নারী ও পুরুষ পাশাপাশি হাঁটুক

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৮, ২০১৮ ১২:৫৯ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


আজ ৮ ই মার্চ। বিশ্ব নারী দিবস। এই দিবসটা ঘিরে আজ অনেক সভা, সেমিনার আয়োজন করে নারী অধিকার, নারী নির্যাতন, নারীর অর্থনৈতিক অবদানসহ অনেক বিষয় আলোচনা করা হবে। কিন্তু সমাধান কতদূর হবে জানি না। এসব করে নারীরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে তার হিসেব কষলে তেমন চোখে পড়েনা। তবে এক সময় দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্যই ‘শ্রমজীবি নারী দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করা হতো। এর পর ধীরে ধীরে নারী অধিকারের বিষয়গুলো চলে আসে।

সব দেশে নারীরা কম বেশী নির্যাতিত হয়। কোনো দেশে নারীরা তেমন ভালো নেই। যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, যৌতুক, ইভটিসিং প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। নারী তাঁর অধিকারের কথা বললে নির্যাতিত হচ্ছে। শুধু একদিন আলোচনা করে এর সমাধান আমরা করতে পারবনা। যতদিন আমরা ঘর থেকে নারীদের সম্মান দিতে না পারি ততদিন নারীরা অসম্মানিত হবে। যদি আমরা নিজ ঘর থেকে নারীদের সম্মান শুরু করি দেখবেন সমাজ রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নারীরা সম্মানিত হচ্ছে। নারীদের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও নারীর মতামতের প্রতি স্বাধীনতা যেদিন থাকবে এই দিবসের গুরুত্ব তখন অনেকটা এমনি কমে যাবে। তখন নারীদের জন্য আলাদা দিবস লাগবে না।

তবে আবার এটুকু বলা যায় যে তাও এই একটা দিনই নারীদেরকে নিয়ে গোটা বিশ্ব ভাবে তাদের গুরুত্ব এই পৃথিবীতে কতটুকু। তারপরও দেখবেন এই বিশেষ দিনটাতে ও কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতিত হচ্ছে। যে মানুষটা নারী অধিকারের পক্ষ নিয়ে এতক্ষন কথা বললো সে লোকটাই দেখবেন যে নিজের ঘরে বউয়ের অধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অনেক আগে বলে গেছেন বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। সত্যি তো নারী পুরুষ মিলে তো এই পৃথিবীটা বাসযোগ্য হয়েছে। তাহলে নারীদের মতামতের স্বাধীনতা থাকবে না কেনো? আমাদের ধারনা আছে যে বুঝি শ্রমিক, দিনমজুর ও রিক্সা ওয়ালারা বউকে মারে। যদিও এটা আমাদের ভুল ধারনা। বর্তমানে আসলে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত সবাই বউকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। শিক্ষিত মানুষের মধ্যে মানসিক নির্যাতনটা বেশি। যা একটা মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। শারীরিক যন্ত্রণাগুলো সহজে ভুলা যায় কিন্তু মানসিক যন্ত্রণাগুলো উঠতে বসতে আঠার মতো লেগে থাকে। আমাদের বিবেক যদি জাগ্রত না হয় তাহলে আমরা কখনও পরিপূর্ন মানুষ হতে পারব না । আর মানুষ হতে না পারলে এসব নির্যাতন চলতে থাকবে।

নারী অধিকারের বিষয়গুলো নিয়েও পুরুষকেও এগিয়ে আসতে হবে সততার সাথে। একটি পরিবারে নারী ও পুরুষ দুজনই কিন্তু গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। কিন্তু সেই পরিবারের কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়না। এমন কি শিক্ষিত মেয়েওরা পরিবারের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। নারীরা শিক্ষিত হয়েছে কিন্তু তাদের অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠা থেকে অনেক দূরে।

বাবা বলে মেয়ে তুমি আকাশে উড়ো, তোমার সফলতা আকাশ ছুঁয়ে যাক। শুধু বাবা নামক পুরুষটি এই কথাটা তার মেয়েকে খোলা মনে বলতে পারে......... আহা বাবা ছাড়া, সব পুরুষেরা যদি এরকম করে প্রতিটা মেয়েকে বলতে পারতো, তোমার পথে কোনো কাঁটা নেই, তুমি নিরাপদ, ভয় পেওনা, শুধু এগিয়ে যাও, আমরা পাশাপাশি হাঁটতে চাই, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর, .........তাহলে হয়তো নারী দিবসের জন্ম হতো না। নারী অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও থাকতো না।


  • ৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

রামিছা পারভীন প্রধান

অফিসার, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি

ফেসবুকে আমরা