স্যানিটারি প্যাডে ভ্যাট নয়, বরং পিরিয়ড পোভার্টি রোধ করা হোক

সোমবার, জুলাই ১, ২০১৯ ৭:৩২ PM | বিভাগ : আলোচিত


নারীদের ঋতুকালীন ব্যবহৃত স্যানিটারি পণ্যের ট্যাক্সকে সাধারণভাবে ট্যাম্পুন ট্যাক্স বলা হয়। (ট্যাম্পুন হলো স্যানিটারি প্যাডের বিকল্প। যারা এটি সম্পর্কে জানেন না, তারা ইউটিউবে গিয়ে এর ব্যবহার পদ্ধতি দেখে আসতে পারেন।)

ট্যাম্পুন ট্যাক্স নিয়ে বহু দেশেই বিতর্ক তথা রাজনীতি হয়েছে এবং হচ্ছে। সবচেয়ে নিকটতম সময় ভারতে এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ট্যাক্স বাতিল করেছে।

অস্ট্রেলিয়াতে ট্যাম্পুন ট্যাক্স নিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিতর্ক চলার পরে এই বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ট্যাক্স বাতিল হয়েছে। ইউরোপের অনেক দেশেই ট্যাম্পুন ট্যাক্স রয়েছে, তবে কিছু কিছু দেশে ট্যাক্সের হার কমানো হয়েছে বা বাতিল করা হয়েছে।

যেহেতু পুরুষদের এ জাতীয় কোনো পণ্যের প্রয়োজন পড়ে না, তাই ট্যাম্পুন ট্যাক্সকে লিঙ্গ বৈষম্য হিসেবে দেখা হয়। এর উপযুক্ত কারণ আছে অবশ্যই। একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া যাক।

ধরে নেয়া যাক, একটি পদে একজন পুরুষ ও একজন নারী সমান বেতনে চাকুরি করছে। তারা দু'জন সমান আয় করলেও নারীটিকে তার জীবনের ত্রিশ বা ততোধিক বছর স্যানিটারি প্যাড/ট্যাম্পুন কিনে যেতে হবে। এতে তাকে পুরুষটির চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হবে। তার ওপর যদি ট্যাক্স আরোপ করা হয়, তাহলে তার ব্যয়ের পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। কিন্তু নারীটিকে এ বাবদ কোন অতিরিক্ত বেতন দেয়া হবে না।

পৃথিবীতে কেনিয়া হলো প্রথম রাষ্ট্র যেখানে নারীদের ব্যবহৃত স্যানিটারি পণ্যের ওপরে ট্যাক্স বাতিল করা হয়। ২০০৪ সালে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। কানাডা বাতিল করে ২০১৫ সালে।

যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে বর্তমানে ট্যাম্পুন ট্যাক্স ক্রমশ বাতিল হচ্ছে বা বাতিলের তাগাদা চলছে, সেখানে বাংলাদেশে এ জাতীয় পণ্যে নতুন করে ট্যাক্স আরোপ করা উল্টো দিকে হাঁটার সামিল। একজন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকতে রাষ্ট্রের এ ধরণের সিদ্ধান্ত খুবই মর্মান্তিক।

স্যানিটারি প্যাডে ভ্যাট/ট্যাক্স আরোপের ক্ষেত্রে সম্ভবত ভিন্ন একটা কারণ কাজ করে। যেহেতু যুগ যুগ ধরে আমাদের মা-দাদীরা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার না করেই কাটিয়ে এসেছেন, তাই বাংলাদেশের পুরুষরা মনে করে স্যানিটারি প্যাড একটা চয়েজ (choice), অতি অবশ্য প্রয়োজনীয় (essential) কোন পণ্য নয়। বাস্তবতা হলো, আমাদের মা-দাদীরা মাসিকের সময়ে যেসব জিনিস ব্যবহার করতেন, তা খুবই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। তারা যে এ কারণে কতো রোগে ভুগতেন, তার খবর আমাদের বাবা-দাদারা রাখতেন না, রাখার প্রয়োজনও মনে করতেন না।

'পিরিয়ড পোভাটি' (period poverty) নামে একটা শব্দবন্ধ ইদানিংকালে চালু হয়েছে। এই টার্মটি দ্বারা মাসিকের সময়ে স্বাস্থ্যকর পণ্য ব্যবহার করার অসামর্থকে বুঝায়। দেখা গেছে যারা পিরিয়ড পোভার্টিতে ভোগে, মানে যারা স্যানিটারি প্যাড/ট্যাম্পুন কেনার সামর্থ রাখে না, তারা যে কেবল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোগে এমনই না, এসব মেয়েদের বেশিরভাগ ঋতুকালীন সময়ে স্কুলে যাওয়া থেকেও বিরত থাকে।

এসব বিবেচনায় নিয়ে স্যানিটারি প্যাডে ট্যাক্স আরোপ না করে আমাদের বরং উচিৎ দরিদ্র এলাকাগুলোতে বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ করা। সরকার ও এনজিও দুটি ক্ষেত্র'রই এ বিষয়ে এগিয়ে আসা উচিৎ।


  • ২০০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সন্ন্যাসী রতন

সন্যাসী রতন নামে পরিচিত বাংলাদেশী ব্লগার আইকর্নের একজন অতিথি লেখক হিসেবে নরওয়েতে আছেন।

ফেসবুকে আমরা