আহমেদ সায়েম

লেখক একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট। এমন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখেন যেখানে নারী পুরুষের কোন বৈষম্য থাকবে না।

সাইফুল বাতেন টিটো প্রসঙ্গে কিছু কথা

একজন পামর, অবিমৃষ্যকারী নিয়ে খুব বেশি কিছু বলা উচিত নয়। আবার না বললেও তাঁর ঔদ্ধত্যের পালে হাওয়া দেয়া হবে। তাঁর সাথে আমি যতটা সময় থেকেছি এবং কথা বলেছি, তাঁকে আমার কখনও স্বাভাবিক মনে হয় নি। একজন নীচ স্বভাবের বহুগামী, বহুকামী মানুষ তিনি। আচার-আচরণ বেয়াদব এবং খোলসের আবরণে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে সাইফুল বাতেন টিটো বরাবরই অসম্ভব অসৎ মনের। আমি লক্ষ্য করেছি এবং শুনেছি, স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থের জন্যই সে কাক হয় ময়ুর সাজে। যে সিদ্ধি হাতে প্রেমের বস্র হরণ করেন!

আবার তাঁর লেখক স্বত্বা নিয়েও তাঁর হামভড়া ভাব আছে। একদিন তিনি বিশেষ খ্যাত লেখক হয়ে উঠবেন। কিন্তু তা তাঁর মতে নৈতিক স্খলনের পথ ধরেই, তিনি তা হবেন। কিন্তু তিনি এই প্রতিভূ কাদের হবেন? তাঁর বইয়ের তিন পাতা পাঠে তাঁকে আমার আহামরি কিছু লিখিয়ে মনে হয় নি। তাঁর বই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্তৃক নিষিদ্ধ হবার কারণেই তিনি কিছুটা পরিচিতি পেয়েছেন। এটাকে তিনি পুঁজি করে তাঁর চারপাশটাকে চাপকাচ্ছেন! স্বীয় নীতি- নৈতিকতা খুইয়ে দম্ভের বুলি আওড়াচ্ছেন?

সাইফুল বাতেন টিটো কেনো আর সাধারণ দশ জনের মতোই ধর্ষকামী তা তাঁর বলা কথাতেই সহজেই অনুমেয়। ধর্ষক এবং ধর্ষকামী মনস্তত্ত্বকে বুঝাতে আমিও আমার একটি লেখাতে ফ্রয়েড-এর কিছু কথা উল্লেখ করেছিলাম। আশ্চর্য হলেও সত্য টিটো সেই কথা উল্লেখ করে তাঁর কৃতকর্মকে ধূর্ত শিয়ালের মতো আড়াল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে সেই কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় নি তখন। তবে কথাগুলো প্রাসঙ্গিক বলে আবারও স্মরণ করা যাক।

বিখ্যাত নিউরোলোজিস্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ফ্রয়েড আসলে কি বলেছিলেন নৈতিকতার প্রশ্নে! ফ্রয়েড বলছেন; মানুষ মূলত তিনটি সত্ত্বার সমন্বয়ে গঠিত। ইড, ইগো এবং সুপার ইগো। ‘ইড’ মানুষকে জৈবিক সত্ত্বার দিকে নিয়ে যায়। মানব মনের স্বভাবজাত চাহিদা পুরণে ‘ইড’ বার বার উৎসাহিত করে তোলে। সহজ করে বললে, মানুষের মন যা চায় তাই পূরণে এই ‘ইড’ কাজ করে। আর ‘ইড’ মানুষ এবং পশুর মাঝে সমানভাবে বিরাজমান। ইড-এর কোনো মানবিক দিক বা বিকাশ নেই। এর পুরোটায় মানুষ কিংবা পশুর লোভ-লালসা আর কাম চিন্তায় ভরপুর। ‘ইড’ মানুষের ভিতরের এক প্রকার সুপ্ত পশু যার প্ররোচনায় মানুষ যেকোনো অসামাজিক, অনৈতিক, অপরাধ থেকে শুরু করে খুন-ধর্ষণের মতন বর্বর কর্মকাণ্ড করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

‘ইড’ আর ‘সুপার ইগো’র মাঝখানে বসবাস ‘ইগো’। ‘ইগো’র কাজ হচ্ছে ‘ইড’ এর কাজগুলোকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বাস্তবায়ন করা, সে দিকে মানুষকে প্ররোচিত করা।

আর ‘সুপার ইগো’ হচ্ছে মানুষের বিবেক। ‘ইড’ যখন জৈবিক কামনা বাসনা পুরণ করতে উদ্দীপ্ত করে তোলে, তখন ‘সুপার ইগো’ একে বাধা দেয়। ‘সুপার ইগো’ মানুষকে সব সময় মানবিক হতে সহায়তা করে, ভাল কাজ করতে উদ্দীপ্ত করে। যদিও সুপার ইগোর প্রতি অবিচল থাকা নির্ভর করে ব্যক্তির নৈতিক, পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সামাজিক শিক্ষা এবং মূল্যবোধের উপর।"

তাহলে সাইফুল বাতেন টিটো কি ইড ও ইগোতেই রয়ে গেছে? এবং আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সাইফুল বাতেন টিটোর অভাবও নেই।

ঘটনাটি আমার জীবনসঙ্গীর সাথে ঘটেছে বলে নয়, ঘটনাটি টিটোর সহধর্মিণীর বেলায়ও ঘটতে পারে বা পারতো? তাহলেও আমদের প্রতিবাদ অভিন্নই হতো।

তাই আওয়াজটা এই হোক যে, আসক্ত, অসুস্থ মানুষের সেবা জরুরি প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে সাইফুল বাতেন টিটো ভয়াবহ ড্রাগ এডিক্টেক মানুষ। তাঁর আশু চিকিৎসা প্রত্যাশা করছি। নাহলে তাঁর দ্বারা যে কোনো সময়ে যে কোনো মেয়ে/ছেলে ভয়াবহ ভাবে আক্রান্ত এবং প্রতারিত হতে পারে।

আমরা সবকিছুর সমন্বিত প্রচেষ্টায় যুগোপযোগী মূল্যবোধের জায়গা তৈরি করতে চাই, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বরণে রেখে। আমরা এ-ও জানি এ আশা সুদূরপ্রসারী। তবুও আলো ও আলোকিত মানুষ এবং সুস্থ্য ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রচেষ্টা সবার মাঝে বিরাজ করুক।

2157 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।