মানুষের সংগ্রামটা থাকে নৈতিকতায়, চোখের পানিতে নয়

বুধবার, অক্টোবর ৪, ২০১৭ ১০:৪২ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


‘চোরের ওপর বাটপারি’ বলে একটা বিশেষ প্রবাদ আছে। আমি টিভি খুব একটা দেখিনা। গতকাল রাতে কৌতূহলবশত টিভি অন করেছিলাম, যমুনা নিউজের লাইভ টেলিকাস্টে এসেছিলেন বিতর্কিত মিস বাংলাদেশ এভ্রিল। এভ্রিলকে উপস্থাপক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন, সেটি হচ্ছে- আপনি কি মনে করেন না, আপনার জন্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে?

এভ্রিল বড়ই জোরের সাথে চোখে পানি এনে বললেন- না, আমি মনে করি আমি বাংলাদেশকে সম্মানিত করতে পারবো, কারণ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ গ্রহণযোগ্য না। আমার বিয়ে হয়েছিল ষোল বছর বয়সে। এরপর উপস্থাপক আবার বললেন- কিন্তু আপনি তো বিয়ের কথা গোপন করেছিলেন! 

এভ্রিল তখন বললেন- আমি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই, কাজেই ওই বিয়ের কি কোনো ভ্যালু আছে?

দুঃখিত এভ্রিল। আপনি যেটা করেছেন সেটা প্রতারণা। আপনি বাইক চালাতে পারেন কিনা, আপনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কিনা, আপনার জীবনটি সংগ্রামের কিনা এটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- আপনি প্রতিযোগিতার রুলস ভেঙেছেন। সেই রুলস নারী স্বাধীনতার পরিপন্থী কিনা, নারীকে পণ্য করা কিনা, নারীকে হেয় করা কিনা- সেটি এখানে ধর্তব্য নয়, ধর্তব্য হচ্ছে- আপনি অসাধু কিনা, মিথ্যেবাদী কিনা, নিয়ম লঙ্ঘনকারী কিনা। ঠিকাছে?

আর ওদিকে বাটপারির ব্যাপারে বলাই বাহুল্য। একটা আন্তর্জাতিক ইভেন্টে নাম ভুল ঘোষণা দেওয়া, বিচারকদের রায় না মানা, বিচারের নামে প্রহসন করা- একটা ইভেন্টকে বর্জন করার জন্য অনুপ্রেরণা দিতে যথেষ্ট। আয়োজকরা এতোটাই অসৎ যে এদের বলতে ইচ্ছে হচ্ছে- দর্শক কি এতোই সস্তা হয়ে গিয়েছে যে আপনাদের একটা সাজানো ইভেন্ট দেখতে চোখ খুলে বসে থাকবে? মানুষের আবেগ নিয়ে এতো ছিনিমিনির স্পর্ধা আসে কি করে আপনাদের?

বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা একটা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট। এই ইভেন্টের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো সমর্থন নেই, কারণ একে তো এটা নারীকে হেয় করার মঞ্চ, দুইয়ে এটা সৌন্দর্যের জন্য একটা চাহিদা মোতাবেক স্কেলের অংশ- বুকের প্রশস্ততা, কোমরের মাপ, নিতম্ব...ইত্যাদি। একে সুন্দর বলি কি করে? সুন্দর তো নিজের কাছে ভালো লাগা বা না লাগায়! তাইনা?

তবে হ্যাঁ, ইসরায়েলের একটি মেয়ে একবার বিশ্বসুন্দরী হয়েছিল যে কিনা ছিল রেপড। নাইজেরিয়ার একটা মেয়েও বিশ্বসুন্দরী হয়েছিল যার গায়ের রঙ ছিল কালো, এমনকি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ঐশ্বরিয়া রায়- এরাও তো কালোই ছিল। কিন্তু এরা কোনো শর্ত ভঙ্গ করেনি। পার্থক্যটা এখানে।

চোর এবং বাটপার উভয়কেই বর্জন করাটাই জরুরী। আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে একজন প্রতারক দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে, সেটা দেখতে কি খুবই ভালো লাগবে আপনার? আমি মনে করি- সংগ্রামটা থাকে নৈতিকতায়, প্রতারণার পর চোখের পানিতে না! তাইনা?


  • ১৭২৭ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা