নারীর জন্য হোক মনুষ্যত্বের উদযাপন

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯ ১:১৬ PM | বিভাগ : আলোচিত


একজন মেয়ে জন্মের পর থেকেই সর্বদা “তুমি একজন মেয়ে” এ কথাটা শুনতে শুনতেই অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। তা পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা পর্যন্ত তাকে শুনে যেতে হয় তুমি একজন নারী, তুমি কখনোই পুরুষের সমকক্ষ হতে পারো না, তুমি দুর্বল, তুমি থাকবে পর্দার আড়ালে এ ধরনের কথাগুলি। মেয়েরা একটু দস্যি, একটু চঞ্চল প্রকৃতির হলেই তাকে শুনতে হয় লক্ষি হও, এমন উপদেশ। মেয়েদের মার্কশিট যতো ঐশ্বর্যশালী হোক না কেনো ,তাকে সমাজ বার বার বুঝিয়ে দিতে চাইবে তোমার জায়গা রান্নাঘরে। হ্যাঁ ,আমি সেই সমাজের কথা বলছি, যে সমাজ দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে রাখে একটা মেয়ে জন্ম হওয়ার খবরে।
 
 
সেই পরিবার, সেই সমাজের কথা বলছি আমি –যে একজন নারীর আওয়াজকে নির্দ্দিষ্ট ডেসিবেলের ওপর গেলেই তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এখনো আমরা মেয়েরা সেই সমাজে বেঁচে আছি যেখানে সমাজের লোকেরা তাদের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হবেন না, তারা নিয়ম করে মেয়ের জন্য খেলনা পুতুল আর ছেলের জন্য উড়োজাহাজ  বানাবেন। আর টাকা জমাবেন ছেলের উচ্চশিক্ষা আর মেয়ের বিয়ের জন্য। তারপর মেয়েকে ছেড়ে দেবেন জীবনের সাপলুডু খেলায় যেখানে বিষাক্ত সাপেরা ওত পেতে থাকবে তাদের বিষাক্ত নিঃশ্বাস ছাড়ার জন্য। তার ওপর আছে সুন্দর অসুন্দরের প্রতীযোগীতা। সুন্দর অসুন্দরের বাজারে আপনি জয়ী হতে পারলেতো পারলেন, নয়তো  সমাজ আপনার পরিবারকে বর্ণনা করতে করতে টেনে আনবে রাস্তায় আর আপনাকে বেছে নিতে হবে আত্নহত্যা। যেটা আমরা প্রতিনিয়তই খবরের কাগজের পাতা উল্টালেই প্রমান পাচ্ছি। অথচ একবার ভেবে দেখুন এই কালো চামড়ার নিচেও কিন্তু একটা সুন্দর মন আছে যেটা মানুষের মন।
 
কাউকে ভালোবাসা বা ভালোলাগার অধিকারও মেয়েদেরকে দেয়নি তার সমাজ। সেক্ষেত্রে ধর্মের দোহাই তো থাকবেই, সাথে থাকবে স্পর্ধার দোহাই। যদি কোনো নারী তার স্পর্ধা দেখিয়ে ফেলে তবে তার চোখের তলার অন্ধকার প্রদীপের নিচের অধকারকেও হার মানাবে।
 
সমাজ কখনো দেখতে চায়  না নারীর শক্তি রুপ। সমাজ শুধু চায় নারী শক্তিকে অন্ধকারের গহীনে ফেলে রাখতে। বারবার তাই মনে করিয়ে দেয় ঘরের কোণটাই তোমার জন্য উপযুক্ত স্থান, আলো তোমার জন্য না। কুকুরের মত কোণায় পড়ে থাকতে হবে তোমায়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা তোমার সাজে না।
 
অথচ হে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, যে নারীকে মানুষ মনে করতে আপনাদের কষ্ট হয় তার মনের পাহাড়ী উপত্যকায় বইছে ভালোবাসার নদী। সু্যোগ করে সে নদীর পাড়ে বসে জিরিয়ে আসুন, ছায়া পাবেন। পদ্মপাতার ওপর দাঁড়ানো জলের ফোটার মতো প্রতি মুহূর্তে মেয়েদের জীবন নিয়ে জুয়া  খেলা বন্ধ হোক। তারপর শুরু হোক মনুষ্যত্বের উদযাপন। সে উদযাপন বাক স্বাধীনতার সমূদ্র পাড়ে মৌন মাস্তুলের জেটি বাঁধবে না, এ উদযাপন সৌন্দর্য চর্চার নামে ভোগ করবে না নারীর পরিচয়। যে উদযাপন নিয়ম করে নারীদের জন্য লিখবেনা কোনো  নিষিদ্ধ ইস্তেহার।
 

  • ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

প্রেমা চক্রবর্তী

ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চার ওপর আলাদা একটা টান আছে। লেখালেখি জীবনেরই অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। দৈনিক আজাদী,দৈনিক পূর্বদেশ,বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ, দৈনিক আলাপের মত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় বহুবার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া “ঝাড়বাতি” নামক একটি সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন ।ঝাড়বাতি লিটল ম্যাগের বিভিন্ন সংখ্যাতে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

ফেসবুকে আমরা