কোভিড১৯ঃ মধ্যবিত্তের যন্ত্রণা, দেখবার কেউ নেই

শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০ ৩:৫৬ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে যেমন বাড়ছে মানুষের আক্রান্ত ও মৃত্যু হওয়ার ঘটনা তেমনি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রাও বাড়ছে সমানুপাতিক হারে। কোভিড-১৯ শুধু সংক্রামক রোগ হয়েই থাকে নি বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

কোভিড-১৯ এত বিস্তারের আতংকে একের পর এক বিচ্ছিন্নতার নীতিকেই প্রতিরোধের উপায় হিসেবে দেখছে বিশ্ব; ফলে আক্রান্ত দেশগুলো একের পর এক নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিকসহ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। তবে উদ্বেগের বিষয় এই যে ধনী দেশগুলোত তুলনায় দরিদ্র বা উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও বেশি বিপদে পরার সম্ভাবনা রয়েছে, ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশ করোনায় আক্রান্ত হবার পর থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে লক্ষ্যনীয়ভাবে। ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ; মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী মানুষেরা পড়েছেন মহাবিপদে। তবে সবচাইতে বেশি দুর্দশার পরেছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণি।

এই সংকটকালীন সময়ে নিম্নবিত্ত, হতদরিদ্র মানুষেরা সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে নানা সাহায্য পাচ্ছেন; বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তিগত উদ্যোগেও দরিদ্র মানুষের হাতে পৌছে দেয়া হচ্ছে খাবার সামগ্রীসহ আর্থিক সহায়তা। কিন্তু মধ্যবিত্তের তেমন কোনো উপায় খোলা নেই।

সরকারি পর্যায়ে প্রনোদনা ঘোষণা করা হয়েছে পোশাক শিল্পের জন্য কিন্তু মধ্যবিত্তের দেখবার কেউ নেই! তারা লোকলজ্জায় না পারছেন কিছু বলতে, না পারছেন সইতে! অনেক বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের বেতনই পান নি এখন পর্যন্ত। অনেকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আশংকায় কর্মসংস্থান হারানোর ভয়ে দিন যাপন করছেন। এমনিতেই মধ্যবিত্তের জীবন কোনঠাসা; নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা তার সাথে যোগ হয়েছে করোনা পরিস্থিতিতে উদ্ভুত আর্থিক সংকট, অনিশ্চয়তা!

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই সামান্য যা সঞ্চয় ছিলো তা ব্যায় করে ফেলেছেন; এখন সামনের দিনগুলো কিভাবে ব্যয় সংকুলান করবেন সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বাসা ভাড়া, গৃ্হস্থালী খরচ, সন্তানের টিউশন ফি কিভাবে মিটাবেন হিশমিশ খাচ্ছেন চিন্তায়। চাকরি না থাকলেই বা কী করবেন জানেন না তাঁরা।

মধ্যবিত্ত খুচরা ব্যবসায়ীরাও পরেছেন বিপদে; মার্কেটে দোকান বন্ধ থাকায় তাঁদের আর্থিক লোকশান গুনতে হচ্ছে প্রতিদিন; মাস শেষে কর্মচারীদের বেতন, দোকান ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল কীভাবে পরিশোধ করবেন দিশেহারা তাঁরা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে চোখে অন্ধকার দেখছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণি; অনেকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য তালিকায় কাঁট ছাঁট করে ব্যালান্স আনছেন। কমিয়ে দিচ্ছেন টেবিলে খাবারের তালিকা!

মিরপুরের এক ব্যবসায়ী বলছেন, “নিম্নবিত্তের লোকজন তো সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে, বেসরকারি সহায়তা পাচ্ছে, কিন্তু মধ্যবিত্তের কী হবে? তার ঘরে খাবার শেষ হয়ে আসছে। এখন অল্প অল্প করে খাচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়। কারণ তারা কখনোই খাবারের কষ্ট করে নি। খাবার টেবিলে বসলে কান্না আসে।" 

এই হচ্ছে মধ্যবিত্তের সামগ্রিক অবস্থা!

সরকার যদি এখনি মধ্যবিত্তের জন্য আর্থিক প্রনোদনা ঘোষনা না করেন তবে বলা বাহুল্য মধ্যবিত্তের জীবন আরও সংকটময়ই হবে না শুধু জীবন যাপন দূর্বিষহ হয়ে উঠবে দিনকে দিন।


  • ৩৪২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

নাসরীন রহমান

এক্টিভিস্ট ও লেখক