প্রিয় নীলাম্বর

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৭ ৭:৪৮ PM | বিভাগ : ওলো সই


একটা সময় ছিলো, তখন আমার ভীষণ একলা সময়। তার আগে খুব কেউ পাশে না থাকলেও অনেকের ভেতরে থেকে অভ্যস্ত ছিলাম। সে সময়ে কাজের খুব ব্যস্ততা আর কিছু প্রিয় পরিচিত পথগুলোকে ভালোবাসতে চেষ্টা করছিলাম। রোজই আবার আত্মীয় নামের কিছু সম্পর্কের সামনে গিয়ে একরাশ হাসি মুখে একে বসে থাকতাম। তারপরও বিড়বিড় করতাম "উহু আমি এসব চাইনা, আমি এদের কাউকে চাইনা"।

ঐ সময়টাতে একটা কাউকে সারাক্ষণ পাশে পাওয়ার জন্য কেমন যেন মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম। সত্যি বলতে টানা পাঁচ বছর এমন এই একজন নামের মানুষটাকে খোঁজার প্রয়োজন মনে হলেও ভাবনাটাকে তেমন মাথায় চেপে বসতে দেইনি। কিন্তু তখন মনে হতে শুরু করলো না আমি আর পেরে উঠবো না। আমার কেউ একজনকে সারাক্ষণ পাশে চাই। কেনো জানি না অস্থির হয়ে খুঁজতে লাগলাম। কোথাও কোনো মুখ বা কোনো শব্দে চোখটা আটকে যায় কিনা।

না, অনেক খু্ঁজেও এমন একটা কাউকে পেলাম না যার কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে কথা বলার জন্য একটু আগ্রহ হতে পারে। একদম ছোট থেকে এখন পর্যন্ত আমি কেউকে আমার ছায়া সঙ্গী টাইপের বন্ধু ভাবতে পারিনি। হয়তো ক্লাসের সবাই আমাকে বন্ধু মনে করতো। সবার সাথেই সমান ভাব ছিলো। তবে কাউকে আলাদা করতে পারতাম না কখনো, মনের মতন কেউ হয়নি। তারপর একদিন কেমন করে যেনো একজনকে ভালো লেগে গেলো। তাকে কখনো দেখিনি আমি, সে অনেক কথা, পরে কখনো বলবো সময় করে।

যাকে ভালো লেগেছিলো সে আমার ভালোলাগাতেই থেকে গেলো। সেই ভালো লাগাকে আড়াল করে আরো দুটো বছর কেটে গিয়েছিলো। আর তাকে ভালো লাগার কারনে একটার পর একটা জটিলতার সাথে জুড়ে গেলাম। সব জটিলতাকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করেছিলাম। তখন প্রায় মাঝে মধ্যেই মনের মধ্যে নিজের মতন গড়ে নেওয়া মানুষটাকে খু্ঁজতাম। মনে হতো আমার একবার হলেও তার সাথে দেখা হওয়ার ছিলো। এক ক্লান্ত বিকেলে হা হা শূন্য ঘরটায় দম বন্ধ লাগছিলো খুব। ঘরে আমি ছাড়াও আরো যে তিনটে প্রানী ছিলো তাদের সাথে না, অন্য কারো সাথে কয়েকটা কথা বলার ইচ্ছে পেয়ে বসলো।

ইনবক্সে পুরোনো ম্যাসেজগুলো ঘাটতে গিয়ে আঙুল আটকে গিয়েছিলো আপনার নামে। কি জানি কবে আপনার ম্যাসেজ সিন করে রেখে দিয়েছি। অনেক দ্বিধা দন্দ্ব কাটিয়ে বাসি ম্যসেজের উত্তর করেছিলাম। কিন্ত আপনার প্রতিটি শব্দ আমার জানা, মনে হচ্ছিলো এর পরের কথাটা আপনি কি বলবেন আমি সব জানি। আমার একবারের জন্য হলেও মনে হয়েছিলো আমি আপনাকে তখনই আমার সামনে এসে দাঁড়াতে বলি। শুধু দেখবো একবার এতো মিল থাকে কি করে মানুষে মানুষে। কিছু মূহুর্তের জন্য আমার সবকিছু থেমে গিয়েছিলো।

খুব বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে পারিনি। মাত্র দু’ঘন্টার ব্যবধানে আপনার সামনে গিয়ে বসেছিলাম। একজন মানুষকে দেখার এতোটা আকুলতা কি করে জন্ম নিয়েছিলো সে আমি বলতে পারবো না। এমন করে কারো কাছে ছুটে যাবো সেওতো ভাবিনি। আমার ভাবনার বাইরে আরো অনেক কিছুই সেদিন পেয়ে গেলাম। মনে হয়েছিলো একজন আপনি কয়েক যুগ ধরে শুধু আমার জন্যই অসীম অপেক্ষা নিয়ে বসে আছেন। যেনো আপনি জানতেনই আমার মতনই কেউ আপনার কাছে আসবে।

এক দুবারের চাহনিতেই আপনাকে মুখস্ত করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। বুঝলাম আপনি একজন সহজ মানুষ, তবে সরল না। আপনার প্রতিটি কথা, আপনার কন্ঠ সব যেন আমার চেনা। যেনো এমন এমনই আমি ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু আপনারতো জানার কথা না, কি করে আপনি মিলে যাচ্ছেন আমার কল্পনায় গড়া অস্তিত্বহীন একটা মানুষের সাথে। শুধু আপনার সরলতা পেতাম না বলেই বারবার ছুটে যেতাম, কখনোবা আপনার ডাকে কখনো আমি নিজেই ডেকে নিতাম। তারপরও বুঝতে পারিনি কি চান আপনি! শুধু বুঝেছিলাম আপনি আমাকে চান, এর বেশীকিছু হয়তো নিজেও জানতেন না। তাই আমারও জানা হয়নি।

আপনাকে আমার সবটা ভালো লাগা দিয়ে ছুঁয়েছিলাম। একজন মানুষ এতোটা আপন হয়! যতটা আপন আপনি আমার। আমি সত্যিই ভেবে অবাক হয়ে যাই, সেই প্রথম আপনাকে দেখে যেমন মনে হয়েছিলো এই যেনো আমার জন্যই বসেছিলো কয়েকযুগ, এখনও তেমনই মনে হয়। যখন আপনি কাজ শেষে অনেকটা সময় আমাকে ছুঁয়ে দেখেন নি বলে ছুটে আসেন, তখন আপনার ঐ ছুটে আসা দেখতে দেখতে মনে হতে থাকে, আপনি যেন অনন্তকাল শুধু আমার দিকেই আসছেন।যেনো সমস্ত ভালোবাসা জমিয়েই রেখেছিলেন আমাকে ভালোবাসবেন বলে।

 


  • ৭১৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সৈয়দা মুনিয়া জামান

মুনিয়া লেখালেখি করেন শখের বশে।

ফেসবুকে আমরা