আমারে কেউ ধর্মব্যবসাহীন রক্তপাতহীন মঙ্গল গ্রহে নিয়া যান

রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭ ৬:৪৫ AM | বিভাগ : দেশ/রাজনীতি


গতকাল শুক্রবার সিনাই মসজিদে ইসলামী চরমপন্থীরা বোমা মাইরা এবং অটোমেটিক রাইফেলে গুলি চালাইয়া প্রায় আড়াইশ’র উপর সুফিবাদী এবং শিয়া মুসলিমরে খুন করেন। এইসময় আরো শ’ খানেক মুসলিম আহত হন।

তবে ৯০ শতাংশ সুন্নি মুসলিমের দেশ বাংলাদেশে এই নিয়া কোনো উচ্চবাচ্চ্য শুনা যাইতেছে না। কারণ সম্ভবতঃ এই দেশের বা পৃথিবীর কোনো দেশের সুন্নি মুসলিমরা শিয়াদের মুসলিম বইলা মনে করেন না। তাই এইসব শিয়াদের নির্বিচারে খুন হওয়া নিয়া উনাদের মাথাব্যথা নাই।

আমার ধারণা এবং বিশ্বাস এই ঘটনায় আইসিস জড়িত না। আমার বিশ্বাস এই ঘটনায় সৌদি আরব, মিশর নিজে এবং সৌদি গংয়ের বাকি তুলনামূলক ধনবান মুসলিম দেশগুলি জড়িত। মজার ব্যাপার হইতেছে, সৌদি আরব যখন ইয়েমেনের সুন্নি মুসলিম বাচ্চাদের খুন করতেছে, তখনও বাংলাদেশের মুসলিম জনগণ এই নিয়া মুখ খোলেন না। কারণ সৌদি আরব বাংলাদেশের মুসলিমদের প্রাণপ্রিয় আব্বা হুজুর।

সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের (এবং সেই সূত্রে ইজরায়েলেরও) প্রকাশ্য ‘যুদ্ধাস্ত্র’ প্রেম দেখা যাওয়ার পরেও, বাংলাদেশের মুসলিম সরকার এবং বাংলাদেশের কোনো মুসলিম সৌদি আরবরে বয়কট করার সাহস দেখান না ক্যান, কন দেখি? একমাত্র সৌদি আরবের দুই শহরের নাম মক্কা এবং মদিনা হওয়ার কারণেই কি বাংলাদেশী মুসলিমদের এই স্বেচ্ছা-অন্ধত্ব? নাকি এইখানে আরো ফান্ড-জনিত কাহিনী আছে?

ইসলাম শান্তির ধর্ম এই গল্প বলেন তারাই- যারা এই ধর্ম সম্পর্কে জানেন না। রক্তপাতের মাধ্যমেই ইসলামের সূত্রপাত, রক্তপাতের মাধ্যমেই ইসলামের প্রচার এবং বিস্তার। সৌদি আরব, মিশর, আরব-আমিরাত ইত্যাদি মুসলিম দেশ নিজ স্বার্থেই ইসলামের রক্তপাতের উদাহরণ সামনে রাইখা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলাইয়া তুরষ্ক, লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরান ইত্যাদি দেশরে কচুকাটা করতেছে। ইজরায়েল থিকা ফিলিস্তিনিদের বাইর করাও এই মাস্টার-প্ল্যানের আরেক অংশ। বাংলাদেশের মুসলিম জনগণের ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রাণ কান্দে ঠিক, কিন্তু উনারা এই প্ল্যানে সৌদি আরবের অংশগ্রহণরে ঠিক মিলাইয়া উঠতে পারেন না। উনাদের দোষ দিয়া লাভ নাই। উনারা কুরান মুখস্ত কইরা হাফেজ হইতে পারছেন অবশ্যই, কিন্তু কুরানের রাজনীতি বুঝার জ্ঞানার্জন করতে পারেন নাই।

তাই ডিয়ার বাংলাদেশি সুন্নি মুসলিম ভাইয়া, আপনি নিজেরে মুসলিম বইলা দাবী করলে এবং ইসলাম শান্তির ধর্ম এই মর্মে প্রচার চালাইলে আর দয়া কইরা নিরীহ মানুষের মৃত্যুতে মুখ বন্ধ কইরা থাইকেন না। চরমপন্থীরা মুসলিম না এমন দাবিও কইরেন না। গতকালকের আড়াইশ’ মুসলিমের মৃত্যুতে ইসলামের পতাকা তলে খাড়াইয়া থাকা সৌদি আরবসহ অন্যান্য ধনবান মুসলিম রাষ্ট্রই দায়ী।

আর আপনি সুন্নি বইলা শিয়ার মৃত্যুতে যদি আপনার বিবেকের টনক না নড়ে, তাইলে বুঝবেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম এইটা একটা গালগল্প। যদি সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেমেও আপনার সৌদি আরবের প্রতি প্রেম না কমে, তাইলে বুঝবেন, আপনি ধর্মের ঠুলি পইরা আন্ধা হইয়া বনবন বনবন ঘুরতেছেন। আপনার ঠুলির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের মতো সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের ধর্মব্যবসা সুন্দর যাইতেছে।

তাই চোখ খুলেন। বিনাবিচারে মানুষ খুনের প্রতিবাদ করতে শিখেন। সেই খুন বিধর্মীরে করা হইলেও এবং সেই খুন আপনার মুসলিম আব্বা সৌদি আরব করলেও তার প্রতিবাদ করতে শিখেন। সৌদি আরবরে বয়কট করেন। সৌদিদের তেলের স্টকের খবর রাখেন কি? সৌদিদের অপরিমিত টাকার মূল উৎস এখন তেল না, হ্বজ ব্যাবসা। আপনারা যতদিন জমি বিক্রি কইরা হ্বজ করতে যাইবেন, ততদিনই আপনাদের টাকায় ইয়েমেনে এবং সিরিয়ায় এবং গাজায় নিরীহ মানুষ খুন হবেন।

তাই ইসলামরে শান্তির ধর্ম ‘বানাইতে’ চাইলে সৌদি আরব এবং সৌদি আরবের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্ররে বয়কট করেন। পৃথিবী শুধু আপনাদের, অর্থাৎ সুন্নি মুসলিমদের না, পৃথিবী শিয়াদের, কাদিয়ানিদের, সুফিদের, ইহুদিদের, খ্রিশ্চানদের, নাস্তিকদের, হিন্দুদের, বৌদ্ধদের, জৈনদের, সমকামীদের, শিশুদের, নারীদের, পুরুষের এবং হিজরাদের। তাই সকল প্রকার মানুষ খুনরে ‘না’ বলতে শিখেন। আপনার ধর্ম নিজ নামাজ রোজায় সীমাবদ্ধ রাইখা বাকি মানুষদের জন্য পৃথিবীরে বাসযোগ্য বানান, সকল প্রকার ধর্মব্যবসারে থামান, প্লিজ।


  • ২৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

নাদিয়া ইসলাম

নারীবাদী

ফেসবুকে আমরা