পুরুষের ভালোবাসার জন্য নিজের শিল্প, সৃজনশীলতা, ক্যারিয়ারকে হত্যা করো না নারী

রবিবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৮ ১:২৬ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


অন্নপূর্ণা দেবীর জীবন এই গ্রহের সব নারীকে পুনরায় চোখে আঙুল দিয়ে শিখালো বা শিখাবে যে জীবনে বর বা প্রেমিককে যত ভালোই বাসো না কেনো, সে ভালোবাসার জন্য নিজের শিল্প, সৃজনশীলতা, কাজ বা কেরিয়ারকে হত্যা করো না! সারল্যের উত্তরে এত বড় প্রবঞ্চণা মানতে অন্নপূর্ণার জীবন কাহিনীর পাঠক হিসেবে আমাদের মানতে কষ্ট হয়- তিনি কিভাবে বেঁচেছিলেন গোটা একটি জীবন?

রবিশঙ্কর কে? সে পুরুষ- পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ, স্বার্থপর ও লোভী। মাইহার ঘরানায় ঢুকতে হলে- গুরু বা ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ-র কাছ থেকে যথার্থ তালিম পেতে হলে তাঁর পরিবারের একজন হতে হবে। সেই লক্ষ্যে একুশের ধূর্ত তরুণ (আমি আমার ভাষার জন্য দু:খিত) চৌদ্দর কিশোরী রওশন আরা বা অন্নপূর্ণার পাণি প্রার্থনা করলেন। সরস্বতী সাধক আলাউদ্দীন খাঁ ধর্ম-বর্ণ কিছুই দেখলেন না। বিধর্মী ছেলেকে জামাতা করে যাবতীয় শিক্ষাই দিলেন। উল্টো রওশন আরাই হলেন ‘অন্নপূর্ণা।’ স্ত্রীর শুদ্ধ বাদনক্ষমতায় পুরুষালী হীনমন্যতায় ভোগা রবিশঙ্কর তাঁকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করালেন যে লোকসমক্ষে কখনো বাজাবেন না অন্নপূর্ণা। হয়তো শুদ্ধ শাস্ত্র্রীয় সঙ্গীতের প্রতি দায়বদ্ধতাও ছিলো এই সরল মেয়েটির। গুরুর কাছ থেকে কিছু শিক্ষা নিয়েই লোভী ও স্বার্থপর রবিশঙ্কর ছুটলেন প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্যে- দরকার সাদা বিশ্বের অনুমোদন, নানা জাতের নারীর সাহচর্য। আপন ভাই আলী আকবর খানও বোনকে ফেলে স্বার্থপর রবিশঙ্করের সাথেই বন্ধুত্বে রইলেন। অন্নপূর্ণার ছেলেটিও বাঁচলো না বেশিদিন।

নিঃশব্দে প্রয়াত অন্নপূর্ণার জীবন নিয়ে ভাবতে গেলে মনে হয় যে এই শতকে বা গত শতকের শেষভাগে জন্মানো মেয়েরা যে একটু ‘স্বার্থপর’ হতে শিখেছি এটা অনেকটা বড় অর্জন আমাদের। এই যে এত বয়সেও ‘একা’ নারী হিসেবে আমাকে নিয়ে নানাজনের নানা প্রশ্ন-কৌতুহল বা কারো কারো হয়তো করুণাই...আমি কিন্ত সুখী!

যে মেয়েরই পৃথিবীর কোনো না কোনো বিষয়ে এতটুকু মেধা বা প্রতিভা আছে, তাকে কি তার বর বা প্রেমিক কখনো ভালোবাসে? সম্মান করে? করে ঈর্ষা, অপমান, মানসিক বা দৈহিক অত্যাচার। বোকা মেয়েরা এতটুকু সুখ বা শান্তির জন্য কত কিই না করে! কেউ চাকরি ছাড়ে, কেউ অভিনয় ছাড়ে, গান ছাড়ে বা লেখা ছাড়ে কেউ। কিচ্ছু ছাড়বেন না। কার জন্য ছাড়বেন? যার জন্য ছাড়বেন, সে দু’দিন পর আপনাকে ছেড়ে অন্য কারো দিকে ছুটবে। সব থেকে বড় কথা সে যদি আপনাকে ভালোও বাসে, সেই ভালোবাসা কেমন ভালোবাসা যে আপনার কাজকেই সে হত্যা করতে চায়? কত ভণ্ড পুরুষ চারপাশে দেখি যারা অন্য নারীর প্রতিভার বিকাশে জীবন পাত করে, তবে আপন প্রেমিকা বা স্ত্রীর কোনো বিকাশই সহ্য করতে পারে না!

মেয়েরা- ভালোবাসবেন শুধুমাত্র নিজেকে এবং নিজের কাজকে। আর কাউকে না। পৃথিবীতে ভালো ছেলে বা ভালো পুরুষ বা স্ত্রী/প্রেমিকার সাফল্যে খুশি হবার মানসিকতার পুরুষ নেই তা’ নয়। তবে রবি শঙ্কর থেকে শাকিব খান মার্কা পুরুষই বেশি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের দেবী অন্নপূর্ণা ওরফে রওশন আরা বা ঢাকাই সিনেমার অপু ...সবার জীবন একই করুণ সূত্রে গ্রথিত। সে জীবন এমনি করুণ যে ‘রওশন আরা’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা’ বা ‘অপু বিশ্বাস’ থেকে ‘অপু ইসলাম খান’ হয়েও ঘর থাকে না। পুত্র শুভ বা আব্রাম খান জয়ের মা হয়েও সংসার টেঁকে না। লাভ এ্যান্ড রেসপেক্ট ওনলি ইওর ওয়র্ক সিস্টারস- নো ম্যান- নো ম্যান!


  • ৯৪৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অদিতি ফাল্গুনী গায়েন

লেখক ও কলামিস্ট

ফেসবুকে আমরা