জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

কথা সাহিত্যিক

পৃথিবীর ইতিহাস পড়ার জন্য কেউ বেঁচে থাকবে না

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিনমিন করে তিনের ঘরের নামতা দিয়ে বলেছেন- নতুন করোনা আক্রান্ত ১৮ জন! ওদিকে লাখ লাখ শ্রমিককে রাস্তায় হাঁটিয়ে এনে এখন পুলিশ দিয়ে তাদের খেদিয়ে দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রুবানা হকরা যখন বারবার গার্মেন্টস খুলতেই হবে বলেছে তাদের খেদাইতে পারেন নাই কেনো? রুবানা হকের উচিৎ দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নিজের বুকে ফুঁ দেয়া, বাংলাদেশ নামের মাফিয়া রাষ্ট্রে জন্মাইছেন বলেই, শ্রমিকদের হাঁটিয়ে গ্রাম থেকে শহরে ফিরায়ে আনার মিছিল করেছেন বলেও তারে এখনো চৌদ্দ শিকের মধ্যে ঢুকতে হয় নাই। কোনো সভ্য দেশে এই কাজ করলে উনার জায়গা হইতো জেলে।

কী পরিস্থিতিতে এই চৈত্রমাসের গরমে একজন শ্রমিক যে পথ বাসে যেতে মিনিমাম ছয় ঘন্টা লাগে সেই পথ পায়ে হেঁটে আসে, আপনার আইডিয়া আছে?

রুবানা হক বলেছেন- রাস্তার সব শ্রমিক গার্মেন্টস শ্রমিক না, কাজেই গার্মেন্টস মালিকদের দোষ দেয়া ঠিক হবে না! অথচ দুইদিন আগেই বলেছিলেন- যেভাবেই হোক গার্মেন্টস চালু করতে হবে, লক ডাউনের পরে তারা গ্রামে গেছে যে পথে সেই পথেই তাদের ফেরা লাগবে।

ওইদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টস মালিক বলেছেন- গার্মেন্টস কর্মীরা দশ দিনের ছুটিতে গ্রামেই গেছে, এইটা বিজিএমইএ যেমন জানে, সরকারও জানে! (সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন) এবার কি বুঝতে পারছেন কী পরিমাণ মিথ্যা কথা রুবানা হকরা বলেছেন?

রুবানা হকদের প্ল্যানটা এবার শোনেন। সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের ৫০০০ কোটি টাকা দিয়েছে ঋণ, এরা চেয়েছিলো প্রণোদনা। কাজেই প্রণোদনা আদায় করতে তারা শ্রমিকদের হাঁটিয়ে ফেরত এনেছেন ঢাকায়। তাছাড়া সারা দুনিয়ায় মানুষ মরছেই, কাজেই লাশের ব্যাগ এক্সপোর্ট করার এইই সুবর্ণ সুযোগ! কয়টা বোকা শ্রমিক মরলেই কি?যেভাবেই হোক গার্মেন্টস খুলতেই হবে। এরপর সমালোচনার ঠ্যালায় গতকাল রাত ১১টায় দিয়েছেন ছুটি! বলেছেন গ্রামে ফিরে যেতে! অথচ গ্রামে যাওয়ার জন্য রাস্তায় যানবাহন নাই।

সভ্য দেশ হলে এতক্ষণে রুবানা হকদের জেলে থাকার কথা ছিলো। উনাদের সম্পত্তি ক্রোক করার কথা ছিলো, যেমন রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার ক্ষেত্রে হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনের দাম উনাদের ৫০০০ কোটি টাকার চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি। শ্রমিকরা জটলা করে ফিরে আসায় কেবল তাদেরই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে নাই, ঢাকা শহরে এবং সারাদেশে অবস্থানরত সকল মানুষের জীবন হুমকিতে পড়ে গেছে। কারণ এই শ্রমিকরা কোভিড-১৯ নিয়ে গ্রামে ফিরে গ্রামের লোককেও এই ভাইরাস উপহার দিবে।

জানিয়ে রাখি রুবানা হক হচ্ছেন সেই কুখ্যাত ব্যক্তি যিনি সহপাঠীদের মরতে দেখেও বিটিভিতে ফজলে লোহানীর 'যদি কিছু মনে না করেন' ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে এসে এরশাদের আমলে মুখপাত্র হিসেবে বলেছিলেন- কিছু হয়নি! কাজেই তিনি বিজিএমইএ'র প্রেসিডেন্ট হিসেবে গার্মেন্টস কর্মীদের ঢাকায় ফেরত আনবেন না তো কে আনবে?

১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি স্বৈরশাসক এরশাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ছাত্রছাত্রীর এক শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালায়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জাফর-জয়নাল-দীপালি। আহত হয় আরো অনেক ছাত্রছাত্রী। রুবানা হক সেই সময় সম্পূর্ণ বানোয়াট এক মিথ্যা রিপোর্ট প্রচার করে দেশবাসীকে বলেছিলেন ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু হয় নাই!
এই কান্ডজ্ঞানহীন মিথ্যাবাদী রুবানা হক যদি আপনাদের মোটিভেশনাল স্পিকার হয় তাইলে খোদা হাফেজ!

এখন যে ইতালি লাশের সাগর হয়ে গেছে কাকতালীয়ভাবে মধ্যযুগে তাদের রাজারা এক কবিকে তাড়িয়ে দিয়েছিলো শহরের বাইরে। সেই কবি রাগে দুঃখে তার সবচেয়ে কিংবদন্তিতুল্য কাব্যগ্রন্থতে লিখেছিলেন- নরকের সবচেয়ে নিচে থাকবে তারা যারা ন্যায় আর অন্যায়ের যুদ্ধের মধ্যে চুপ করে থাকে! সেই কবির নাম দান্তে আলঘিয়েরি, এবং কাব্যগ্রন্থের নাম- দ্যা ডিভাইন কমেডি। দান্তে জানতেন না বাংলাদেশ নামের একটা দেশ হবে যেখানে ন্যায় আর অন্যায়ের যুদ্ধের মধ্যে চুপ করে থাকার লোক হিসেবে কয়েক কোটি প্রতিবাদহীন বাংলাদেশি আছেন!

আপনারাই বলেন- এরপর আর সোশ্যাল ডিসটেন্সিং দিয়ে কী কঁচুটা হবে? ২০% গার্মেন্টস কর্মী যখন কোভিড-১৯ ছড়াবে এবং নিজেরা মরবে তখন বড়জোর দেশের জনসংখ্যা কমবে আর মানুষ কমায় তরতর করে আপনাদের মাথাপিছু আয় বাড়বে, জিডিপি আকাশ ছুঁয়ে ফেলবে!

বরং ২০৪১ সালের ২১ বছর আগেই স্বপ্নের সিঙ্গাপুর পেয়ে যাওয়ার 'মিশন টুয়েন্টি ফোর্টি ওয়ান' সফল করায় আপনেরা প্রধানমন্ত্রীকে আর রুবানা হকদের অগ্রিম ধন্যবাদ দেন! দরকার হইলে আরও ৭০টন আতশবাজি ফোটান!

শুধু একটা কথা মাথায় রাখেন- পৃথিবীর শেষ ইতিহাস হবে মানুষের লোভের ইতিহাস, আর আপনাদের চুপ করে থাকার পাপের ইতিহাস। দুঃখের বিষয় হচ্ছে সেই ইতিহাস পড়ার জন্য তখন সম্ভবত কেউ বেঁচে থাকবে না!

161 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।