শরীর কিছু না, শরীর একটা ট্যাবু

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৭, ২০১৯ ৩:১৬ AM | বিভাগ : আলোচিত


চূড়ান্ত পর্যায়ের মানসিক ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া, বারবার সুইসাইড এটেম্পট করা এক ভার্সিটির ছোটবোন সকালে জানতে চাইলো, “আপু ভালো মানুষ চেনার উপায় কী?”

সকাল থেকে এটাই ভাবছি, ভালো মানুষ চেনার উপায় কী? কেউ আসলে একেবারে ভালো হয় না। ভাল মন্দ মিলিয়ে মানুষ। দেখা যাচ্ছে খুব দানবীর, মানবিক, মিশুক, সুন্দর কথা বলা একটা লোক পার্টনার হিসেবে ভালো না। সেই একই মানুষ হয়তো অন্য কারও পার্টনার হিসেবে খুবই ভালো প্রমাণিত হলো। তাই বাইরে থেকে কে কতোটা ভালো, তা বোঝার থেকে দরকারি হলো সেই মানুষটা আমার জন্য কতোটা ভালো তা বুঝতে চেষ্টা করা, সে ভালোবাসে কিনা বুঝতে চেষ্টা করা।

এইটা বোঝা হয়তো খুব কঠিন, আবার সহজও। আমার কেন যেন মনে হয় ছোট ছোট বিষয় দিয়েই মানুষকে চেনা যায়। কিন্তু যদি দেখেন যা ভেবেছিলেন যা আশা করেছিলেন সব ভুল। মানুষটা ভুল। তাহলে কি জীবন শেষ হয়ে যাবে? মরে যেতে হবে?

আমি জানি যারা সুইসাইডের কথা ভাবে, কোনো যুক্তি তাদের মনকে শান্ত করতে পারে না। বারবার আঘাত পাওয়া মানুষ সবসময় ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। ‘কাউকে দরকার নেই, তুমি নিজের মতো থাকো’ এই কথা সবাইকে বললে হয় না। সবাই একা থাকতে পারে না। সবার মানসিক গঠন এক না। যেমন আমি… অল্প পরিচিত কিছু লোকের সাথে টো টো করে ঘুরে বেড়ানোর থেকে আমার কাছে খুব কাছের বান্ধবীর সাথে ক’মিনিট কথা বলতে অনেক সুখ। আমার মানুষ দরকার… কাছের মানুষ, পরিবার, বন্ধু। সম্পর্ক নিয়ে সবার ভাবনা একই রকম নয়।

কিন্তু ওই যে বললাম যদি ভুল করে বসেন, তবে? মরে যাওয়া আসলেই সমাধান না। সব কাজ থেকে ছুটি নিয়ে ঘরে বসে থাকাও না। ব্যস্ত হয়ে যান আর অপেক্ষা করেন। একটা সময় পরে সব ঠিক হয়ে যায়। মানুষ চেনার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় সমস্যা মানুষের তা হলো সে নিজে। হয়তো প্রথম থেকেই সমস্যাগুলা সামনে আসে, মানুষ বুঝতেও পারে কিন্তু পাত্তা দেয় না। আবেগ দিয়ে ভাবে। ভাবে সব ঠিক হয়ে যাবে। ভালবেসে সব চেইঞ্জ করে ফেলব। আমি পারব এই ভাবনাটাই সবথেকে ভুল। মানুষ খুব কমই চেইঞ্জ হয়। এইটা আপনার জীবন, কোন প্রজেক্ট না। যদি পারবেন তবেই সেই ঝুঁকিটা নিবেন। কিন্তু যদি না পারেন? না পারার ধাক্কা সহ্য করতে পারবেন তো? যদি না পারেন থেমে যান। মানুষ যুক্তিরে অগ্রাহ্য করে, সমস্যাগুলা ইগনোর করে পরে দেখা যায় সেই সমস্যা তারে গিলে ফেলেছে। নিজেরে বাঁচানোর বেস্ট ওয়ে ঠিক সময়ে থামতে জানা।

আর আমার ওই পরিচিতা মেয়েটার মতো আমাদের দেশের অধিকাংশ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সুইসাইড করতে চাওয়া মেয়েদের প্রধান কষ্টের কারণ থাকে শরীর। সেক্স করে ফেলেছি… এখন এ জীবন রেখে আমি কী করবো? সেক্স হলে তাতে কেউ নষ্ট হয়ে যায় না। তুমি মরে যাবে কারণ তুমি সেক্স করে ফেলেছো, এই ধারণা থেকে বের হও। সে তো মরছে না। বরং খুশি হও তোমাকে ভালোবাসেনি, সেক্সের জন্য প্রতারণা করে রিলেশন করেছে এমন একজনকে তুমি সময় থাকতে চিনতে পারলে বলে।

বাংলাদেশের মেয়েরা রাস্তায় বের হলে হাজার পুরুষ চোখ দিয়ে চাটে, মনে মনে ধর্ষণের ইচ্ছে পোষণ করে, ভিড়ের সুযোগে গায়ে হাত দেয়, তোমার কতো পরিচিত মানুষ হয়তো তোমার কথা ভেবে মাস্টারবেট করে, তুমি হয়তো জানোও না, তাতে তোমার কি কিছু হয়? তাহলে ভুল মানুষকে ভালবেসে শারীরিক সম্পর্কের জন্য মরতে হবে কেন?

এবার একটু অন্য কথা।

শরীর কিছু না, শরীর একটা ট্যাবু, সেক্স হলে কেউ শেষ হয় না ইত্যাদি এসব কথা অনেক বলা হয়েছে, এইবার একটু তোমার কথা বলি। তুমি মেয়ে যে এখনও এভাবে ভাবতে পারো না। তুমি বোকা অমুক তমুক এসব আমি বলবো না। তুমি তোমার মতো। তোমার যদি মনে হয় সেক্স তোমার কাছে জীবন মরণের বিষয় (যদিও কিছু না তবু তুমি যেহেতু ভাবো) তাই তুমি সিদ্ধান্তে আসো কোনো সম্পর্কে ঢোকার আগে। কারণ মানুষ নিজেই নিজেকে সব থেকে ভালো চেনে। সবসময় সব থেকে খারাপ পরিণতি ভেবে নাও। যাকে প্রেমিক ভাবছো, বিশ্বাস করছো, সে হয়তো ভালবাসে না। শুধু সেক্সই চায়। দুদিন পর তোমাকেই চরিত্র খারাপ এসব বলে চলে যাবে। তোমার সাথে এমন হলে তুমি মেনে নিতে পারবে তো? যদি পারো তাহলে যাও…. সুন্দর সময় কাটাও তুমিও। আর না পারলে প্লিজ শারীরিক সম্পর্কে যেও না। অপেক্ষা করো। কিন্তু চিন্তা ভাবনা না করে এরপর শুধু সেক্স হয়ে গেলো বলো স্যুইসাইড করো না। প্লিজ। জীবন এতো খারাপ না।


  • ৩৭৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

পুষ্পিতা মন্ডল

বর্তমানে প্রবাসী পুষ্পিতা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।

ফেসবুকে আমরা