এই যে মেয়ে, বাপের বাড়ির ইফতারিতে আত্মসম্মান নাই

বৃহস্পতিবার, মে ৩০, ২০১৯ ৬:২৪ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


এক বান্ধবীর সাথে দেখা হয়েছিলো। কয়দিন আগেই তার বিয়ে হয়েছে। মন খারাপ দেখে জানতে চাইলাম- কী রে, কী হয়েছে? জানা গেলো বিশ রোজা চলে গেলেও তার বাবা-মা তার শ্বশুরবাড়িতে 'ইফতারি' পাঠায়নি! এতে প্রায় প্রতিদিনই হাজব্যান্ডের কাছে তার মান সম্মান নাকি কাটা যাচ্ছে! এই ঘটনা দেখে মনে হলো- যৌতুক কি কেবল পুরুষই চায়, নাকি নারীও চায়? নাইলে বিয়ের পরে নারীর মান সম্মান ইফতারি পাঠানোতে কেনো থাকবে?

এদেশের মিনমিনে পরনির্ভরশীল নারীরা নিজের বাড়ির সাথে যেসব ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইল করে থাকেন সেগুলা হচ্ছে-

-বড় বোনকে ওই গয়নাটা দিলা, আমাকে দিবানা?
-রোজার মাস আসছে, আমার শ্বশুর বাড়িতে ইফতার দিবানা?
-আমের সিজন আসছে, আমার শ্বশুর বাড়িতে আম দিবানা?
-ঈদ আসছে, ঈদ উপলক্ষে আমার শ্বশুর বাড়িতে কাপড় দিবানা?

নারীরা শোনেন, এই দেয়া না দেওয়ার যে আবদার আপনারা অনবরত নিজের বাড়ির লোকদের কাছে করেন ইহাও এক প্রকার যৌতুক। আপনি নিজে স্বাবলম্বী হোন, বিয়ে করেন, শ্বশুর বাড়িতে এটা ওটা দেন, নিজের গয়না নিজের টাকায় কিনে নেন। কিন্তু যৌতুকের ছদ্মবেশে এটা ওটা না দেয়ায় আপনার শ্বশুর বাড়িতে আপনার সম্মান থাকছে না এটা আর বলবেন না। সম্মান কি এতো সস্তা যে ইফতার, কাপড়, গয়নার দামে কিনতে পাওয়া যায়?

নিজে কামাই করেন, নিজের টাকায় গয়না নেন, যে শ্বশুরবাড়ি হাভাতের মতো ইফতার পাওয়ার আশায় থাকে তাদের মুখের ওপর ঝামা মেরে বলে দেন- যৌতুক দেইনা। তাদের নিজের টাকায় ইফতার খাওয়ান, তাদের বলেন- আপনি নিজেই একশো। তাদের দেখান আপনি বাপের বাড়ির মুখাপেক্ষী না। তাদের দেখান আপনার আত্নসম্মান আছে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আছে।

আপনার মান সম্মান বাপের বাড়ির টাকায় ইফতার দেওয়া না দেওয়ায় না, সম্মান থাকে কারোর কাছ থেকে কিছু না চাওয়ায়!বাপের বাড়ি হেকে কষ্ট করে তথাকথিত মান রক্ষার ইফতার দেওয়ার অক্ষমতায় না, সম্মান থাকে নিজের অর্থনৈতিক স্বক্ষমতায়- এই কথাটা আপনি কবে বুঝবেন?


  • ৪১০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা