প্রিয় নীলাম্বর-২

শনিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭ ১:৪৩ AM | বিভাগ : ওলো সই


আমার নীলাম্বর আপনার আমার মাঝের রাতের বিপরীতাও কোথাও মিলিয়ে দিয়ে যায় আমাদের। ভিন্ন হতে হতেও কোথাও গিয়ে এক হয়ে যাই বারবার। ওপাশটাতে যখন আপনি সিগারেটের ধোঁয়াকে নিজের চারপাশ জুড়ে সঙ্গী করে শ্মশান ঘাটের মানুষ পোড়া আগুন দেখেন। আমি তখন এপাশটাতে ধর্মশালার শুভ লগ্নে আগুন সাক্ষী করা বিয়ের উলুধ্বনী শুনি।

ওপাশটাতে আপনার চোখের সামনে যে কাঠের আগুন মানুষ জ্বালিয়ে ছাই করে দিচ্ছে, এপাশটাতে সেই একই কাঠের টুকরোর জলন্ত আগুনকে সাক্ষী করে নব দম্পতি সাঁতপাক ঘুরছে। এতোটা ভিন্নতার মাঝেও আমরা নিখুঁত ভাবে মিলে যাই বিষন্নতার এক সমীকরণে। মানুষের বিপরীত চিন্তাগুলোকে আমি মিলিয়ে দিতে পারি সাধারন ভাবেই, সব সময় সে ইচ্ছেটা হয় না।

যখন কেউ আমাকে অনুকরণ করে লাল টিপ ভালোবাসে আপনার জন্য, যখন কেউ আপনার জন্য নিজেকে শাড়ীতে জড়িয়ে আমায় ভোলাতে চায়, বিশ্বাস করেন আমার একটুও কষ্ট হয় না। আমি একটু হেসে বলি, আমাকে তাহলে ভালোবাসা যায়। আমাকে ভালোবাসা যায় বলেই আপনি ভালোবেসেছেন। যখন কেউ আপনাকে অবিশ্বাস করে আমার দরজায় পাহারা বসায়, তখন আমি ভাবি ওরা নিজেরাও বিশ্বাস করে আমাকে ছেড়ে থাকা যায় না। আর সেকারণেই আপনি আমায় ছেড়ে থাকেন নি। এতোগুলো মানুষ এক সাথে ভুল হয় কি করে বলেনতো...? আপনি কি জানেন, বিশ্বাসের চোখ কান থাকে না। যখন কেউ সত্যিই কিছু বিশ্বাস করতে শুরু করবে, সে সেটিকে অবিশ্বাস করার মতন কিছু না শুনতে পাবে, না দেখতে পাবে। আসলে বিশ্বাসটা নিজ থেকেই তৈরি হয়ে যায় আস্তে ধীরে। আবার অবিশ্বাসও যখন তৈরি হতে শুরু করে, সেও চোখে কিছু দেখে না, কানেও কিছু শোনে না।

এখানে অযথা কাউকে কিছু বিশ্বাস করানোর চেষ্টাটাই খুব অবান্তর চেষ্টা। সে কারনেই হয়তো বরাবরের মতনই কারো কোনো মন্তব্যের জবাব দিতে অনিহা প্রকাশ করি। আমার প্রতি মানুষের রাগ হয়, ভীষন মাত্রায় রাগ হয়, সে আমিও বুঝতে পারি। কারনটাও আমি জানি, সে কারণগুলো অহেতুক বলেও ভাবি নি কখনো। যখন কেউ আমাকে তার কষ্টের কারণ ভাবতে শুরু করবে, তখন সে চাইবে আমিও কিছুটা কষ্ট সহ্য করি। আমিও যেনো কিছুটা কষ্ট উপলব্ধি করি।

কিন্তু ওরা কি জানে ওদের মতন মানুষ্য সমস্ত গুনাবলী, সমস্ত অনুভুতি, মান অপমানবোধ, রাগ, অভিমান, সবই আছে আমার। ওদের চেয়েও বহুগুণ বেশী কষ্ট আমিও পাই, উদাসীনতা দেখে ওরা। আমার মুখে সুখী কথা শুনতে ওদের সহ্য হয়না। কিন্তু আমিযে সব খারাপ লাগাগুলো উপেক্ষা করে ভালোবাসি আপনাকে, সে কথা কি ওরা বুঝবে কখনো...? আপনার চুপ হয়ে থাকা বুড়িটার মুখের দিকে তাকিয়ে যখন অস্থীর হয়ে বলে ওঠেন,"বুড়ি আমার, কই কষ্ট হইছেরে" আমি এতটুকুতেই আমার সব পাওনার হিসাব মিটিয়ে ফেলি।

২৪ ঘন্টার একটা মিনিট যখন আপনার সারা দুনিয়া আমার জন্য তোলপাড় হয়ে ওঠে, ওই একটা মিনিটে আমি আমার বাকী ২৩ ঘন্টার পাওনার হিসাব মিটিয়ে ফেলি। আপনার জন্য আমার রাগ জমে না, অভিমান জমে না, অভিযোগ জমে না, শুধু ভালোবাসা জমে। আপনি একটা অভিযোগ বিহীন আমিকে ভালোবাসতে চেয়েছিলেন। আর আমি আপনার সে চাওয়াটাকেও ভালোবেসে ফেলেছিলাম। 


  • ১৭৬১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সৈয়দা মুনিয়া জামান

মুনিয়া লেখালেখি করেন শখের বশে।

ফেসবুকে আমরা