যূথিকা জাকারিয়া

লেখক ও সংষ্কৃতি কর্মী

নো ব্রা ডে

নো ব্রা ডে! দুই হাজার এগারো সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম পালিত হয় পরে তা অক্টোবর মাসের তেরো তারিখে পাল্টে যায়। কারণ অক্টোবর হলো স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতার মাস। বস্তত মাসের একটি দিন ব্রা বা বক্ষবন্ধনী ব্যতীত কাটানোর জন্য এই দিনটি বিশেষত উৎসর্গিত।

স্তন ক্যানসারের কারণে যেসব নারীদের একটি বা দুটি স্তন বাদ দিতে হয়েছে সেইসব নারীদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে প্রথম কানাডায় দিবসটি পালিত হয় স্তন ক্যানসার নিয়ে কাজ করা অঙ্কোলজিস্টদের নেতৃত্বে। বাঙালি নারীর কাছে যেখানে স্তন শব্দটিই উচ্চারণ করা লজ্জার সেখানে নো ব্রা ডে দিবসটিই লজ্জার পরিবেশে নিয়ে যায়৷

আবহমানকাল থেকেই বাংলার নারী আদুল গায়ে শাড়ি জড়ায়। ব্লাউজ বা বক্ষবন্ধনীর প্রযোজন তাদের জীবনে ছিলো না৷ সভ্যতার সাথে সাথে বাঙালি নারীও আজ কর্মজীবন তথা বাইরের দুনিয়ায় বিচরণ করছে৷ আর তাই এ যুগের নারীর কাছে ব্রা প্রয়োজনের আরেক নাম। তবুও আমরা ব্রা সম্পর্কে তেমন সচেতন নই। আদতে আমরা সচেতনতার ভাণ করি মাত্র, সচেতন নই আদৌ। আমরা কয়জন নারী আমাদের ব্রা এর সঠিক মাপ জানি? সারাটা জীবন ভুল মাপের ব্রা পড়েই কেটে যায় অধিকাংশ নারীর জীবন। নতুন ট্রেন্ড এসেছে পুশ আপ ব্রা, আন্ডারওয়্যার্ড ব্রা পরবার। যা বাড়াচ্ছে ক্যানসারের ঝুঁকি। একজন কিশোরী তার বাড়ন্ত শরীরে কেমন ব্রা পরবে তা জানেন না তার মা৷ কাজেই জীবনের শুরুতেই ভুল ব্রা পরবার কারণে অঙ্গ বিকৃতি ঘটে। আবার ছত্রিশের বেশি যাদের কাপ সাইজ তারা ব্রা না পরলে আক্রান্ত হচ্ছেন কোমর ব্যথাসহ নানান জটিলতায়। অনেকেরই স্বভাব হচ্ছে টাইট ব্রা পরবার যাতে বগলের কাছে বিস্তৃত লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয় বা ছিঁড়ে যায়। আবার যখন কেউ খুব ঢিলা অন্তর্বাস বা ব্রা পরেন তখন স্তনের ভারের কারণে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ দেখা গেছে একজন নারী তার জীবনে মোট চাররকমের ব্রা পরেন। একজন নারী যখন গর্ভবতী হন তার পুরো শরীরের সাথে সাথে স্তনের আকার আকৃতিও বৃদ্ধি পায় তাই এসময় সঠিক আকারের ব্রা পরতে হয়। আবার প্রসবের পরে একজন প্রসূতি মা যিনি তার সন্তানকে স্তন্য পান করাচ্ছেন তার জন্য উপযুক্ত হচ্ছে মেটারনিটি ব্রা। স্তনের আকার ও স্বাস্থ্য ভালো রাখবার জন্য ব্রা বা বক্ষবন্ধনী জরুরি।

আবার যখন দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন ব্রা পরে তখন বাড়ছে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নারীর মৃত্যু হয় এই স্তন ক্যানসারেই। প্রতি মাসে মাসিকের সময় গুলিতে সেল্ফ ব্রেস্ট এগজামিন করা জরুরি। সন্তানকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত স্তন্যপান করানো হলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। যেসব নারীর পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে বাকী নারীদের তুলনায় তাদের ঝুঁকি বেশি। আবার যাদের স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বয়সে ঋতুস্রাবের ইতিহাস আছে, বাচ্চার জন্ম দেরিতে হয়েছে তাদেরও ঝুঁকি বেশি। স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এতদিন এই ক্যান্সারের ব্যাপারে নারীদের সচেতন করার জোরটা ছিলো বেশি, কিন্তু এখন পুরুষদেরকেও সচেতন করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। যদিও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসেবে দেখা যায় যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪১ হাজার মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, সেই তুলনায় মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। আসুন এই অক্টোবর মাসে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াই। নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করি, নিরাপদ থাকি।

1475 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।