পরকীয়া কি তবে আধুনিকতা পরিমাপের মাপকাঠি!

শুক্রবার, জানুয়ারী ২৬, ২০১৮ ১২:০৫ AM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


আজকে যদি কোনো বিবাহিত মেয়ের পরকীয়া তার প্রেমিক পুরুষ (হোক বয়সে ছোট বা বড়) স্ক্রিনশট দিয়ে ফাস করে দিতো তবে কি তার স্বামী সেই মেয়েটির ওয়ালে তার পক্ষে, সাপোর্ট করে ভালোবাসাময় বা সমর্থনমূলক পোস্ট দিতো? এ সমাজের কোনো পুরুষ কি তার পক্ষে সাফাই গাইতো? কেও কি এটাকে ভুল বলতো? পরকীয়া নতুন কিছু নয়, যুগ ধরে চলে আসছে, এটা নিয়ে গবেষণা বা মাতামাতির কিছু নাই, বিষয় হলো এই সকল ঘটনা প্রকাশ ও সাপোর্ট করার মাধ্যমে সমাজে পরকীয়ার দরজা প্রকাশ্যে খুলে গেলো। দিন দিন আমরা উন্নত জাতের হিপোক্রেট হচ্ছি!

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে একদমই নিজস্ব একটি জায়গা থাকা উচিৎ, যেখানে সে কি করবে না করবে সেটা তার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়; কিন্তু আমাদের দেশে স্বামী বা স্ত্রী কেওই কাউকে এই স্থানটুকু দেই না। এই যে একজন মানুষের “একান্তই ব্যক্তিগত জায়গা” এর অর্থ কি? আমাদের সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে এইযে “একান্তই ব্যাক্তিগত জায়গা” এর ব্যপ্তি আসলে কতটুকু?

উন্নতবিশ্বে ওপেন রিলেশনশিপে যারা থাকে তারা সেটা প্রকাশ্যেই থাকে, কিন্তু আমাদের দেশে কি আসলে তাই? আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যবিত্ত সমজাকাঠামোয় গোপনে অনেকেই ওপেন রিলেশনশিপ নামের রিলেশনে জড়িত থাকলেও তা প্রকাশ করি না, সমাজের চোখে সুখী দম্পত্তির ইমেজ ধরে রাখতেই আমরা বেশি পছন্দ করি। পরকীয়া প্রেমে নিশ্চয়ই দু’জন মিলে ধর্মীয় আরাধনা করে না! পরকীয়াতে যৌনতা ছাড়া আর কিছুই থাকে না, আমি অত্যন্ত দেখি নি যে কেও শুধুমাত্র মনের ফাঁকা জায়গায় পূরনের জন্য পরকীয়া করছে। আবার কিছু কিছু যায়গায় একাকীত্ব দিয়ে সম্পর্কের শুরু হলেও কিছুদূর যাবার পর সেটি সেই এক জায়গাতে যেয়েই শেষ হয়!

বিয়ে করার অনেকগুলো কারণের মাঝে একটি কারণ হলো প্রকাশ্যে (দরজা বন্ধ করে প্রকাশ্য), সেইফভাবে, নিজের সঙ্গীর সাথে আইনগত ও ধর্মীয়ভাবে সেক্স করতে পারা। বিবাহিত দু’জন দম্পতির মাঝে যদি এই বিষয়টি না-ই থাকে তবে ওপেন রিলেশনশীপ নামের রিলেশনে যাবার দরকার কি? দু’জন তো ডিভোর্সে গেলেই পারে, কোনো ধরনের সামাজিক বা আইনগত বাঁধা নেই! আমাদের সমাজে কতজন পুরুষ তার স্ত্রীর আর কতজন নারী তার স্বামীর পরকীয়ার কথা জানে বা জেনেও চুপ থাকে? যদি এই সমাজ এতোটাই প্রগতিশীল হয়ে যেতো তবে নারী নির্যাতনের মামলা হতো না আর মামলা হলে কেও কারো চরিত্র নিয়ে অভিযোগ করতো না!

পরিসংখ্যানে ও ব্যক্তিগত জীবনে দেখেছি যে নারী পুরুষের দাম্পত্য জীবনের মামলা ও তালাকের প্রথম কারণ হিসেবেই উল্লেখ করে পরকীয়া! এই সমাজ কি আসলে এখনই প্রস্তুত এই ওপেন রিলেশনশিপ মেনে নিতে? আর্থিকভাবে অসচ্ছল কেও এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তাই আর্থিক ভাবে স্বচ্ছলই যদি হন ডিভোর্স নিয়ে আলাদা থাকলেই তো চলে, ওপেন রিলেশনশিপ নামের ফালতু রিলেশনে যাবার দরকার কি? আর যদি এতই আধুনিক হন আর কলিজায় জোর থাকে তবে ওপেন রিলেশনশীপ এ আছেন এটা ঘোষণা দেন, দেখি আপনি আসলে কত আধুনিক! যেভাবে এই কয়দিন পরকীয়া সাপোর্ট করে লেখালেখি চললো তাতে বলতে হচ্ছে, পরকীয়ার জয় হোক, আপনারা সকলে পরকীয়ায় লিপ্ত হন, এটি একটি গুনবাচক কাজ, সংস্কৃতিমনা এবং আধুনিকতা পরিমাপের মাপকাঠি! 


  • ৩৭২৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফাহরিয়া ফেরদৌস

এডভোকেট , বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

ফেসবুকে আমরা