প্রশাসক

নারী প্রশাসক। একটি অনলাইন ভিত্তিক নারী জাগরণের প্রয়াস

ধর্ষণ, যৌনতা আমার নিজের সাথে নিজের কথা

এদেশের পুরুষ কামুক না ধর্ষক? সত্যিকারে কাম বা যৌনতা কত পার্সেন্ট এইদেশের পুরুষ জানে? বাংলাদেশে ধর্ষণ বা নারীর প্রতি অন্যায় যৌন আচরণের খবর পড়ে পড়ে যেকোন বাঙালি নারীর মনে এই প্রশ্ন জাগতে পারে। আমার মনে তো এই প্রশ্ন আসছে। আচ্ছা প্রিয় নারীর সাথে (অবশ্যই তার সম্মতিতে) সংগম কতখানি আনন্দ কতটুকু সুখ পাওয়া যাইতে পারে, এটা কয়জন বাঙ্গালী পুরুষ জানে? এইখানে আরো একটা প্রশ্ন আছে, অপরপক্ষের কোন সাড়া টাড়া ছাড়া কিভাবে একজন পুরুষ উত্তেজিত হয়? জোর করে ধস্তাধস্তি করে আসলে কেমন সুখ পায়? (এর উত্তর একজন ধর্ষক দিতে পারবে, আমি পারব না) এখন কথা শুধু বাঙালি বাঙালি করছি কেন? সভ্য, স্বশিক্ষিত বাঙালি পুরুষও আছে। যদিও তাদের সংখ্যা কম। এই কমটাকে বাড়ানো যায় না?


ধর্ষণ তো সব দেশেই হয় কম আর বেশি। তাহলে চুপ চাপ ডুগডুগি বাজাব।কিছুই কি করার নাই? আর কত নারী ধর্ষিত হলে এইটাকে বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা হিসেবে ধরা হবে। আচ্ছা, ধরেই নিলাম এখন অনেক বেশি রিপোর্ট হয়। মেয়েদের সাহস বাড়ছে, লজ্জা কমছে। এই জন্য তারা পুলিশে খবর দেয়, মিডিয়াকে জানায়। আর এখনতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারনে ব্যাপারটাকে আরো বেশি চটকানো হয়। তারমানে আগেও ধর্ষণ হইতো। কম না বেশি হইত মনে হয়। খালি খবর জানতাম না। ধর্ষণ তেমন বড় কিছু না স্রেফ সামান্য শারীরিক ক্ষতি বা আঘাত। আঘাতের মাত্রা বুঝে দায়ী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া উচিত। এইভাবে আমরা ধর্ষণ বা রেইপকে নরমালাইজ করলাম।
(তারপর দিন শেষে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় হঠাৎ আমার বোনের কথা মেয়ের কথা মনে পড়ল। আমি নারী হওয়ায় আমি আমার নিজের কথাই ভাবলাম। নাহ, সামথিং ইজ রং। মনে হইল, কোথাও কিছু একটা চেঞ্জ করতে হবেই।)


কিন্তু ধর্ষণের পর খুন করা? মারতে মারতে মেরে ফেলা। নির্মম নির্যাতন অত্যাচার করে হত্যা কেন করে পুরুষ। বাঙালি পুরুষ এত নিষ্ঠুর। খারাপ লাগে না ভাবতে? একবার ভাবছেন, এই মাত্র যে শরীরটাকে আনন্দের জন্য ব্যবহার করছেন, সেই শরীরটাকেই আবার একটু পর ক্ষত বিক্ষত করে হত্যা করছেন। বীর্যপাত। ব্যস। তারপর, হায় হায়, একি করলাম! এখন জানাজানি হবে। থানা পুলিশ হবে। তারচেয়ে দে শালীরে মেরে। এটাই তো মনেহয়, ধর্ষণের পরে ধর্ষকের সাইকোলজি। এখন কথা, হলো যৌনতাটাকে আমরা মাথায় তুলে তুলে এমন জায়গায় নিয়ে গেছি যে, আসলে পুরাটাই অনেক জটিল কঠিন আরাধনার ব্যাপার হয়ে গেছে। পুরাটাই অবদমনের ফসল। এই ফসল এতটাই পচা আর ভয়ংকর যে, একটা দেড় দুই বছরের বাচ্চা মেয়ে (কোন কোন ক্ষেত্রে আরো কম) দেখলেও প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ যৌন কামনা অনুভব করে? কখনো এর বিপরীতটা ভাবছেন? একজন নারী কি এমন অনুভব করে ছোট একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখে? করে না, কারন বায়োলজিক্যালি সে এইটা করবে না। পুরুষ কেন করে ? মনে প্রশ্ন আসতেছে, পুরুষরা কি পিছায় আছে নারীর চেয়ে? জৈবিক,মানসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সব ধরনের বিবর্তনে পুরুষরা আসলে কি পিছায় আছে? যে প্রজননের ভূমিকার কারনে নারীকে দূর্বল ভাবা হইত আসলে সেই কারনেই নারীরা আগায় গেছে। পুরুষ এখনো পুরাপুরি সুসভ্য হতে পারে নাই। এখন কি তাহলে পুরুষের এই অসভ্য আচরণকে সভ্য সমাজ মেনে নিবে? (জানি সব পুরুষ এমন না। )


আমাদের চেয়ে উন্নত সমাজে কি অবস্থা? এই তাদের নতুন নতুন আবিষ্কার গবেষণা নানারকম সৃষ্টিশীল নির্মাণ শৈল্পিক বিনোদনমূলক কর্মকান্ড খেলাধূলা প্রযুক্তি (যেগুলো আমরা কিছু কিছু আমদানিও করি) এইগুলো কি এই জঘন্য সেক্স চাহিদাকে ভুইলা থাকার জন্য তাদের সাহায্য করে না? আর যৌনতাটাকে সহজভাবে নেওয়া জীবন যাপনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে নেওয়া। ছেলে মেয়েদের শৈশব কৈশোরে যৌনতার সঠিক শিক্ষা দেয়া এইসব? কেউ কি লিখে গেছে সেক্সচুয়ালিটির নিয়ম? আমরাই তো লিখি সব। আমরা মানে মানুষরা।

 

( লেখাটি বিপাশা চক্রবর্তীর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া হয়েছে)

49 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।