নারীরা কেনো জিহাদে উৎসাহী হচ্ছে?

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৮ ৯:১৪ PM | বিভাগ : মুক্তচিন্তা


বাংলাদেশের মেয়ে মোমেনা সোমা। আইএসে যোগ দেয়ার জন্য সোমা তুরুস্কের আতিলিম ইউনির্ভাসিটি থেকে স্কলারশিপ নিয়েছিলো। কিন্তু ঢাকার তুরস্ক এম্বাসি তাকে ভিসা দেয় নি কি ভেবে কে জানে। জিহাদে অদম্য মোমেনা তারপর অস্ট্রেলিয়ার একটা ভার্সিটিতে এপ্লাই করে। সাম্রাজ্যবাদীরা ষড়যন্ত্র করে তাকে ভিসাও দিয়ে দেয় যাতে সে জিহাদ করতে পারে!

সত্যি সত্যি এরপর সোমা অস্ট্রিলিয়ান একজন কাফের প্লাস সাম্রাজ্যবাদীকে হামলা চালায়। সোমা তার ছোট বোন সুমনাকে ঢাকায় বলে গিয়েছিলো সে অস্ট্রিলিয়া যাচ্ছে পড়তে নয় কাফের হত্যা করতে। আর এর জেরে যদি ঢাকায় তাদের বাসায় পুলিশ আসে তাহলে সে যেন অন্তত একজন পুলিশকে হত্যা করে জিহাদে শামিল হয়। সত্যি সত্যি সোমার বোন সুমনা তাদের বাসায় আসায় তদন্ত কর্মকর্তাকে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় বড় বোনের উপদেশ অনুযায়ী। জানা গেছে সোমা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তো। একজন প্রাক্টিক্যাল মুসলিম হিসেবে সে ইসলামের সর্বোচ্চ নির্দেশ, ইসলামের অন্যতম চাওয়া সম্পর্কে জানতে গিয়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে কাফের হত্যায় মেতে উঠেছে। সে ইরাকি নয়, আফগানি নয়, কাস্মিরি নয়, সাম্রাজ্যবাদের কোনো প্রত্যক্ষ ফল সে ভোগ করে নি। কেবল মাত্র ইসলাম ধর্মকে গভীরভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে জিহাদের উৎসাহী হয়ে পড়লো।

এরকম ঘটনায় আমাদের ইসলামী ও বামাতী বন্ধুরা প্রায় অভিন্ন সুরে পুঁথি পাঠ করতে থাকেন: এরা সহি মুসলমান নয়। এরা আমেরিকার বেতনভুক্ত এজেন্ট, এসব ইহুদীদের ষড়যন্ত্র, এর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই, রাজনীতি সম্পর্কে আপনাদের কোনো জ্ঞান নেই, প্রচার মাধ্যমে মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে, খ্রিস্টান-হিন্দুরাও হত্যাকান্ড চালায়, সব মুসলিম জঙ্গি নয়, আপনি মুসলিমদের ঘৃণা করেন, আপনি বর্ণবাদী ব্লা ব্লা ব্লা…।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ধর্মীয় উপসানালয় তুলে দেয়া আর নির্দিষ্ট করে মসজিদ বা নামাজের স্থান তুলে দেয়া দু’টো ভিন্ন কার্যক্রম। পৃথিবীর শতভাগ সেক্যুলার রাষ্ট্র তার দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ধর্মীয় কোনো প্রতিষ্ঠা রাখবে না কারণ রাষ্ট্র ধর্ম শিক্ষার দায়িত্ব নেয় নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের কাছে সমান তাই জাতি ধর্ম বর্ণ ভেদকরণকে তারা প্রশ্রয় দিবে না। কিন্তু পৃথিবীর এমন কোনো দেশ যারা সর্বধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত টাইপের কোনো অবস্থানের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাখার ব্যবস্থা রাখলে কেবল মাত্র মসজিদ বা নামাজের স্থান নিয়ে পেরেশানিতে পড়লে সেটা কেমন হবে? যদি বাধ্য হয়ে তারা মসজিদ বন্ধ করে দেয়? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পুজার মতো কুসংস্কার আর কলেজের মসজিদে জিহাদ কতলের পরিকল্পনা বা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা একদমই ভিন্ন ধর্মীয় সমস্যা। জ্ঞান অর্জন করে যদি আমরা বিশ্বাস করি এই জ্ঞান একজন দেবী দেন তারচেয়ে শোচনীয় আর কি হতে পারে?

প্রবীর ঘোষ ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পুজা বন্ধ করতে প্রচার চালিয়েছিলেন এই অবস্থান থেকে। আর আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মসজিদ বা নামাজের স্থান উঠিয়ে দিতে প্রচার চালাতে হবে কারণ এখানেই ‘দাওয়াতের’ কার্যক্রম চলে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নামাজের স্থানে জিহাদের প্রথম তালিম শুরু করা হয়। মোমেনা সোমার মতো পারিবারিকভাবে ধর্মান্ধ শিক্ষার্থীরা এরকম কোনো নামাজের স্থান থেকেই কোনো সিনিয়রের মাধ্যমে বায়াত গ্রহণ করে। আমরা এসব মূল জায়গায় কোনোদিন হাত দিবো না বরং উপরের বামাতীদের মতো উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিন শেষ করবো। ফলাফল আরো শত শত সোমা, নজিবুল্লা, সোহান গাজিদের তৈরি হতে আমরাই প্লাটফর্ম রেডি করে রাখছি…।


  • ৪১৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুষুপ্ত পাঠক

বাংলা অন্তর্জালে পরিচিত "সুষুপ্ত পাঠক" একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার।

ফেসবুকে আমরা