চিৎকার করে বলো মেয়ে "আমি আপনার ছেলের সারা জীবনের ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নিলাম"

বুধবার, মার্চ ৪, ২০২০ ২:০৮ AM | বিভাগ : আলোচিত


আমি অনেক মেয়েকে দেখেছি চুটিয়ে পাঁচ বছর প্রেম করেছে একজনের সাথে। কিন্তু ক'দিন পর ফেসবুকে দেখি "married to xyz" জাতীয় স্ট্যাটাস। আমি ভাবি xyzকে বিয়ে করলো তাহলে যার সাথে এতোদিন "তোমায় ছাড়া বাঁচবো না" জাতীয় প্রেম করলো সে কোথায়? ছেলেটির আসলে এখনও জব হয়নি। তাই মেয়ে তাকে ছেড়ে মা বাবার পছন্দের বিদেশে থাকা নন ম্যাট্রিক টাকাওয়ালা অথবা একজন ডিসিকে বিয়ে করে ফেলেছে! অথচ মেয়ে নিজে এমএ পাস! মেয়েটি এমন করেছে কারণ তার যৌবন পড়তির দিকে। যৌবন না থাকলে আইবুড়ো মেয়েকে কে বিয়ে করবে!

অথচ এমএ পাস মেয়েটি চাইলে নিজেই জব করতে পারতো এবং বেকার প্রেমিককে বিয়েও করতে পারতো। ভালোবাসার মানুষের হাত এতো সহজে ছেড়ে দিতে নেই। এতো সহজে নিজের কিছু করতে পারার যোগ্যতাকে পায়ে দলে শুধু অন্যের ঘাড়ে বসে খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতে নেই। নিজের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু না করতে চাওয়ার মনোভাব অন্যের ঘাড়ে বসে খাওয়ার মনোভাবকেই প্রকাশ করে। আর একজন শিক্ষিত মেয়ের কাছ থেকে আমি অন্তত এটা আশা করি না। মেয়েরা যদি সত্যিকার শিক্ষিত হও, যদি সত্যিই ভালবাসতে জানো শিক্ষিত হয়ে জব করো যাতে মনের মানুষটিকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে না হয়, যাতে ভালোবাসার মানুষটির হাত শক্ত করে ধরে রাখা যায়, যাতে চিৎকার করে পরিবারকে বলা যায় "আমি ওকে ভালোবাসি ওকেই বিয়ে করবো, নয়তো করবো না"। মেয়ে তুমি মানসিকতা বদলে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়ালে, যোগ্য হলে পরিবারের সাধ্য নেই ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে তোমায় আলাদা করে। কিন্তু তোমার নিজেকে বেকার প্রেমিকের হাত ছেড়ে যাওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট সম্বলিত লেখাপড়া করলে হবে না, সত্যিকারের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সত্যিকারের শিক্ষা দুর্বলকে সবল করে তোলার শিক্ষা দেয়।

আমার পরিচিত অসংখ্য মেয়ে আছে যারা চলতি কথায় আইবুড়ো কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না! তাঁদের সবাই যে অযোগ্য, অসুন্দর তা নয় কিন্তু। অধিকাংশরাই তথাকথিত সুন্দরী এবং সবাই কম বেশি ভালো জব করে। কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না বা করছেন না। কিন্তু কেনো ? এতো সুন্দর যোগ্যদেরতো বিয়ে না হবার কথা না! তাহলে? হচ্ছে না কারণ তাঁরা তাদের সমযোগ্যতার পাত্র খুঁজছেন। মেয়ে এমএ পাশ তাই ছেলেকে অবশ্যই এমএ পাস হতে হবে অথবা ডবল এমএ পাস! ছেলে যদি শুধু গ্র্যাজুয়েট হয় তাহলে মেয়ের মা বাবা সমাজে মুখ দেখাবে কী করে! তাইতো! সবাইতো বলবে শেষ পর্যন্ত এমএ পাস মেয়েকে বিএ পাস ছেলের সাথে বিয়ে দিলেন? সেই জন্যই বলেছিলাম মেয়েকে এতো শিক্ষিত করানোর দরকার নাই! পাত্র পাবেন না! এই সমস্যার উৎপত্তি কিন্তু এই সমাজের বানানো নিয়মের কারণেই।

ছেলেকে সমাজ শিখিয়েছে তারা শক্তিশালী তাই তারাই দুর্বল নারীর দায়িত্ব নেবে! ছেলেরা কাঁদবে না! কারণ তারা শক্ত, শক্তরা কাঁদে না তাতে তাদের পুরুষত্বে ঘা লাগে! এই সমাজের পুরুষ কখনও ভাবেইনি নারীরা একদিন সব ভেঙ্গে বেরিয়ে আসবে একটু একটু করে। নিজেদের বানানো নিয়মে নিজেরা আটকে গেছেন এবং নারীকেও আটকে দিয়েছেন পুরুষ। তাই চাইলেও বেকার অবস্থায় কোনো চাকুরীজীবী নারীকে বিয়ে করার কলিজা পুরুষের হয় না! লোকে কী বলবে? বলবে “ছি তুমি পুরুষ হয়ে ঘরে বসে স্ত্রীর কামাই খাবে”? স্ত্রীর কামাই না খাওয়ার সিস্টেম আপনারাই করেছেন, সেই সিস্টেমে আপনারাই এখন সিস্টেম হয়ে যাচ্ছেন! আর নারীরাও সেই সিস্টেমের কারণেই বেকার ছেলেকে বিয়ে করার সাহস করে না! লোকে কী বলবে? লোকে বলবে “দেখো পাত্র না পেয়ে বেকার ছেলেকে বিয়ে করেছে”!

এই লেখা অনেক পুরুষ পড়ছেন, হাসছেন আর মনে মনে বলছেন “ এতো বড়োবড়ো কথা বলে লাভ নাই; এই সমাজ বদলাবে না”। বদলাচ্ছে কিন্তু; যারা এই রকম ভাবেন আর বলেন তারাই আজকাল লেখাপড়া জানা ভালো জব করা মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে পছন্দ করছেন! যারা হাসছেন মিলিয়ে নিয়েন সত্যি বললাম কীনা!

একটি এসএসসি পাস মেয়েকে যদি একটি এমএ পাস ছেলে ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে করে সারাজীবনের জন্য নিয়ে যেতে পারে তাহলে একটি মেয়ে কেনো পারে না একটি কম শিক্ষিত বেকার ছেলের দায়িত্ব নিতে? কোথায় বাঁধে? একটি বেকার ছেলের সারাজীবনের ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নেবার মধ্যেতো একটি মেয়ের প্রাইড লুকিয়ে থাকা উচিৎ।

এখন সময় এসেছে মেয়েরা পাত্র নির্বাচন করবে। দেখতে গিয়ে ছেলেকে বলবে "ভাবনার কিছু নেই। বিয়ের পরেও আপনি লেখাপড়া করতে পারবেন, চাকরি করতে চাইলে তাও পারবেন"। মেয়েরা যোগ্য হয়ে সেই যোগ্যতার বলে নিজেরা পাত্র সিলেকসন অথবা রিজেকসনে যাবে সেই সময়টা এসেছে। মুখে মুখে নারীবাদ আর সম অধিকারের কথা বললে হবে না! শুধু পোশাকে আধুনিক হলে হবেনা! আধুনিক হতে হবে মন মনন আর মেধায়, আধুনিক হতে হবে যোগ্যতায় যাতে পাত্রের বাবাকে বলা যায় "আজ থেকে আপনার ছেলের ভাত কাপড়ের দায়িত্ব আমার"। আর পাত্রের বাবা ও পাত্রকেও এখন এই নিয়ম মেনে নেয়ার মানসিকতায় আসতে হবে; কারণ সময় বদলাচ্ছে। নিজের সমান যোগ্যতার একজন পুরুষের জন্য বসে বসে আইবুড়ো তকমা পাওয়ার মধ্যে প্রাইড নেই, প্রাইড নিহিত আছে একটি বেকার ছেলেকে বিয়ে করে তাকে স্বাবলম্বী করে তোলার মধ্যে।

মেয়েরা ভালোবাসোই যদি কেনো এতো সহজে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বানানো নিয়মের কাছে এতো সহজে কম্প্রোমাইজ করে ফেলো? নারী তুমি মানসিকতা্র পরিবর্তন করো আর পুরুষ তুমিও সঙ্গী হও সেই পরিবর্তনের!


  • ১৩২৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

কামরুন নাহার

সহকারী অধ্যাপক বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)।

ফেসবুকে আমরা