নারী

শনিবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৭ ৪:০৩ AM | বিভাগ : ওলো সই


নারীর মন বড় আজব। সে আকাশের চেয়েও দ্রুত রঙ পালটায়। জন্ম থেকে কথাগুলো প্রচলিত। কিন্তু আসলেই কী তাই? কথাগুলো উলটো কী সত্য নয়? নারী ছলনাময়ী। সত্যি কী সে ছলনা করে? না। সে কেবল চায় তার মনের মানুষটি তাকে বেঁধে রাখুক কাছে। সে কেবল চায় কেউ তাকে ভালোবাসুক বিনাশর্তে। "বিনাশর্ত" শব্দটাই হয়তো তাকে ছলনাময়ী উপাধিতে ভূষিত করেছে। মন খারাপ হলে মনে হয় কেউ যদি পাশে থাকতো। একটা সময় সে চাওয়াটাই মেরে ফেলতে হয় গলা টিপে।

নারী হয়ে জন্মেছ তার আবার এত চাওয়া কিসের? মা হয়ে জন্মেছ দায়িত্বের বাইরে আলাপ কিসের? স্ত্রী হয়ে জন্মেছ সংসারের দায়িত্ব পালন করাই আমার স্বীকৃতি ও যোগ্যতা। প্রেমিক হতে পারিনি কারও। প্রেম চাইলেও প্রেম পাওয়া যাবে কেনো? নারীর প্রেমকে অবহেলা করলে কিছু আসে যায় না। তার সামান্য চাওয়াকে প্রশ্রয় দেয়াকেও অনেক পুরুষ মনে করে এই বোধহয় আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতে চাইছে। কিন্তু আমারতো বন্ধনে জড়ানো চলবে না। উপায় হচ্ছে উপেক্ষা করো। প্রয়োজন মত নরম হবো আবার ইচ্ছেমত অবহেলাও করা জায়েজ। নারীর সমস্যা সে তার প্রেমকে অবহেলা করতে পারে না, অবজ্ঞা করতে পারে না। সম্মান দিতে চায়, শ্রদ্ধায় পাশে চায়, কোনো রশিতে বাঁধতে চায় না।

নারী দায়িত্ব নিতে জানে। পুরুষ দায়িত্ব দিতে জানে। দায়িত্ব যে নিতে জানে তাকে নতুন করে দায়িত্বজ্ঞান দিতে হয় না। কিন্তু এর প্রতিদান সে পায় দায়িত্বজ্ঞানহীন উপাধিতে।

নারী কষ্ট হজম করে কারণ তাকে করতে হয়। সে নিজের কষ্টকে অন্যের কষ্টের কারণ করতে চায় না বলে তার ভিতরে জমে উঠে কষ্টের এক শক্ত পাহাড়।

হ্যাঁ, আমি নারী। আমি একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন কন্যা, একজন প্রেমিক। সবকিছু ছাপিয়ে আমি একজন দায়িত্ববান মানুষ যে নিজের কাজের দায়িত্ব নিতে জানে।

কিছুই চাই না। তোমার কাছে চেয়েছিলাম কেবল একটুকরো ভালোবাসার ছোঁয়া, একটু সঙ্গ, একটু ভরসা, একটু ভালো ব্যবহার আর একটু তোমাকে। সেটুকো দিতে তোমার এত কার্পণ্য। তুমি ভাবো নারী কেবল বাঁধতে চায়, জড়াতে চায়। তোমার ভয়, যদি জড়িয়ে যাও, যদি দায়িত্ব নিতে হয়, যদি ঘাড়ে ভুত হয়ে চাপে। তোমার সকল ভাবনাকে জেনেও আমি নারী তোমাকে দিয়ে যাবো কারণ আমার আছে সাগর সেখান থেকে একবিন্দু দিলে আমার কমে না। এটাই আমার উদারতা, তোমাকে দেয়া আমার দায় নয়, দয়া।


  • ১১৯৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

লীনা পারভীন

কলামিষ্ট

ফেসবুকে আমরা