বাবুই

শনিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৯ ২:৪৫ AM | বিভাগ : সাহিত্য


মিটিং এর মাঝে বার দুয়েক টুত টুত শব্দে ক্ষুদেবার্তার আগমন জানান দিলো মুঠোফোনটা। ইভানা সামনে বসে থাকা বসের জাঁদরেল চোখে একবার তাকিয়ে ব্যাগে হাত দিলো। ফোনটি হাতে ধরলো বটে, বাটন প্রেস করে ক্ষুদে বার্তাটি খোলা হলোনা। সে ছাড়া আরো জনাদশেক লোক এ ঘরে বিদ্যমান। সবাই মনোযোগ সহকারে বড়কর্তার কথা শুনছে বা শোনার ভান করছে। ইভানার মন উশখুশ করছে বার্তাটি দেখার জন্য। আচ্ছা এক্ষুনি দেখার কি আছে! ফোন কোম্পানীর সব অফার টফার হবে হয়ত যা দেখা মাত্র সে ডিলিট করে দেয়, যত্তসব হাবিজাবি। মিটিং শেষ হোক তারপর দেখা যাবে ক্ষণ।

বস যেই একখান চিজ। বেটা সেনা প্রধান। পান থেকে চুন খসলে খ্যাচর খ্যাচর। অমন মানুষকে ইভানা পারতপক্ষে ঘাটায় না। ঘর-সংসার সে ঠিকমত সামলাতে পারুক আর না পারুক অফিসটা সে সামলে চলে। রেজাকে তো দেখিয়ে দিতেই হবে সে তার চেয়ে কম যায়না। লাঞ্চ টাইমে মিটিং শেষ হল। ইভানা তার লাঞ্চ বক্সটি নিয়ে ক্যান্টিনের এক কোনায় চেয়ার পেতে বসে। লাঞ্চ বলতে ঐ সকালের রুটি আর সবজি, সাথে একটু শসা কুচি। নাজেরা বুয়া রান্না খারাপ করে না। বলতে গেলে সেই তার সংসারটা সামলে রাখে। ইভানার ফোনটি হঠাৎ বেজে ওঠে। বা হাত দিয়ে সে রিসিভ করে।

রেজা ওপাশ থেকে উৎকণ্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করে,বাবুইকে আনতে গিয়েছ?

মানে আমি আনতে যাব কেন?

কেন আমার মেসেজ পাওনি? আমিতো জরুরী একটা কাজে আটকে গেছি। তোমাকে নিয়ে আসতে লিখেছিলাম। অস্থির হয়ে বলে রেজা।

ও মাই গড আমিতো মিটিং এ ছিলাম। এস এম এস দেখার সময় পাইনি। এই কথা এসএমএস দিয়ে বলতে হয়। আচ্ছা ফোন রাখ আগে, আমি দেখছি।

বাবুইকে রেজাই স্কুল থেকে আনে। সকালে ইভানা দিয়ে এসে অফিসে ঢোকে। আজ রেজার কি এমন জরুরী কাজ বাধলো কে জানে! স্কুল ছুটি হয়েছে আরো মিনিট বিশেক আগে। তার অফিস ফার্মগেট। ধানমন্ডি পৌছাতে কম করে হলেও আধা ঘন্টা লেগে যাবে। এই সময় সব স্কুল ছুটি হয় আর যানজট লেগে যায়। কি যে সে করে। লাঞ্চের পর বস আবার দেখা করতে বল্লেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না ইভানা। টেনশনটা বেশ জোরালো ভাবে বসে স্নায়ুকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কেউ একজন থাকলে ভাল হত যাকে ফোন দিলে চট করে বাবুইকে আনতে যেতে পারে।

আচ্ছা হুজুর কে বললে কেমন হয়! সেত গ্রীন রোডেই থাকে। বেচারা দারুন ভাল মানুষ। বাবুইকে খুব স্নেহ করে পড়ায়। তাকে, রেজাকে কি সম্মানটাই না করে।এইতো মাস তিনেক আগেও লোকটাকে সে চিনতো না। কলাবাগান তাদের বাসার গলিতে দেয়ালে সাঁটা ছোট্ট লিফলেট ‘আরবী পড়াই’। সাথে মোবাইল নাম্বার। ওটা দেখেই বাবুইকে একটা হুজুর রেখে দেয়ার কথা মনে হয়েছিলো ইভানার। আরবীটা ছোট বেলায় না পড়লে আর হয় না। সেই থেকেই হুজুর বাবুইকে পড়ায়। তাকে কেমন জানি পর মনে হয় না। নরম শান্ত ব্যক্তিত্বের মানুষদের বেশ আপন আপন-ই মনে হয়।

সানাউল্লাহ গ্রীন লাইফ হাসপাতাল এর সামনে থেকে দ্রুত পায়ে হাটা ধরে। বাবুইদের স্কুলটা ধানমন্ডি চার নাম্বারে। বাবুই এর মাকে সে আপা ডাকে। হঠাৎ আপা তাকেই কেন এই কাজটি করতে বললেন সে ভাবনায় না গিয়ে কিঞ্চিত গৌরব মেশানো নিষ্ঠার সাথে কাজটি সে সম্পন্ন করতে চায়। তাকে যে এই পরিবারটি বেশ আপন ভাবতে শুরু করেছে এটা ভেবে তার ভাল লাগছে। গ্রীন রোডে সে যে হেফজখানায় পড়ায় সেখানে এ সময়টা ব্যস্ততাই থাকে। তবু আপার ফোন পেয়ে সে না বলতে পারে না। তাছাড়া মানুষের উপকার করাইতো বড় ধর্ম। একরামুল মুস্লিমিন। হাদীসে আছে এক মুসলমান ভাইয়ের উপকার অর্থে অপর মুসলমান যদি এক পা-ও বাড়ায় তবে তার আমলনামায় দশ বছর এতেকাফ করার সওয়াব লেখা হয়। সুবানাল্লাহ! কত বড় লাভের কথা। দশ বছর এতেকাফ করা বুজুর্গের কাজ। তার পক্ষে মানুষের ছোট ছোট উপকারে পা বাড়ানো কতই না সহজ। সানাউল্লাহর মন প্রশান্তিতে ভরে যায়। সে হাটে। তার হাত পায়ের সাথে সাথে জিহ্বাটাও নড়তে থাকে, ‘সুবহানাল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! লা...ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর!’

পথের বেহায়া বেলাজ রমণী শরীরে চোখ যাওয়া মাত্র ‘আস্তাগফিরুল্লা’ জপতে জপতে ছয় নাম্বার রোড পার হয়ে যায় সানাউল্লাহ। এবার যেন কোনদিকে যেতে হবে। গলিগুলোকে সে ঠিক ঠাওর করে উঠতে পারে না। সবগুলো গলি-ই তার একরকম মনে হয়। এই এলাকায় কয়টা টিউশনি পেলে মন্দ হত না। বেশ বড় অংকের টাকা পাওয়া যেত।

যদিও সে শুধু আরবী পড়িয়েই হাজার ত্রিশেক টাকা মাস গেলে কামায়। থাকা-খাওয়া ঐ হেফজখানায়ই চলে।গোপালগঞ্জের মকসুদপুরে বাপের ভিটাখানায় মা তার আরো তিনভাইবোনকে নিয়ে আছে কোনরকম। ভাইদুটিকে সে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করেই ছাড়তে চায়। বোনটাকে একটা ভাল ছেলে দেখে পার করে দিলেই হবে। মেয়েদের অত পড়ে-টরে কাজ কি। তাতে সংসারে অশান্তি বাড়ে বৈ তো কমেনা। তার মরহুম আব্বাজান বেচে থাকলে সংসারের প্রতি যত দায়িত্ব করত সে তার চেয়ে কিছু কম করেনা। এইতো বছর গেলে বয়স তার আটত্রিশ পেরুবে। এতদিন বিয়ে থা করলে বাচ্চা-কাচ্চা স্কুলে যেত। এ নিয়ে অবশ্যি তার মনে কোন ব্যামো নেই বরং সংসার, মা-ভাই-বোনের জন্য ত্যাগ করতে পেরে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি কাজ করে।

তাছাড়া কেউ যেচে এসে তার বিয়ের কথা না বললে সে কি করে বলে। কী লজ্জার কথা। কী লজ্জার কথা। হাতের ছোট্ট কাগজটায় লেখা ঠিকানা মিলিয়ে নিলো সানাউল্লাহ সামনের সাইনবোর্ডে চোখ রেখে। হ্যাঁ এটাইতো স্কুল। দোতলা একটা বিল্ডিং। সামনে কোন মাঠ নেই। ছোট একটু জায়গা। সেখানে কতক মেয়েছেলে দেখা যাচ্ছে ইতিউতি ঘুরছে। কেউ কেউ আবার গোল হয়ে আড্ডার মত চালিয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ মেয়েগুলাই সাজসজ্জা করা। সানাউল্লাহ চোরা চোখে একটু তাকিয়ে নেয়। বাহ! কি সুন্দর দেখা যায়। আজকাল দেখি সবাই কেমন সেজেগুজে থাকে। কারো কারো চুল আবার রঙ্গিন,আজিব রকমের পিছলা, সোজা। চুল এত সোজা হয় কি করে। এইসব মেয়েরা নিশ্চয় কি সব বিউটি পার্লার-টার্লারে যায় বোধ হয়। সেখানে কত টাকাই না তারা খরচ করে! অথচ তাদের গাঁয়ে তাদের কত আপন মানুষেরা আধপেটা খেয়ে থাকে। নার্সদের মত পরিপাটি শাড়ীপড়া দু'একজন মহিলা বাচ্চাদের আশেপাশে ঘুরছে। তাদেরই একজন এগিয়ে এল সানাউল্লাহর দিকে।

কারে চান আপনি? একটু খরখরে পুরুষালী গলায় সে জানতে চায়।

বাবুইকে নিতে এসেছি। মিনমিনে কন্ঠে জবাব দেয় সানাউল্লাহ।

কুন কিলাসে পড়ে?

ক্লাস থ্রি।

অ। আপনি ওর কি লাগেন?

আমি ...আমি ওর হুজুর।

দাড়ান মিস এর কাছে শুইন্যা আসি।

অবশেষে পাওয়া গেল বাবুইকে। চোখদুটো বড় বড় করে সে তাকিয়ে আছে হুজুরের দিকে। ভারী মজাতো।আজ হুজুর এসেছে তাকে নিতে। হুজুর তাকে কটন ক্যান্ডি আর ঝাল মুড়ি কিনে দিলো স্কুলের সামনে থেকে। মাম্মা এসব রাস্তার খাবার কখনোই কিনে দেয়না। হুজুর কি ভাল! একটু আগে তাকে অবাক করে দিয়ে দুটি রঙ্গিন বেলুনও কিনে দিলো হুজুর। বাবুইর ছোট্ট হৃদয়ে প্রশান্ত সংগীত বেজে উঠছে। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।

...

ইভানা বলল তুমি কি জানো আজ কত বড় বিপদ হতে পারত?

কেন কি হয়েছে ? নিরুত্তাপ গলা রেজার।

বাবুই আজ ছুটির পর অনেকক্ষণ ওয়েট করছিলো। আধঘন্টা পর কিন্তু আর স্কুলের কোন দায়িত্ব থাকেনা সেটা স্পষ্ট করে লেখা আছে। ভাগ্যিস হুজুর না বলেনি আমাকে। বেচারা সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেছে। আর নতুন জায়গা চিনতেওতো একটু সময় লাগে। উনার দোষ দিলেতো হবে না। এই শোন আমি ভাবছি হুজুর কে একটা পাঞ্জাবী গিফট করবো।

এক সাথে কথা গুলো বলে শান্তির নিঃশ্বাসের সাথে থামল ইভানা। রেজা ঠোট বেকিয়ে বলল ‘তোমার যত আদিখ্যেতা।’

সানাউল্লাহ পড়াতে আসে দুপুরের শেষে। এ সময় শুধু নাজেরাই বাসায় থাকে। সেই সানাউল্লাহর চা নাস্তার ব্যবস্থা করে। প্রতিদিনই দু'প্রকারের খাবারের সাথে চা বা কফি থাকে। আজও আছে। পুডিং,বাড়িতে বানানো সমুচা আর কফি। পুডিং এর পিসটা সে হালুম হালুম করেই শেষ করলো। সমুচাটা না খেলেও চলে। সব খেয়ে ফেললে কেমন দেখা যায়। কিন্তু এরা সমুচাটা ভাল বানায়।দোকানের মত সুজি দিয়ে নয়। তাছাড়া পুডিং খেয়ে কফি খেলে কফিতে চিনি কম মনে হবে। এই এক আজিব জিনিশ। এ বাসায় খেতে খেতে তার কেমন নেশার মত ধরে গেছে। চুমুক দেয়ার পরেই তার শরীর মন কেমন চনমনে হয়ে ওঠে। সানাউল্লাহ সমুচায় কামড় বসিয়ে বাবুইর পড়া শোনে।

সে একনিষ্ঠ মনে পড়ে যাচ্ছে ‘আলিফ যবর আ, আলিফ জের ই, আলিফ পেশ উ আ ই উ।’ এই এক পৃষ্ঠাই আরো একমাস পড়িয়ে যেতে হবে। যত দেরীতে আমপারা শেষ হবে ততই মঙ্গল। কোর-আন শরীফ ধরে ফেললে কেউ আর হুজুর বাসায় রাখতে চায়না। এমন সমস্যার মুখোমুখী সে বহুবার হয়েছে। কত যত্ন করে সে ভালভাবে পড়ানোর চেষ্টা করেছে!

যেইনা কোরান শরীফ ধরে, বেশ একচোট পোলাও কোরমা খাইয়ে যাওয়ার সময় বেতনটা দিয়ে বলে, হুজুর সামনে মাস থেকে আপনাকে আর আসতে হবে না। ও মোটামুটি ভালই শিখেছে তবে হুজুর আপনি কিন্তু মাঝে মাঝে বেড়াতে আসবেন।

সানাউল্লাহর মন কস্টে ভরে যেত। সামনে মাস থেকে আরেকটা টিউশনি সে কোথায় পাবে। ওদিকে হয়তো মা টাকা চেয়ে ফোন করে জানিয়েছে ছোট ভাইটার পরীক্ষার ফিস লাগবে। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ত তার। তবে এখন সে এত বোকা নয়। পড়ানোর টেকনিক সে বুঝে গেছে। এক আলিফ বা-ই তিন মাস ধরে পড়াতে হবে। আজকালকার বাচ্চারা এত ভক্তি সহকারে পড়ে না। কোনরকম গোজামিল দিয়ে একটা ঘন্টা পার করলেই হয়।

কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। ঠান্ডা কফি খেয়ে মজা নেই। সানাউল্লাহ পিরিচটা হাতে করে ডাইনিং স্পেসের দিকে এগোয়। কাউকে দেখা যাচ্ছেনা। রান্নাঘরের খোলা দরজা দিয়ে বুয়াকে দেখা যায়। সে দলামুচা হয়ে শুয়ে আছে। সানাউল্লাহ মৃদু কাশি দেয়ার চেস্টা করে। নাজেরা বুয়া ধড়ফড়িয়ে উঠে পড়ে কাপড় ঠিক করতে ব্যস্ত হয়। কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। সানাউল্লাহ পিরিচটা এগিয়ে দেয় নাজেরার দিকে।

'দেন গরম কইরা দেই।'

গরম কফিতে দ্বিতীয় চুমুক দিয়েই সানাউল্লাহর দেহ মন প্রশান্তিতে চঞ্চল হয়ে ওঠে। বাবুই মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে পড়ছে। পাতলা গোলাপী রং এর স্কার্ফ এ তার মাথা ঢাকা। ফর্সা নাদুস নুদুস গায়ে চাপানো ফ্রকটি ও গোলাপী রঙ এর ছোপ ছোপ প্রিন্ট। স্লিভলেস জামায় খোলা হাত দুটি মাখনের মত পেলব। পা দুটি ঝকঝকে তকতকে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। সানাউল্লাহর ইচ্ছে করে একটু আদর করে দিতে। ফোলা ফোলা গালে মস্ত এক চুমু খেয়ে সে আহ্লাদি স্বরে বলে, ‘সোনাটা আমার পড়তো মন দিয়ে পড়’।

হুজুর এইটা কি হবে?

বিশেষ একটি হরফের উপর তর্জনী চাপিয়ে বলে বাবুই। কই দেখিতো এদিকে আনো। বাবুইর তুলতুলে শরীরটা নিজের কোলে তুলে নেয় সানাউল্লাহ। বালিশের উপরে রাখা আমপারায় তর্জনী দিয়ে মাথা দুলিয়ে পড়তে থাকে বাবুই। সানাউল্লাহর মন অবশ্যি ঐ পবিত্র অক্ষরগুলোতে নেই। কোন অপবিত্র দোলায় দুলে অপার্থিব এক আনন্দে ভেসে চলেছে কি অপার বিস্ময়ে। বাবুইর তুলতুলে বাহুতে মৃদু চাপ দেয় সে নিজের অজান্তে। দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে তার হাত। চুম্বকীয় এক অনাবিল আকর্ষণে গতি পায় তার দেহ মন। লক্ষে পৌঁছানো ছাড়া যেন তার স্থিরতা নেই।

সিজোফ্রেনিকদের মত কানের কাছে অচেনা কন্ঠ শুনতে পায় সানাউল্লাহ। অচেনা কন্ঠ হলেও বানীগুলো তার পরিচিত। ‘ঈমান ওয়ালাদের মধ্যে সব চাইতে পরিপূর্ণ মুমিন ঐ ব্যক্তি যার চরিত্র সব চাইতে ভাল।’ জিনা সবচেয়ে জঘন্য পাপের নাম। চোখ দিয়ে কু-দৃষ্টি করলে চোখের ব্যাভিচার, হাত দিয়ে করলে হাতের...এভাবে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে কেয়ামতের দিবসে কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হবে। তারা সাক্ষ্য দেবে ‘হে আমার পরোয়ারদেগার এই ব্যক্তি আমাকে দিয়ে এই অশ্লীল পাপ করিয়েছিল’। আচমকা আসা ঝড়টি যেন সানাউল্লাহর মগজ থেকে আচমকাই বিদায় বার্তা জানায়, দেহের বাকী অঙ্গ প্রত্যঙ্গরা তাতে সায় দেয়। বাবুইর উরুর কাছে আসা হাতটি ধীর লয়ে সরিয়ে নেয় সে। একটু যেন নিজের কাছেই বিব্রত হয়ে পড়ে ।বাবুইকে কোল থেকে নামিয়ে বালিশ থেকে আমপারাটি হাতে নেয়। বিড়বিড় করে দশ বার উচ্চারণ করে ‘আউজুবিল্লাহিমিনাশাইতনীর রাজিম।’ এতে শয়তানের অসওয়াসা থেকে মুক্তিলাভ হয়।

মাসখানেক পরের কথা। ইভানা একটু আগেই অফিস থেকে বের হয় বাসার উদ্দেশ্যে। আজ বাবুই কে নিয়ে শপিং এ যেতে হবে। তার জন্মদিনের শপিং। কবে থেকে যে সে তার জন্মদিনের সব প্লানিং করছে।কাকে কাকে বলবে, তার বন্ধুদের সবাইকে বলতে হবে। এই কদিন ধরে এইসব প্লান-ই মায়ের গলা ধরে করছে। আর শপিং এ যাওয়ার জন্য বায়না। আজ তার সব ইচ্ছে পূরণ করবে সে। ফ্লাটের দরজায় দাড়িয়ে কলিংবেল চাপতে যেয়েও হাতটা সরিয়ে নিলো। দরজা খোলা। ড্রয়িংরুমে কেউ নেই। পুরোবাড়ি সুনসান নীরব। রান্নাঘরের কাছে উকি দিতেই নাক ডাকার শব্দ শোনা গেলো। ফ্লোরে পড়ে নাজেরা বেহুশের মত ঘুমোচ্ছে।বাবুই কোথায়! ইভানার বুকটা হঠাৎ ছলকে উঠলো। দ্রুত পায়ে শোবার ঘরে যেতেই বাবুইকে দেখা গেল তার খাটে আড়াআড়িভাবে পড়ে আছে চিৎ হয়ে। পা দুটি পড়ে আছে মেঝেতে। সারা গায়ে কোন কাপড় নেই।গায়ের জামাটা দিয়ে মুখটা শক্ত করে বাধা। ছোট্ট পেন্টিটা পড়ে আছে মেঝেতে। উরুসন্ধিতে রক্তের ছটা । দূরে বালিশের উপর তার সিপারাটা পড়ে আছে।

খুব গরম পড়েছে বলে হুজুরকে সে শোবার ঘরে এসে এসির মধ্যে পড়াতে বলেছিলো। মেয়েটা তার গরম সহ্য করতে পারে না। রেজা তর্ক করে বলেছিলো শোবার ঘরে কেন পড়াবে, ইন্ডিসেন্ট ব্যাপার। তোমার সব কিছুতে বাড়াবাড়ি। উত্তরে ইভানা দাঁতে দাঁত চিপে রেজাকে দশটি কথা শুনিয়ে দিয়েছিল ‘একদম মাতবারি করতে আসবানা আমার উপরে, হুজুর খুব ভাল মানুষ। খুব ভাল মানুষ। ’


  • ২৮৭ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শামীমা জামান

কথা সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

ফেসবুকে আমরা