নারীবাদ: বোঝা ও বোঝাপড়া (পর্ব-০৪)

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯ ৩:০৯ AM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


নারীর জীবন পূর্ণতা পায় স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে। স্ত্রী হলো নিতান্ত এক দাসী- আর কিছু নয়। স্বামী তার প্রভু। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ক আসলে প্রভু-ভৃত্যের, জীবনসঙ্গীর নয়।

সমাজ ও রাষ্ট্রের এমনই এক মনোজগতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে নারীবাদের উম্মেষ। এরকম একটি সমাজ বাস্তবতায় বসে জন স্টুয়ার্ড মিল লিখলেন The subjection of women। লিঙ্গ হিসেবে পুরুষকে তিনি চিহ্নিত করেছিলেন সমাজের চোখে Stronger Sex বলে, যা একটি অন্যায় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। নারীর অধিকারহীনতার প্রায় সবগুলো দিকই তিনি বর্ণনা করতে চেয়েছেন। বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, কীভাবে সমাজ, রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন ও ধর্ম নারীকে দাস হিসেবে বাঁচিয়ে রেখেছে আর পুরুষকে করেছে নারীর মালিক বা প্রভু। তিনি মনেপ্রাণে এই অসম পরিস্থিতির অবসান কামনা করেছেন।

নারীর ঘরের বাইরে কাজ করার অধিকার ও প্রয়োজনীয়তার কথা লিখেছেন মিল। এমনকি রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক পদেও নারীকে দেখতে চেয়েছেন। লিখেছেন,

“If you agree with me about the equality of women in the family, I don’t expect to have much trouble convincing you about the other aspect of the just equality of women, namely their admissibility to all the functions and occupations that have until now been the monopoly of the stronger sex [Mill’s phrase]. Why have women’s disabilities outside the home been clung to? I mean, of course: why have men clung to their belief in the disabilities of women outside the home·? I think it has been in order to maintain their subordination in domestic life, because the general run of the male sex still can’t tolerate the idea of living with an equal.” (পৃষ্ঠা-২৯)

(যদি আপনারা আমার সাথে পরিবারে নারীর সমঅধিকারের ব্যাপারে একমত হন, তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের সমতা দেবার ব্যাপারে আপনাদের একমত করাটা খুব কঠিন বলে আমি মনে করি না। যেমন কর্ম ও পেশাগত ক্ষেত্রে নারীর যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দরকার, যেখানে এখন পর্যন্ত পুরুষেরই (stronger sex) একচেটিয়া আধিপত্য। নারী ঘরের বাইরে কাজ করতে পারবে না, এমনটা কেন ধরে নেয়া হয়? কেন পুরুষ তাদের এই ধ্যানধারণা পুষে রেখেছে যে নারী বাইরের জগতে কাজ করতে পারবে না? আমার মনে হয়, পুরুষ এটা করে কারণ তারা পারিবারিক জীবনে নারীর অধীনস্ততা ধরে রাখতে চায়। কারণ অধিকাংশ পুরুষই সমতার সাথে জীবনযাপনের ধারণাটি সহ্য করতে পারে না।)

দাসের জীবন

“I have as much muscle as any man” – Sojourner Truth

মিল যখন লিখছেন নারী ও পুরুষের সমান যোগ্যতা এবং অধিকার নিয়ে, ঠিক একই সময়ে আরো কয়েকজন নারীবাদিও নারী ও পুরুষের সমান শারিরীক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার কথা বলছিলেন, সমান অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের একজন Sojourner Truth (১৭৯৭-১৮৮৩)। Truth’র চরম সংগ্রামমুখর জীবনটিই নারীবাদের লড়াইয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলো।

Sojourner Truth জন্মেছিলেন একজন দাস হিসেবে, আমেরিকায়। ত্রিশ বছর বয়সে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে মুক্ত করেন। এতোগুলো বছর বারবার ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হয়েছেন। নানাভাবে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই কৃষ্ণাঙ্গ নারী। ছোট কন্যাসন্তানটিকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে আসেন ১৮২৬ সালে।  চেষ্টা চালাতে থাকেন অন্য সন্তানদের মুক্ত করার। এর মধ্যে Emancipation Act বা দাসমুক্তি আইন পাশ হয়। দাস কেনাবেচা বেআইনী হয়ে যায়। একদিন আবিস্কার করেন তার একটি পুত্র সন্তানকে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। ট্রুথ দাস মালিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। মামলায় জয় হয় তার। ট্রুথ হলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী যিনি এরকম একটা অবিস্মরণীয় কাজ করে দেখিয়েছিলেন।

এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বক্তৃতা দেয়া শুরু করলেন ট্রুথ। নিজের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতিগুলোই বক্তব্য হিসেবে রাখতেন। দাসত্ব, নারীর ভোটের অধিকার এবং কালো মানুষের মুক্তিই ছিলো তার বক্তৃতার মূল বিষয়। ১৮৫১ তে বক্তব্য রাখতে যান ওহাইও স্টেটে। ছোট্ট, সংক্ষিপ্ত অথচ যুগান্তকারী এক বক্তব্য রাখেন Thuth। নিজেকে তিনি ঘোষণা করেন শারিরীকভাবে পুরুষের সমান শক্তসামর্থ ও বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী হিসেবে। বক্তৃতায় তিনি বলেন,

“Look at me! Look at my arm! I have ploughed and planted and gathered into barns…I could work as much and eat as much a man- when I could get it- and bear the lash as well! And ain’t I a woman?”

প্রায় ৬ ফিট লম্বা, সুঠামদেহী ট্রুথের কণ্ঠস্বর আর উপস্থিতির মধ্যেই এমন কিছু ছিলো যা তার বক্তৃতার শ্রোতা দর্শককে মোহিত করে রাখতো। দাসত্ববিরোধী নারীবাদের ইতিহাসে ট্রুথের নাম চিরকাল সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত ট্রুথ তার অ্যাক্টিভিজম চালিয়ে গেছেন। মারা যান ১৮৮৩ তে,  ৮৬ বছর বয়সে।

দাসপ্রথা অবসানের লড়াইয়ে প্রথম কথাটি ছিলো – সব মানুষ সমান। ধীরে ধীরে আন্দোলন যখন বড় হয়, তখন একটি বড় অংশ নারী সমর্থক তৈরি হয়। তারা এই আন্দোলনে অংশও নিতে থাকে। ফলে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের অভিজ্ঞতা তৈরি হয় তাদের। প্রকাশ্যে বক্তৃতা করার সুযোগ পায় নারীরা, মিছিলে যায়, পত্রিকায় লেখালেখি করতে থাকে। আমেরিকায় দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলন নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে শক্তি যুগিয়েছে, নারীবাদের ক্ষেত্র বিস্তৃত করে দিয়েছে। দুটি আন্দোলনই প্রতীকি অর্থে পরস্পরের সাথে যুক্ত ছিলো। দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও তাদের বক্তব্য বড় ভূমিকা রেখেছিলো এবং স্বাভাবিকভাবেই দাস প্রথার অবসানের সাথে সাথে নারীমুক্তির কথা তাদের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে। দাসবিরোধী আন্দোলনের ভেতর থেকেই নারী আন্দোলনকারীরা নিজের না পাওয়া ও বঞ্চনার বিষয়টি আরো গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছে।

তবে দাসপ্রথাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়া নারীরা এক সময় অনুধাবন করতে থাকেন যে, এই লড়াইয়ের মাঠেও পুরুষ যোদ্ধারা তাদের ছোটো করে দেখছেন, দমিয়ে রাখতে চাইছেন, অসম আচরণ করছেন। অর্থাৎ দাসত্বের বিরোধিতা করা পুরুষেরাও প্রভু হয়ে উঠতে চান এবং সেটা নারীর। এটি লক্ষ্যনীয়।

তো নারীরা তখন বাধ্য হয় নিজেদের আলাদা করে নিতে। নারী পৃথক হয়ে সংগ্রাম শুরু করে। ১৮৩৩ সালে পুরুষ নেতৃত্বে American anti-slavery society গড়ে উঠবার পরই একদল নারী গড়ে তোলেন Philadelphia Female anti-slavery society। তারা এই সংগঠনে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ- সব নারীকে যোগ দেবার আহ্বান জানান। এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ব্যাপার। দাসপ্রথায় সাদা মানুষেরা কালো নারী ও পুরুষকে দাস করে রাখে। কিন্তু নারী জীবনের যে দাসত্ব তা সব নারীর। সেখানে সাদা বা কালো নেই। কালো নারীও যতটুকু দাস, শ্বেতাঙ্গ নারীর দাসত্বও ততটুকু। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সব নারীই পুরুষের দাস। তাই নারীর অধিকার আদায়ের এই সংগঠন সাদা নারীদের দূরে রাখতে চায়নি।

আমাদের দেশে নারীবাদ নিয়ে যখন আলোচনা চলে, তখন অনেকের কথার সুর থাকে এমন- ‘নারীর অধিকার আদায়ে কাজ করতে হবে শুধু প্রান্তিক নারীর জন্য। নারীর বিপন্নতা সেসব স্থানেই আছে। উচ্চবিত্ত কিংবা উচ্চ মধ্যবিত্ত নারীর জীবনে নারীবাদ বিলাসিতা’, ইত্যাদি। এ ধরণের চিন্তা যারা ধারণ করেন, তারা দাসপ্রথার এই সময়টিকে স্মরণ করতে পারেন। বিষয়টা ঠিক এমনই। নারী জীবনের বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা আসলে সব নারীর জীবনেই এক ও অভিন্ন। নানা প্রকৃতি ও ধরণে তাকে এসবের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। প্রান্তিক এক নারী পুরুষতন্ত্রের নির্যাতনে কোনো একভাবে নির্যাতিত হয়, আবার সমাজের একটি সুবিধাভোগী শ্রেণির নারী আরেকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। তাই পুরুষতন্ত্রে নারীর জীবন সব শ্রেণির ভেতরেই আসলে এক। শুধু বঞ্চনা ও নির্যাতনের ধরণ আলাদা।

শ্রমিক আন্দোলন ও নারীর লড়াই

পিতৃতন্ত্র সবসময় চেয়েছে নারীকে সব ধরণের উৎপাদনমুখী কাজ থেকে দূরে রাখতে। চেয়েছে নারী অর্থনীতি থেকে দূরে থাকুক। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনেই একসময় নারী বেরিয়ে এসেছে ঘর ছেড়ে। ঘরের বাইরে নারীর শ্রম নিতে বাধ্য হয়েছে রাষ্ট্র।

শিল্পবিপ্লব মানুষের কাজের ধারা আর জীবনযাপনকে পাল্টে দিয়েছিলো। স্টিম ইঞ্জিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি আবিস্কারের পর কারখানাগুলোতে ভারি কাজের ভার পড়লো যন্ত্রের ওপর। উৎপাদন বাড়লো। বাড়তি লাভের জন্য কারখানা মালিকেরা নতুন বুদ্ধি আঁটলো। যেহেতু যন্ত্রই উৎপাদনের অধিকাংশ কাজ করে এবং যন্ত্রপাতি চালাতে অনেক কসরৎ জানার বা দক্ষতার প্রয়োজন হয় না, তাই শিল্পমালিকেরা এসব যন্ত্র চালাতে বহু অদক্ষ শ্রমিককে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। কারণ ‘দক্ষতা নেই’- এই অযুহাতে এদের কম পয়সায় খাটিয়ে নেয়া সম্ভব। অবধারিতভাবে এ ধরণের শ্রমিকের চাহিদা পূরণের স্বার্থে নারী ও শিশু শ্রমিক নেয়ার চলও শুরু হলো। (এখানে উল্লেখ্য, নারী অতীতে কখনও কারখানায় কাজের বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়নি বলেই অদক্ষ ছিলো)।

কারখানায় দিনের পর দিন একঘেয়ে কাজগুলোতে নারীকে ব্যবহার শুরু হলেও কোনো বড় বা নেতৃত্বস্থানীয় পদ পাবার অধিকার নারীর ছিলো না। বেশিরভাগ মেয়েই বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত কারখানায় কাজ করতো এবং যা মজুরি তারা পেতো, তা কারখানার পুরুষ শ্রমিকদের মজুরির চেয়ে অত্যন্ত কম। এরপরও পরিবারগুলো তরুনী মেয়েটিকে কারখানায় কাজে পাঠাতে শুরু করলো পরিবারের আর্থিক অবস্থা ফেরানোর আশায়। অধিকাংশ কারখানায় নারী শ্রমিকদের প্রতিদিন গড়ে ১৩ ঘণ্টা কাজ করতে হতো এবং অত্যন্ত নিম্ন মজুরি দেয়া হতো। ওভারটাইম করবার পরও তাদের বাড়তি মজুরি দেয়া হতো না। ১৮০০ সালে ম্যাসাচুসেটসের Lowell textile mill অল্পবয়সী মেয়েদের অতি কম পারিশ্রমিকে কাজে নিয়োগ দিতে শুরু করে। নারীরা কাজ করতো সেখানে দিনে ১৩/১৪ ঘণ্টারও বেশি। এই কারখানায় একজন নারী শ্রমিকের সাপ্তাহিক মজুরি ছিলো (১৮৪৫ এর দিকে) মাত্র চার ডলার (বর্তমানে ১০০ ডলারের সমান প্রায়)। কারখানাটি নিয়োগের সময় নারী শ্রমিকের দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে তারা এর কোনোটা রক্ষা তো করেইনি, উল্টো নারী শ্রমিকদের দিয়ে বিনা মজুরিতে বাড়তি কাজ করিয়ে নিচ্ছিলো। কারখানার পরিবেশও ছিল অত্যন্ত খারাপ।

১৮২৮ সালের দিকে এই কারখানার নারী শ্রমিকরা Lowell Mill Girls নামে আমেরিকার প্রথম নারী শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করে। ব্যানার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। ১৮৩৬ সালে প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জারি রাখেন কারখানা মালিকের অসম নীতির বিরুদ্ধে।  উৎপাদন বন্ধ থাকে। তারা ন্যায্য মজুরির পাশাপাশি শ্রমঘণ্টা ১০ এ নামিয়ে আনার দাবি জানান। কারখানা মালিকেরা নারী শ্রমিকদের এই দাবি ও প্রতিবাদকে অকৃতজ্ঞতা আর অনৈতিক বলে চিহ্নিত করে। শক্ত হাতে দমনও করে। কিন্তু ততদিনে মিল গার্লস শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন হিসেবে যথেষ্ট পরিচিতি পেয়ে গেছে।

এদিকে Sarah Bagley নামের একজন দারুন ব্যাক্তিত্ববান ও সুবক্তা নারী ১৮৩৬ সালের দিকে Lowell আসেন শহরের একটি টেক্সাইল মিলে কাজ করার উদ্দেশ্যে। কাজ করতে করতে সারাহ লক্ষ্য করেন, শ্রমিকদের কীভাবে ঠকানো হচ্ছে অল্প মজুরি দিয়ে আর কারখানার উৎপাদন বাড়ার পরেও শ্রমিকদের জীবনমানের কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

সারাহ এবং ১২ ‘মিল গার্লস’ একসাথে ১৮৪৫ এ শুরু করেন Lowell Female labor Reform Association (LFLRA) এবং ১৮৪৬ এ বের হয় শ্রমিকদের সংবাদপত্র – The voice of Industry। এতে তারা তাদের চিন্তাগুলো তুলে ধরতেন। সারাহ‘র সংগঠন নারী শ্রমিকদের প্রথম ইউনিয়নটির সাথে যৌথভাবে কাজ করতো।

এদিকে পুরো আমেরিকা জুড়ে নারী শ্রমিকরা ছোট ছোট সংগঠনে একতাবদ্ধ হয়ে ন্যায্য মজুরি ও শ্রমঘণ্টার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এখানে একটা ঘটনা বলা প্রয়োজন মনে করছি।

১৮৬৬ তে আমেরিকায় দাসপ্রথা অবলুপ্তি আইন পাশ হয়। এরপর মিসিসিপিতে দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া কিছু নারী, যারা ধোপার কাজ করতেন, তারা সেই মিসিসিপি স্টেটে প্রথম নারী শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করেন। সেই ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তারা মেয়রকে একটা দাবিনামা পাঠান। তারা ন্যায্য মজুরির কথা লেখেন। দাবি জানান, নারী শ্রমিককে কম মজুরি দিলে কারখানাগুলোকে যেনো জরিমানা করা হয়। তো নারী শ্রমিকদের এই ইউনিয়ন গঠন, দাবিদাওয়া পেশ করা দেখে উৎসাহিত হয়ে ওঠেন দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া মিসিসিপি’র পুরুষ শ্রমিকরা। তারা পুরুষ শ্রমিকদের জন্য আরো ভাল মজুরির দাবি তুলবেন এই উদ্দেশ্যে জ্যাকসন শহরের একটি চার্চে বসেন আলোচনা করতে।

নারী ঘরে অবরুদ্ধ হতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু যখনই সে নিজের শক্তিমত্তা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তখনই সে তার কর্ম ও যোগ্যতা দিয়ে ‍পুরো জগৎকে আলোয় ভরেছে, পথ দেখিয়েছে। এই ঘটনাটি সেই কথাটিই আবার সামনে নিয়ে আসে। (চলবে)

 

প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন


  • ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শারমিন শামস্

সমাজকর্মী শারমিন একজন ফিল্মমেকার ও সাংবাদিক।

ফেসবুকে আমরা