দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান, ঝামেলা চুকে যাবে

সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮ ৮:১৮ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


ফ্রান্সের জয়ের মধ্য দিয়ে যবনিকা নামলো ফুটবল বিশ্বকাপ রাশিয়া'১৮ এর। এই দীর্ঘ যাত্রায় খেলোয়াড়রা কত ঘাম ঝড়ালো, কেঁদে বুক ভাসালো কত ফুটবল প্রেমী, আনন্দে নাচতে নাচতে চোখের ঘুম হারালো কত জয়ী; শুধু আমাদের পরিবর্তন হলো না। আমরা যে বৃত্তে ছিলাম, চিন্তা চেতনার সেই বৃত্তেই রয়ে গেলাম। নিজের সংস্কৃতিকে ভালোভাবে ধারণ করতে পারলাম না। আবার অন্যের সংস্কৃতিকেও সম্মান করতে পারলাম না। আমাদের চিন্তা যেয়ে বারবার ব্রা, মেক্সি আর বিকিনিতে ঠেকে কেনো? এগুলো কি পোশাক নয়?

একজন সুস্থ পুরুষ একজন নারীকে মনে মনে চাইতেই পারে এতে দোষের কিছু আসলেই আছে কি? একজন স্বাভাবিক নারীও একজন পুরুষকে চাইতেই পারে। এটাও স্বাভাবিক। সেটা সব ক্ষেত্রেই সমান অর্থ বহন করে। একটা পুরুষ যখন পুরুষকে চায় তার কামনায়। এটাও তাদের জন্য ভুল নয়। বা যে নারী, নারীকেই তার বাহুডোরে পেতে চায় তাকেও আমি দোষ দেবো না। কারণ সবার ক্রমোজম কখোনোই এক নয়। সবার চাওয়া বা চাইবার ধরনও এক হতে পারে না।

কিন্তু সমস্যা আমাদের মনে। ছিঃ ছিঃ করতে আমাদের ভালো লাগে। কোনো সৈকতে বা সুইমিংপুলে কেউ বিকিনি পড়ে থাকলে তা যথাযথ সময় উপযোগী পোশাক। দৃষ্টিকটু তার কাছে, যার মস্তিস্কে এ পোষাকটা স্বাভাবিক পোষাক হিসেবে স্বীকৃতি পায় নি। সমস্যা সেখানেই। সমস্যা মেনে নেয়াতে, সমস্যা মানিয়ে নেয়াতে।

দু’জন পুরুষ বা দু’জন নারী যদি প্রেম করে বা সেক্স করতে চায়। আমরা ছিঃ ছিঃ করে উঠবো। কেনো? আমাদের ব্রেন এটাকে স্বাভাবিক সম্পর্ক মনে করে না তাই। কিন্তু যদি ওই পুরুষদের বা নারীদের দিক থেকে দেখতে শেখেন। যারা নিজে পুরুষ হলেও অন্য পুরুষের ছোঁয়াতেই রাঙ্গা হয়ে ওঠে। বা সেই নারীর কথা ভাবেন যে অন্য কোনো নারীর পাশ ঘেঁষে বসলেই শিহরিত হয়। কি দোষ তাদের অনুভবের? জন্মগতভাবেই এটা তারা পেয়েছেন। এই অনুভুতি পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই।

যেখানে আপনি আপনার দেখার ভঙ্গি পরিবর্তন করলেই ঝামেলা চুকে যায়। সেখানে আপনি বেচারাদের জন্মগত অনুভবই পাল্টে ফেলতে চান! মাথা ঠান্ডা করে ভেবে দেখুন। আপনি আপনার জন্মগত কোনো কিছু কখনোই কি পরিবর্তন করতে পারবেন? আপনার চেহারা, গায়ের রং, শরীরের আকার ও তার গঠন ইত্যাদি। তবে কেনো অন্যকে আপনার মনের মতো, আপনার মতের মতো দেখতে চান?

প্রতিটি জীবনেরই অধিকার আছে নিজের মতো করে বাঁচবার। বাঁচতে দিন। যে হাঁটু দেখাতে চায় বা বুক বা মুখ, তাকে দেখাতে দিন। তাকে বাঁধতে না চেয়ে নিজের দৃষ্টিকে বাঁধুন। জ্ঞানকে চাইলেই বাড়ানো বা কমানো যায়। ওটা মানুষের হাতেই আছে। চেষ্টা করে দেখুন। আপনার মনই সবসময় প্রফুল্ল থাকবে।


  • ৫৯১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

রুকাইয়া সাওম লীনা

ফ্যাশন ডিজাইনার।

ফেসবুকে আমরা