নির্ঝর মজুমদার

অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার

একটি শিশুর মৃত্যুর সামাজিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিবাদ

একটা বাচ্চা মেয়ে মারা গেল। উদ্ভট এবং আজগুবি কিছু সূত্র এবং জন্মপরিচয়বিহীন কিছু সংবাদ মাধ্যম দাবি করলো একটা বিশেষ ধরনের গেমের কারণে মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে।

ব্যাস, আর যায় কোথা। বাংলাদেশে মানুষের খুব একটা বেশি কাজ না থাকার কারণে এবার ব্যাপারটা একটা ম্যাস হিস্টিরিয়ার রূপ নিলো।

মেয়েটার আপন খালা আমার শিক্ষকের সরাসরি ছাত্রী। মেয়েটাকে বড় করেছেন উনিই। ভদ্রমহিলার স্ট্যাটাসগুলো দেখার পরে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে একটা পারমানবিক বোমা মেরে অমানবিক মানুষগুলোকে মেরে ফেলার দরকার।

সে কি গসিপ!! ১৪ বছরের একটা বাচ্চা, যে কিনা সুইসাইড করেছে, সেও এই নোংরামিগুলো থেকে রেহাই পাচ্ছে না। মরেও শান্তি নাই। যে পরিবারের শোকে স্তব্ধ হয়ে থাকার কথা, আপনমনে শোক ভোলার কথা, সেই পরিবারটিকে এখন ফেসবুকে এসে বলতে হচ্ছে তাদের মেয়ে কোনো গেম খেলে আত্মহত্যা করেনি।

মৃত একটা মানুষকে কতদূর অপমান করা হলে সেই মরা লাশের মান রক্ষা করার জন্য লাশ সৎকার করার পর মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের ফেসবুকে এসে ক্লারিফাই করতে হয় মৃত্যুর কারণ, সেই বিষয়টি নিয়ে কি কারো লজ্জা লাগছে? যদি না লেগে থাকে, তাহলে গেমটা খেলে এই কুত্তার বাচ্চাদের আত্মহত্যাই করা উচিৎ।

যে ঘটনার পিছে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই, যে ঘটনাটি এতটা ভয়ংকর (যদি সত্যও হয়ে থাকে) সেই ব্যাপারটা কি হাসি তামাশার বস্তু? ওকে ফাইন, করেন। ফেসবুকে আপনার আমারও বাচ্চা বাচ্চা ধরনের ছেলেমেয়েরা আছে। তারা এই বিষয়টা নিয়ে কিউরিয়াস হলে কি হবে একবার ভাবছেন? আপনার বাপের বা মায়ের ক্যান্সার নিয়ে, ডায়বেটিস নিয়ে কেউ যদি মশকরা করে, ভালো লাগবে কি বিষয়টা? বাপ/মা/ভাই/বোন সন্তান মরার পরে কেউ যদি সেটা নিয়ে জোক করে, মৃত্যুর কারণ নিয়ে মশকরা করে সেটা মানতে পারবেন? গাড়িচাপা পড়ার পরে পরিবারের একটা সদস্য মরে যাওয়ার পরে পরে কেউ যদি এসে বলে চোখ রাস্তায় নিয়ে হাটার কারণে, আপনার পরিবারের মৃত মানুষটা গাধার হদ্দ বা বেখেয়ালি, সেটা ভালো লাগবে শুনতে?

দেশে এখনো এই ব্যপারটা নিয়ে কেউ আত্মহত্যা করেনি। আমার ধারনা, আমরা সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছি কখন আরেকটা কিশোর বা কিশোরী এই খেলা খেলতে গিয়ে আত্মহত্যা করবে এবং আমরা সেই বব্যাপারটা নিয়ে লেইম জোক ক্র্যাক করে, ফাইজলামি করে আরেক পিস স্ট্যাটাস দিতে পারবো।

মুখের কথা দিয়ে যৌন সুখ নেওয়া মানে হচ্ছে ব্যক্তির শারীরিক সমস্যা আছে, সে যৌনঅক্ষম শারীরিকভাবে।

কোনোভাবে কোনো মেয়ে যে কোনো ইস্যুতে কোনো পাবলিক ডিবেটের/গসিপের বিষয়বস্তু হলে পরেই, আলোচনা গুলো কিভাবে জানি সেক্স, প্রেম বা মেয়েটার চরিত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলির দিকে যায়। এখানেও সেটার ব্যত্যয় ঘটেনি। মানসিকভাবে কুকুরের অধম মানুষগুলোর "যুক্তি" হচ্ছে যদি মেয়েটা গেম খেলে আত্মহত্যা না করে থাকে, তাহলে হয়তো প্রেম/ভিডিও বা এই ধরনের কোনো গোপন বিষয় জড়িত।

আই ওয়ান্ডার! একটা পুরা সমাজ কিভাবে একই সাথে মানসিক বিকৃতির শিকার হয়?

 

1441 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।