এতগুলো বছর পূর্ণিমাকে নিয়ে কেনো কেউ ভাবলো না?

শুক্রবার, জানুয়ারী ১৯, ২০১৮ ৩:২২ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


পূর্ণিমাকে 'ব্যক্তিগত সহকারী' হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে তারানা হালিম। এখন প্রশ্ন হলো, তারানা হালিম কে? কি তার পরিচয়? পূর্ণিমাকে সহকারী করা নিয়ে আমার কোনে কথা নেই বা থাকার কথাও নেই। কিন্তু, এসময় কেনো তারানা হালিম এ কাজটা করলো? কিছুদিন আগে ডাক ও টেলি যোগাযোগ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার বাহাদুর। এতে তারানা খুব কষ্ট পেয়েছিলো। মানতেও কষ্ট হচ্ছিলো তার। মনে আছে কি? তারানা হালিমরা সুযোগে পূর্ণিমাদের ব্যবহার করে। পূর্ণিমারা ব্যবহার হয়। কেননা, পূর্ণিমাদের এর বাহিরে ভাবনা জোগানোর জন্য যে সংগঠন দরকার তা নেই। 

তারানা যদি স্রেফ পূর্ণিমার স্বার্থে এ কাজটা করতো, ভালোবেসে করতো তবে কোনো কথাই ছিলো না। কিন্তু, তারানা যেহেতু অভিনয় জগতের মানুষ সেহেতু বোঝার বাকি নেই। এটা অভিনন্দন পাওয়ার জন্যই করা। 
রেশমার কথা মনে আছে! রানা প্লাজার রেশমা! তাকে নিয়ে কত হুল্লোড়। কিন্তু, হাজার হাজার শ্রমিকদের নিয়ে কোনো কথা নেই। তারা এখনও নিরুপায়।

পূর্ণিমা শুধু এক পূর্ণিমা নয়। হাজার হাজার পূর্ণিমাদের দায়িত্ব কে নিবে? এক পূর্ণিমাকে কাছে টেনে বাকি পূর্ণিমাদের কি করবে? কত পূর্ণিমাকে ব্যক্তিগত সহকারী করবে? 

আমি সরি অভিনন্দন জানাতে পারছি না, বরং অবাক হচ্ছি ২০০১ সালের পূর্ণিমার গতি কেনো ২০১৮তে এসে হয়!  আজ থেকে ১৬ বছর আগের ঘটনা। মিডিয়া এখন যতটা ঘটাও করে নিউজ করছে ব্যাপারটাও ভাবনার বিষয়। সামনে নির্বাচন। 

একটা নিউজে দেখলাম, পূর্ণিমা সরকার প্রধানকে 'মামণি' বলে সম্বোধন করেন। পূর্ণিমার এটা আবেগ। এই আবেগকে নিয়ে রাজনৈতিক খেলাটা নোংরারাই পারে। পূর্ণিমাকে তার যোগ্যতাবলে চাকরি দেওয়া হোক। পূর্ণিমারা এসব অনৈতিক উদ্দেশ্যসাধন সাধন করার জন্য ব্যবহার হবে না বলে স্পষ্ট হোক। নারীসমাজকে এটা বুঝতে হবে, এই কারচুপি বুঝতে হবে। এতো গা ভাসিয়ে দিলে মুক্তি মিলবে না। মুক্তি বড় কঠিন।

পূর্ণিমা ধর্ষিতা বলে তারানা সহানুভূতি দেখিয়েছে এই মনোভাব পরিহার করতে হবে। বরং পূর্ণিমারা দ্বিগুণ তেজ নিয়ে, কোনো সহানুভূতি না নিয়ে বেঁচে থাকুক। চিন্তার মুক্তি আসুক পূর্ণিমাদের। স্পষ্ট বলুক ধর্ষিতা বলে কোনো কথা নেই। 

এতগুলো বছর পূর্ণিমাকে নিয়ে কেনো ভাবলো না? পূর্ণিমাদের এটা বুঝতে হবে। যাতে অসৎ মানুষের প্রয়োজনে পূর্ণিমারা ব্যবহার না হোক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা হওয়া উচিত। পূর্ণিমারা এই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধিক দেওয়া শিখুক। পূর্ণিমারা ভাবতে শিখুক বিএনপি না হয়ে লীগ হলেও এককাজই করতো। পূর্ণিমারা আরো পূর্ণিমাদের নিয়ে ভাবুক। ভাবনা তৈরিতে সাহায্য করার দায়িত্বটা যারা অভিনন্দন জানাচ্ছে তাদেরই নিতে হবে।

পূর্ণিমার হাত, পা, মাথা সব আছে। পূর্ণিমা কেনো সহানুভূতি নিয়ে বাঁচবে? পূর্ণিমা নিজের যোগ্যতায় বাঁচবে। এ শিক্ষায় পূর্ণিমাদের শিক্ষিতকরণ করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।
পুরো সিস্টেমকে চেঞ্জ করার দায়িত্বটা নিপীড়িতরাই নেবে। সে সুযোগ রাষ্ট্র না দিলেও সুযোগ তৈরি করতে হবে। 

পূর্ণিমাদের থুথু পুরুষতান্ত্রিক সিস্টেমে পড়ুক। পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ভোগবাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আওয়াজটা জোরালো হোক।


  • ১৪৩২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

লাবণী মণ্ডল

নারীবাদী লেখিকা।

ফেসবুকে আমরা