছে পূরণ হয় নি, তাঁর পরে আর কোনো পার্ধি মেয়ে এগিয়ে আসেনি খাঁচা ভাঙতে। গানিয়ারি গ্রামের মেয়েরা এখন স্কুলে যায়, স্কুলে নাচ গান‌ও শেখে, তারপর বিয়ের পিঁড়িতেই সব শেষ। অভিমানী তীজন তাই নিয়ম করে পাণ্ডবানি শেখান না কারোকেই। ওয়র্কশপে ডাক পড়লে মাঝেমাঝে শেখাতে যান। তাঁর একান্ত ইচ্ছে, তাঁর পাণ্ডবানি গানের উত্তরাধিকার তিনি দিয়ে যাবেন কোনো পার্ধি মেয়ের হাতে, কিন্তু অদ‍্যাবধি তেমন কোনো উত্তরসূরী পাননি তীজনবাঈ। শহরের মেয়েদের মধ‍্যে ছাত্রী পেয়েছেন অনেক, কিন্তু তাদের সে সাধনায় তীজনের মতো সমাজের পরোয়া না করা পার্ধি মেয়ের লড়াইয়ের সে ক্রোধ, সে শোক কোথায়? লড়াই জেতার সে মাহাত্ম‍্য কোথায়? পিছিয়ে থাকা মেয়েদের আলোর বৃত্তে টেনে আনাই যে তীজনের লড়াইয়ের পূর্ণতা! কিন্তু তীজনের সে চাওয়া, চাওয়াই রয়ে যায়। কোনো বাধাতেই হার না মেনে নেওয়া, অপ্রতিরোধ‍্য তীজনবাঈয়ের তানপুরা তবু আজ‌ও অপেক্ষা করে থাকে আপোষ না জানা কোনো পার্ধি কিশোরীর প্রত‍্যয়ী অঙ্গুলিস্পর্শের।

 


  • ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শীলা চক্রবর্তী

জন্ম খুলনায়। কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে আইনে স্নাতক। মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ‍্যালয় থেকে অপরাধ আইনে স্নাতকোত্তর। পেশায় আইনজীবী। নেশা রবীন্দ্রনাথের গান , ধ্রুপদী সঙ্গীত , কবিতা, অভিনয়, লেখালিখি । মঞ্চে নিয়মিত উপস্থিতি । লেখালিখি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও পোর্টালে প্রকাশিত । পেশায় আইনজীবী শীলা চক্রবর্তীর জন্ম খুলনায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক আর মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা শীলার নেশা রবীন্দ্র সঙ্গীত, ধ্রুপদী সঙ্গীত, কবিতা, অভিনয় এবং লেখালেখি। মঞ্চ নাটকেও তিনি নিয়মিত।

ফেসবুকে আমরা