বিযের ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে নারীর কত প্রতিভা

রবিবার, অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১২:৫৩ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


আমার বাচ্চাকালের কিছু মেয়ে ক্লাসমেট আছে,যারা লেখাপড়ায় ভালো ছিলো। তারা ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার জন্য রীতিমত মারামারি, পিটাপিটি করতো। একে অন্যের মুখও দেখতো না! এমনকি তাদের মায়েদের - মায়েদের মধ্যেও রেশারেশি,মন কষাকষি, মুখ কালাকালি ভাব থাকতো।

তো তারা স্কুল পাশ করার পর, কলেজেও এক নাম্বারের জন্য রীতিমতো পিটাপিটি, এক নাম্বার বেশি পাওয়ার আশায় রাত দিন এক করছে। শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি, কোচিং চষে বেড়াইছে। কলেজ পাশ করে সরকারি মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্যও দিনরাত এক করছে।

যাক কেউ সরকারি, কেউ বেসরকারি মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হইছে। তারপরও তাদের নিজেরদের মধ্যে মুখ কালাকালি ছিলো। কারণ যারা সরকারিতে পড়তে পারে নাই, তাদের খোটা দিছে, দেখলে মিটমিটি হাসছে। তো এখন দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেলে মাত্র দুই তিন বছর পড়েই তাদের লেখাপড়ায় মন চলে গেছে তাদের বিয়া করার ভুতে পাইছে। একেক জনে বিয়া করে চলছে। আচ্ছা মাঝ পথে যদি বিয়াই করবি তাইলে সারাজীবন পিটাপিটি করলি কেনো? কেনো সময় নষ্ট করলি? কেনো টাকাপয়সা খরচ করলি?

আচ্ছা, বিয়ে মানে (আমি বুঝি) বন্দী হওয়া। তাই বলে আমি বিয়ে করতে নিষেধ করছি না শুধু একটু সময় নিয়ে জীবনটাকে একটু শক্ত ভিত দিয়ে বিয়ে করতে বলি প্রত্যেকটা মেয়েকে। মেয়েদের বলি, জীবন একটাই, বাঁচতে শেখো হে!

বিয়ে করলে বেশির ভাগ মেয়েদেরই জীবন একটা ছকে বাঁধা পড়ে যায়। কোনো শক্ত পার্সোনালিটির মেয়ে ছাড়া মাথা উচু করে বাঁচতে পারে না। বাঙালী সমাজ এখনো, মেয়েদের স্বাধীন জীবনে বিশ্বাসী নয়। তারা এখনো চায় মেয়েরা ঘরের দাসী হোক। তারা জীবনে চলার জন্য বন্ধু চায়না চায় ঘর-বাইর দক্ষ হাতে সামলানোর পার্মানেন্ট দাসী যে চাইলেই সবকিছু ছেড়ে যেতে পারবে না। তারা বলে থাকেন- সংসার, বাচ্চা লালন-পালন করাতেও শিক্ষা দরকার তাই তারা শিক্ষিত মেয়ে চায়। আমি চারিদিকে দেখি প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের তারা ইর্ষা করে। মেয়েদের খ্যাতি তারা পছন্দ করে না এবং এই সুযোগে খুব সাবধানে তারা প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের বাচ্চা উপযুক্ত মানুষ না হতে পারলে বলে, মায়ের খেয়ালের অভাবে বাচ্চা মানুষ হয়নি অথচ একজন বাচ্চা মানুষ করার কাজ কি কেবল মায়ের? বাবা কিংবা পরিবারের অন্য কারোর কোনো দায়িত্ব নেই? কিন্তু বাচ্চা যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সমাজ কিন্তু বাবাকেই বাহবা দেয়।

আমি মনে করি একজন বাচ্চা মানুষ করার দায়িত্ব কিন্তু মা বাবা উভয়ের। আর একজন মেয়েরও তো ইচ্ছা হয় প্রতিষ্ঠিত হতে। সেই মেয়েটিকে নিয়েও তো তার মা বাবার স্বপ্ন ছিলো। মেয়েদের এসব ইচ্ছা পুরণ করা কি অপরাধ? তাই প্রত্যেকটা মেয়েকে আমি বলি নিজে প্রতিষ্ঠিত হও, বিপদে পড়লে এই সমাজ তোমার দিকে ফিরেও তাকাবে না। মেয়ে, সমাজের এই ভেদাভেদ, পুরুষতান্ত্রিকতা ঘুচিয়ে দেওয়ার কাজ তোমারও।


  • ৩৪৪৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সাবরিনা শারমীন বাঁধন

সংস্কৃতিকর্মী

ফেসবুকে আমরা