পিরিয়ড শুধুই একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০১৮ ১২:২৪ PM | বিভাগ : আলোচিত


প্যাড হাতে ফটো আপলোড করার সময় কিছু কথা বলবো ভেবেছিলাম। কিন্তু সময়, সুযোগ বা অলসতার কারণে কিছু বলা হয় নি। যাক প্রসঙ্গে আসি-

সাধারণত মেয়েদের ১১-১৪ বছর বয়সে পিরিয়ড শুরু হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমার সেটা ১১ বছর বয়সের আগেই শুরু হয়। তখন আমি ৫ম শ্রেণিতে পড়ি। পিরিয়ড কি সেটাই জানতাম না। জানার কথাও নয় হয়তো। একদিন হঠাৎ করেই স্কুলে পেটে ব্যথা শুরু হয় আর একটা অদ্ভুত অনুভূতি হতে থাকে। তারপর স্কুল শেষ হওয়ার আগেই ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে আসি।

মামার বাড়ি বেশি কাছে ছিলো বলে আগে ওখানেই এলাম। যখন প্রথম এরকম অদ্ভুত রক্তক্ষরণ দেখলাম তখন ভয়ে তো আমার হাত পা কাঁপছিল। ভয়ে ও লজ্জায় দিদাকে বলতেও পারি নি। তারপর কোনোরকম ফ্রেশ হয়ে বাড়িতে চলে এলাম এবং মাকে সব খুলে বললাম। মা আমায় পুরনো গামছা বা সুতির শাড়ির টুকরো ব্যবহার করা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ মা নিজেই প্যাড চিনতেন না। তারপর একটা ভয়াবহ কথা শোনালেন-"কাল থেকে ২/৩ দিন সবার আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান করবি এবং নিজের জামাকাপড় ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিবি"।

খুব শীতেও ভোরবেলায় উঠে স্নান করতে হতো। আর ৩দিন পর যখন মা বিছানার সব কিছু ধুয়ে দিয়েছিলেন তখন তো আমি আকাশ থেকে পরলাম। মনে মনে একটাই প্রশ্ন ছিলো-"আমার কি এমন হয়েছে?"।

প্যাডের হাতে খড়ি আমার মামির কাছে। তখন ক্লাস ৮। তারপর মাকে বললাম আমাকেও কিনে দাও। মা অবশ্য আপত্তি করে নি। আস্তে আস্তে যখন বড় হলাম বুঝলাম এটা অশুচি কিছু নয়, প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া মাত্র। ক্লাস ১০ এর পর আর আমাকে মা জোর করেও সকালে স্নান করাতে পারেন নি। আমার একটাই কথা-"তোমার দরকার হলে পুরো বাড়ি নিয়ে গিয়ে জলে চুবিয়ে আনো, কিন্তু আমি পারবো না এত সকালে স্নান করতে। এটা আমি ইচ্ছে করে আনি নি, তোমার ভগবান দিয়েছে, তাকে গিয়ে স্নান করতে বল। এই সময়ে পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন থাকাটাই আসল। "মা প্রথম প্রথম ভীষণ রাগ করতেন। এখন একদমই ঠিক হয়ে গেছে। বোনেদের নিজেই এত সকালে স্নান করতে দেন না।

এই গল্পটা আমার আর আমার মায়ের। অনেকের গল্পের শুরুটা অনেকটা এরকমই বা তাদের অভিজ্ঞতা এরচেয়েও খারাপ। কিন্তু আমি চাই শুরু এবং শেষ দু’টোই আমার বোনেদের ও মায়ের মত হোক, আমার আর আমার মায়ের মত নয়। "পিরিয়ড" শুধুমাত্র একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এটা নিয়ে লজ্জা, কানাঘুষা, সমালোচনা একেবারেই কাম্য নয়।

এসময়ে পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর থাকাটা খুব জরুরি। আর এতে ‘প্যাড’র  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কাপড়ের ন্যাকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর। এতে খুব সহজেই রোগ জীবাণু বিস্তার করতে পারে। তাই সবাই সচেতন হোন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন। আর অবশ্যই একটা বয়সের পর নিজের সন্তানকে এই বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দিন।


  • ১১৪৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

রিয়া সরকার

ছাত্রী

ফেসবুকে আমরা