স্বাধীনতা মানে স্বাধীনতা অর্জনের বিজ্ঞাপন না

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৯ ৫:৪১ PM | বিভাগ : আলোচিত


আমার বেশিরভাগ বন্ধুই পুরুষ, এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে তারা পড়াশোনা করেন। তাদের সাথে রাজনীতি, বানিজ্য, সাহিত্য, শিল্প নিয়ে গল্প করা যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা আর্গুমেন্ট করা যায়। অন্যদিকে বেশিরভাগ নারীদের আড্ডার প্রধান গল্প হচ্ছে- শাড়ি কোন দোকান থেকে কেনা হয়েছে, কোন পার্লারে রিবন্ডিং ভালো করে, কোথায় একটা লিপস্টিক কিনলে আরেকটা লিপস্টিক ফ্রি'র অফার চলছে।

দেশে সুনামি, সিডর, আইলা যাইই আসুক একদল নারী গার্লস গ্রুপে অনবরত লাইভ করে থ্রি-পিস বেচাকেনা করছেন! ব্যাপারটা খুবই পীড়াদায়ক। সিচুয়েশন ডিমান্ড বুঝবেন না?

আমরা সারাদিন নারীর স্বাধীনতা নিয়ে গলা ফাটাই মানে এই না যে কেবল নারীই এর সুফল ভোগ করবেন, পুরুষও এর ভাগীদার। কারণ এই স্বাধীনতা কেবল অর্থনৈতিক না, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতাও। সেই স্বাধীনতার স্বাদ আপনি তখন বুঝবেন যখন মেকাপ নিয়ে গল্প করতেও পারবেন আবার বুঝতেও পারবেন দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা কেনো বিপাকে আছি। যখন আপনি বুঝতে পারবেন চীনের পররাষ্ট্র নীতি কি আর সৌদি আরব কেমন বর্বরতা লালন করে?

প্রিয় নারী, পুরুষদেরও দমবন্ধ লাগে! যখন আপনার কম জানা, কম বোঝা, কম পারার অজুহাতে সে কিছুই ডিসকাস করতে পারে না, তখন তারও একধরনের তীব্র হতাশা কাজ করে। জেন্ডার ইকুয়ালিটি কেবল কাপড় চোপড় আর শাইনার লাইনারের কাজ না, জেন্ডার ইকুয়ালিটি নির্ভর করে জ্ঞান-বুদ্ধির সমতায়ও।

নারীরা আপনারা পড়েন, প্রতিদিনের সংবাদপত্র পড়েন, সাহিত্য শিল্পের খোঁজ নেন। দেখেন ল্যাকমে ফ্যাশন উইক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জলবায়ু সমস্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠ কতটুকু বেড়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশের কতটুকু ডুববে সেটা নিয়ে কথা বলেন। কথা বলেন জিডিপি, মূল্যস্ফীতি এবং নাজুক পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও। গাউছিয়া, চাঁদনীচক ছেড়ে আলাপ করেন দুনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে।

নারী, আপনার স্বাধীনতা আপনার অর্জনের বিষয়। সত্যিকারের সমতা কেউ পাতে তুলে দেয় না, সেটা অর্জন করতে হয়। স্বাধীনতা স্বাধীনতা অর্জনের বিজ্ঞাপন না, স্বাধীনতা অর্থনৈতিক ও নৈতিক সমতায়ও।

পাশের বাড়ির ভাবীর নেকলেসের চেয়ে পাশের দেশের রাজনৈতিক অবস্থা জানা বেশি জরুরী, এইটা আপনি কবে বুঝবেন?


  • ১৯২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা