যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেষ্ট ব্যাটাই চোর

শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯ ২:২৬ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


যা কিছু খারাপ- হুজুররা বলেন, তার সবই নারীর দোষ। বেশ ক'টি ধর্ম সম্মিলনের নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দূর থেকে মাইকে শুনে বিস্মিত হয়েছি। এমন কথা প্রকাশ্যে বলা যায়? কিন্তু বলেতো চলেছে।

এক পুরুষের অপরাধে আমাদের দেশে সমষ্ঠিগত ভাবে পুরুষ জাতিকে দায়ী করা হয় না! কিন্তু আজও এক নারী অপরাধ করলেই হল, পুরো নারীজাতি ধরে টান দেয় পুরুষ। এবং বিচিত্র কথা এই যে - নারীকে অমর্যাদা, নারীকে আক্রান্ত, নারীকে ধর্ষন করে নারীরই যোনিপথে আসা কিছু পুরুষ। তবে এসব অন্যায়ে কিছু নারীর যুক্ততাও মেলে কদাচিৎ। ধারনা করি নারীদের এমন হবার কারণ নিজের বঞ্চিত জীবনের ইতিহাস বা নিজে যা পাচ্ছে না তা অন্য কেউ কেন পাচ্ছে তার প্রতি মানবিক ঈর্ষা। তবে প্রধান কারন বাড়ির পুরুষের ভয়, সংস্থা কর্মকর্তার ভয়, সহযোগী পুরুষের ভয়।

পুরুষদের এমন হবার বহুবিধ কারণ এর অন্যতম হচ্ছে তাদের নিজেদের জন্য এমন সমাজ তৈরি করা যাতে গৃহদাসী পাওয়া নিশ্চিত হয়। নিশ্চিত হয় নিজ যৌনতার সর্ব চাহিদা।

কিন্তু নর যেমন দেহবলে বলিয়ান এবং নারীদের চেয়ে এগিয়ে, নারীরা সে জায়গায় নৈতিকতা ও বুদ্ধিমত্ত্বায় এগিয়ে এ প্রমানিত সত্যটি পুরুষগন জ্ঞাত আছেন। কিন্তু তারা সৃষ্টির এই সুন্দর ও পরিপূরক ব্যাপারটি পরাজয় হিসেবে দেখেন। দেহবলে পরাজিত নারী তা দেখতে চায় সম্পূরক নির্যাস হিসেবে।

পুরুষগন নিজের মা’কে ভালবাসে-বোনকে ভালবাসে, বাসে মেয়েকেও। স্ত্রীকেও বাসে তবে তিনি সারাজীবন ‘পর’ই থাকেন। কিন্তু সম্পত্তির সম অধিকার দেবার সময় আবার সব পুরুষের (ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে) এক রা উঠে।

সে পুরুষ ব্যাক্তিগত ভাবে যতই অকেজো অপদার্থই হোক প্রচলিত প্রথার দ্বারা মেয়েদের শাসন করে আটকে রাখে নিজের স্বরূপ ঢেকে রখার জন্যই। নিজের মেয়ে অত্যাচারিত হলেও তার মোকাবেলা করে একক ঘটনা হিসেবেই। এতে করে নিজের তখত এ তাউস বজায় রয়ে যাচ্ছে এত যুগ ধরে।


  • ২১১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শামীম আজাদ

কবি, লেখক।

ফেসবুকে আমরা