নিরন্তর যোদ্ধা সীমা কুশওয়াহা

শনিবার, মার্চ ২১, ২০২০ ২:৪৬ PM | বিভাগ : আলোচিত


সাত বছর ধরে লড়াই। তাও আবার বিনা পারিশ্রমিকে। শেষমেশ নির্ভয়ার চার ধর্ষককে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়েই দিলেন সীমা কুশওয়াহা। ইনি সেই আইনজীবী যিনি গত সাত বছর ধরে ন্যায়বিচারের জন্যে আদালতে যুক্তিতর্কের লড়াই করেছেন।

ইনি সেই আইনজীবী যিনি নিজের পেশার খাতিরে নয়, দীর্ঘদিন এই মামলা লড়েছেন শুধু মানবিকতার খাতিরে। গত ৭ বছর ধরে নির্ভয়ার পরিবারের সুখ দুঃখের সঙ্গী ছিলেন তিনি। না, নির্ভয়ার বাবা-মায়ের কাছ থেকে মামলা লড়ার জন্যে একটি টাকাও পারিশ্রমিক নেননি তিনি।

বারবার তিনি নির্ভয়ার ধর্ষকদের চরম শাস্তির দাবি করে এসেছেন। কিন্তু মাঝের লড়াইয়ে বারবার অজুহাত খাড়া করছিলেন অপরাধীদের আইনজীবী এপি সিং। শীর্ষ আদালত বারবার ফাঁসির সাজা শোনালেও এপি সিং একের পর এক পথ খুঁজে বার করছিলেন আসামীদেরকে বাঁচানোর। সীমা একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এভাবে ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অপরাধীরা। ইচ্ছা করে দেরি করছে। কিন্তু ভারতের ন্যায়বিচার এসবের সুযোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত সেই সমস্ত সুযোগ পেয়েছে অপরাধীরা। কিন্তু ন্যায়বিচারে কাছে হেরে গিয়েছে।

এপি সিং বিখ্যাত তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য। শুনানি চলাকালীন তিনি বলেছিলেন যে যদি তাঁর মেয়ে নির্ভয়ার মতো রাতে একা বাইরে থাকত, তাহলে তিনি তাঁকে পুড়িয়ে মারতেন। এতো ঘৃণ্য মন্তব্যের পরেও লড়াইয়ে দাঁতে দাঁত চেপে পড়েছিলেন সীমা। একজন মহিলা হয়ে তিনি লড়েছিলেন আরেক মহিলার জন্য। দিনের পর দিন, শুনানির তারিখের পর তারিখ এসেছে, তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি। বারবার তিনি বলেছিলেন, অপরাধীরা যদি চায়, তাহলে তারা আগেই ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারতো। এতোদিন কেনো সময় নিলো তারা?‌ কিন্তু এই পথেও আসলে বিচারকে পিছিয়ে দিতে চেয়েছিলেন এপি সিং। সেটা বুঝতে পেরেও কিছু করার ছিলো না সীমার।

সীমা কুশওয়াহাকে অভিনন্দন জানান নির্ভয়ার মা আশা দেবী। তিনি বলেন, ওই আইনজীবী ছাড়া এই যুদ্ধে জেতা সম্ভব হতো না তাঁদের পক্ষে।ফাঁসির দিন সকালে নির্ভয়ার মা আশা দেবীর সঙ্গে এসেছিলেন সীমা কুশওয়াও। তিনি বেরিয়ে এসে বলেছেন, আজ দেশের মেয়েরা ন্যায়বিচার পেয়েছে। এতোদিন ধরে আমরা যে লড়াই লড়েছি, আজ তাঁর বৃত্ত আজ সম্পূর্ণ হলো।

নির্ভয়ার গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত মুকেশ, অক্ষয়, বিনয় এবং পবনকে শুক্রবার ভোরেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো নির্ভয়ার আত্মা ।

গত সাত বছর ধরে আইনের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে নির্ভয়ার বাবা–মাকে। দিতে হয়েছে ধৈর্য্যের পরীক্ষাও। অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন নির্ভয়া। ফাঁসির একদিন আগে বৃহস্পতিবারও দিল্লি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও আবেদন করে বাঁচার চেষ্টা করে অপরাধীরা। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা বিফলে যায়। নজিরবিহীনভাবে একসঙ্গে চার আসামিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় দিল্লির তিহার জেলে।

মাথা নত প্রণাম সীমা কুশওয়া, ইতিহাস তোমার লড়াইকে সম্মান করবে নিশ্চয়।


  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা