রাজা যদি উপাধি হয় বেশ্যাও হবে উপাধি

শুক্রবার, মার্চ ২৩, ২০১৮ ৬:১৪ AM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


লোকে বলে, জেদ করে ছেলেরা হয় বাদশাহ আর মেয়েরা হয় বেশ্যা! তার অর্থ কি দাঁড়ায়? বেশ্যা আর বাদশাহর কিছু কমন বৈশিষ্ট্য থাকবে। শুনেছি বাদশাহদের নাকি একাধিক রানী থাকতো, দাসীও থাকতো। একাধিক শয্যাসঙ্গিনী থাকাটাই তাদের জন্য মর্যাদার একটা ক্রাইটেরিয়া ছিল।

রাজাদের একাধিক শয্যাসঙ্গিনী থাকাটা বৈধ হলেও রাণীদের জন্য তা ছিলো না। রাণীদের থাকতে হতো পবিত্র, নিষ্কলুষ। রামপত্নী সীতার সতীত্বই তার প্রমাণ।আচ্ছা, যে মাপকাঠি দিয়ে রানীদের পবিত্রতা মাপা হতো, সে একই মাপকাঠিতে রাজারা কি কলুষিত ছিলো না! সেটা কেনো ভাববো না আমরা? পুরুষেরা কি সব কলুষতার উর্ধ্বে? একই বৈশিষ্ট্য পুরুষকে করবে মহিমান্বিত আর নারীকে করবে কলুষিত, কেনো! 

আজ যদি কোনো সবল নারীর স্বামী তাকে কোনো কারণে বলে বের হয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে, তাহলে সে নারীর কি করা উচিত হবে? স্বামীর কোন সিচ্যুয়েশনে কথাটা বলল তা কনসিডার করে ভুলে যাওয়া অথবা নিজের ব্যক্তিত্বের মর্যাদা দিয়ে সাথে সাথে চলে যাওয়া? লক্ষ্মী মেয়ে হলে সে অবশ্যই প্রথম অপশনটাই নেবে। অন্যথায় সে নারী হয়ে যাবে বেশ্যা!

রাস্তায় যখন হাঁটুর বয়সী ছেলেটা টিজ করবে, তখন নারীর কি করা উচিত হবে? দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাওয়া অথবা কলার ধরে ছেলেটাকে চড় থাপ্পড় দিয়ে ওকে পুলিশে দেয়া বা ওর গার্ডিয়ানের কাছে সোপর্দ করা। যদি ভদ্র পরিবারের ভদ্র মেয়ে হয় তাহলে সে অবশ্যই কথা বাড়াবে না। অন্যথায় সে মেয়ে হবে বেশ্যা!

পরম আত্মীয় কাকাটা বা মামা টা বা অন্য যে কেউ যখন সেক্সুয়ালী এ্যাবিউজ করবে, হ্যারাস করবে, তখন সে মেয়ের কি করা উচিত হবে? সবার সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টা চেপে যাওয়া অথবা তাকে উচিত শিক্ষা দেয়া, তার চরিত্র সবার সামনে নিয়ে আসা। মেয়ে সুশীল হলে অবশ্যই বিষয়টা জানাজানি হতে দিবে না, নিজের সম্মান বাঁচাবে। অন্যথায় সে মেয়ে হবে বেশ্যা!

সেই আদিকাল থেকে অদ্যবধি এমনি চলে আসছে। কেনো? পুরুষের অরুচিকর কামনা পাচ্ছে উপাধি আর নারীর অসহায়ত্ব পাচ্ছে ধিক্কার, কেনো? পুরুষ পতিত হয়েও পাচ্ছে "রাজা"র উপাধি আর নারী অসহায় দূর্ভাগ্য পাচ্ছে "পতিতা" গালি। কেনো? নারীকে পতিত করার আর কত ষড়যন্ত্র আমরা মুখ বুজে মেনে নেবো! প্রাচীনকালের দেবীর মুর্তিগুলো দেখা যায় শুধু জাদুঘরে। কোথায় হারিয়ে গেলো সেই নারী দেবতারা? যে নারীরা ছিলো পুজণীয়, ছিলো দেবতার আসনে, আজ তারা কেনো শুধুই কারোর সম্পত্তি হয়ে গেল? কীভাবে তারা আটকে গেল পুরুষ দেবতাদের শৃঙ্খলে?

নারীকে শৃঙ্খলে বাঁধতে আর কত ষড়যন্ত্র করবে এ পুরুষের সমাজ! নারীর দেহকে খুবলে খাওয়ার ভয় দেখাবে? নারী বলতে কি শুধু দেহকেই বুঝে তারা? নারী দেহ কি ভক্ষণযোগ্য! যদি পুরুষ নারীদেহ ভক্ষণ করে, তবে সে পুরুষের দেহ কেনো কলুষিত হবে না? কে তৈরি করলো এই নিয়ম? কার স্বার্থে তৈরি হলো এই নিয়ম?

রাজা যদি উপাধি হয়, বেশ্যাও হবে উপাধি। নারী বলেই আমি পতিত হবো তা আমি মানবো না। নারী বলেই আমি থেমে যাবো না। আমিও জেদ করবো। জেদ করে আমি বেশ্যা হবো!


  • ৬০৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফারজানা হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বর্তমানে একই বিভাগে এম.ফিল গবেষনায় রত।

ফেসবুকে আমরা