সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ গল্প

রবিবার, অক্টোবর ১, ২০১৭ ৯:২৯ AM | বিভাগ : সাহিত্য


বিয়ের আগে :
আজ শীলার জন্মদিন। বাবা কিছুতেই যেতে দিল না। অনেক করে বললাম নিলু, নাজমা, নাইছু, ডাক্তার আঙ্কেলের মেয়ে সকলেই যাচ্ছে; আরো বললাম, সন্ধ্যে হবার আগেই বাড়ি ফিরে আসবো, তবুও না। বাবা না বললে সেটাকে হ্যাঁ করাই কার সাধ্য! হেলাল সাহেব আমার বাবা। একমাত্র অফিসের বস ছাড়া কারও কথাই শোনেন না তিনি। বস যা বলেন সবকিছুই মেনে নেন আর বসের ওপরের রাগটা এসে আমার আর মার ওপরে দেখান। মা নীরবে মেনে নেন, আমিও। মা প্রায়ই বলেন, ‘তোর বাপ পুরুষ মানুষ, বাইরের কত ঝামেলা-ঝক্কি সহ্য করতে হয়, রাগ তো একটু করবেনই।’ আমি কোনো কথা বলিনি, না মাকে, না বাবাকে। ওরা এখন নিশ্চয় খুব মজা করছে!

 


বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। এই বাড়িটার আবার সামনে এবং পিছনে দুই দিকেই বারান্দা আছে। পিছন বারান্দা থেকে সড়ক দেখা যায়, গাড়ি আর জ্বলন্ত মানুষ দেখতে আমার ভালোই লাগে। মনে হয়, এই রোবটের জগতে আমিই একমাত্র মানুষ। এখন আমি সামনের বারান্দায়। এখান থেকে খাঁখাঁ শূন্যতা দেখা যায়। দূরে একটি স্কুল মাঠ, ওখানে সকালে স্কুলের ছেলেরা এবং বিকালে মহল্ল­ার ছেলেরা খেলা করে। নাম না জানলেও ওদের সবাইকে আমি চিনি। প্রতিদিন আমি বারান্দায় বসে খুঁজে বের করি নতুন কে কে যোগ দিল এভাবে আমি ওদেরকে নিয়ে খেলি।


আজ আবহাওয়াটা বেশ গুমোট, বাতাস বোধহয় বিল্ডিংগুলোর ওপাশে আটকে গেছে। বারান্দার চেয়ারটিতে অনোক্ষণ বসে রইলাম। মা বলেছেন, আজ ছুটির দিন, ভাইয়া এবং বাবার কিছু কাপড় কেচে দিতে। ভাইয়া অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে। ওরা কলেজ থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গেছে; বলেছে, আমার জন্য কক্সবাজারের অপরূপ দৃশ্যের অনেক অনেক ছবি তুলে আনবে, আর কত কত শামুকের কসমেটিক্স নিয়ে আসবে আমি বলেছি আনতে। ‘মা চন্দ্রা, তপনের কাপড়গুলো ভিজিয়ে রাখলাম; গোসলের আগে কেচে রোদে দিস।’ ভাইয়ার নাম তপন, মামারা আদর করে রেখেছিল। আমার নাম চন্দ্রাই থাক, দাদা বলেছিলেন। দাদা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। সবসময় দাদাভাই দাদাভাই করে ডাকতেন, আমাকে গভীর রাত পর্যন্ত নানার অতীত জীবনের বীরত্বের গল্প শোনাতেন, যার বেশিরভাগই বানানো আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম।


মা আবারো ডাকলেন। আমার আজ পানি নাড়তে ইচ্ছে করছে না। তবুও কাপড়গুলো কেচে ছাদে শুকাতে দিয়ে রুমে এলাম। আজ শীলার জন্মদিনে যাব বলে বেগুনি রঙের সালোয়ার-কামিজটা বের করে রেখেছিলাম। একবার ভেবেছিলাম শাড়ি পরবো। নাজমা বলল, ওরা কেউই শাড়ি পরবে না। এখন আমি ইচ্ছে করলেই শাড়ি পরতে পারি। ওরা নিশ্চই অনেক মজা করছে! শাড়িটা খুব পরতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমি আবার একা একা শাড়ি পরতে পারি না। এখন এই অসময় শাড়ি পরার কথা বললে মা নিশ্চয় ক্ষেপে যাবেন। অগত্যা সালোয়ার-কামিজটা পরলাম, গত ঈদে ভাইয়া কিনে দিয়েছিল। ম্যাচিং করে টিপ, কানের দুল, লিপস্টিক সবই পরলাম। ওরা আজ কেমন সেজেছে কে জানে! আবারো বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। আজ স্কুল বন্ধ, সাপ্তাহিক ছুটি। মাঠে কয়েকটি ছাগল জিরিয়ে নিচ্ছে এই অলস দুপুরে।


রুমে এসে টেলিভিশনটা ছেড়ে দিলাম। চ্যানেলগুলো শেষ অব্দি ঘুরে এলাম। বিশেষ কিছু হচ্ছে না। দ্যা টারমিনাল মুভিটার শেষ দৃশ্যটা আবারো দেখলাম। মা কাজে ব্যস্ত। আমাকে এই ভাবে সেজে-গুজে টিভি দেখতে দেখলে নিশ্চয় খুব রাগ করবেন। টিভি বন্ধ করে হুমায়ুন আহমেদের আজ হিমুর বিয়ে বইটা হাতে নিলাম। গতকালই বইটা শেষ করেছি। কিছু কিছু জায়গা আবারও পড়লাম। হুমায়ুন আহমেদ যদি প্রতি সপ্তায় সপ্তায় বই বের করতেন তাহলে বেশ হতো! আমার না মাঝে মাঝে হিমু হতে ইচ্ছে করে! মেয়েরা কি হিমু হতে পারে? আমাদের এই সমাজে রাতে হিমুর বয়সী একটা মেয়ে হিমু হয়ে যদি হেঁটে বেড়ায় তাহলে তার কী কী ক্ষতি হবে ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। মেয়েরা শিশুদের মতো ঘরেই নিরাপদ। এসব ভাবনা মাথায় এলেই আমার আর হিমু হওয়া হয় না।


আবারও বারান্দায় গেলাম। এখন নতুন পোশাকগুলো ছেড়ে সাদা-কালো মিক্সড সুতি কাপড়ের একটি স্যালোয়ার পরে আছি। কিছু দূরে একটি একটি ল্যাংড়া ফকিরকে চাকাওয়ালা গাড়িতে করে ওর বৌ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ফকিরটা আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ওর বোধহয় আমার বয়সী মেয়ে আছে; আমাকে দেখে তার কথা ভাবছে, কিন্তু দৃষ্টি বলছে অন্য কথা। আমার গা ঘিন ঘিন করে উঠল।

 

বিয়ের পরে :
আজ আর ঘুম আসল না কিছুতেই। জানালার পদাঁটা সরিয়ে দিলাম। আলোকচ্ছটা সামনের উঁচু দালানটির ফাঁক গলিয়ে আমার কপালে এসে পড়ল। আলো আমার ভালোলাগে না কিন্তু রোদ আমার বেশ লাগে। দাঁড়িয়ে রইলাম ঠাঁয়। আমার রুমটা পশ্চিমে হওয়ায় দুপুরের রোদে বেশ তেতে ওঠে। আমার আবার গরম সহ্য হয় না। এ কারণে দুপুরে ঘুমাতে বেশ কষ্ট হত। মি. শাফিন আহমেদ আমার হাসব্যান্ড। বেশ মোটা বেতনের চাকুরি করে। প্রতিবেশীরা এ জন্য আমাকে বেশ সমীহ করে। গত এক বছর থেকে ওর পিছনে লেগে থেকে রুমে এসি লাগিয়ে নিয়েছি। প্রথম প্রথম এসির ঠাণ্ডা সহ্য হত না। এখন সয়ে গেছে, এই নতুন জীবনটার মতন। পর্দা সরিয়ে দিলাম, কপাল তেতে গেছে। এসি থাকলে এই এক অসুবিধে, রুমের বাতাসকে আবদ্ধ রাখতে হয়। আচ্ছা বাতাস, তোর মন খারাপ হয়? নাকি তোরো সয়ে গেছে?

ও, মানে আমার হাসব্যান্ড এখন অফিসে। কাজ পাগল মানুষ। ছুটির দিনেও গাদাগাদা কাজ নিয়ে বসে যায়। আমরা শেষ কবে একসাথে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম, ঠিক মনে পড়ছে না।  তবে এটুকু মনে আছে, ঐ সময় শীতকাল ছিল। বাইরে প্রচণ্ড হিম বাতাস বইছিল। আমি মেরুন শাড়ির উপর কালো রঙের চাদরটা পেঁচিয়ে রেখেছিলাম, ও পরেছিল সাদা সার্টের হালকা অ্যাস কালারের উপর কাশ্মিরী সোয়েটার। দিনটি ছিল শুক্রবার। আমরা বোধহয় ওর কলিগের বাচ্চার জন্মদিনে গিয়েছিলাম; এর বেশি কিছু মনে নেই। গত ঈদে আমার তপন ভাইয়ের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল, বাবা যেদিন মারা গেলেন ঐ শেষ যাওয়া। মা কেমন আছেন কে জানে ! গেল সপ্তায়, তপন ভাইয়ের মেয়ে হয়েছে, আমার মতন নাকি দেখতে!


রিমোর্টটা হাতে নিলাম। এখন পরিচিত কোনো সিরিয়াল নেই। যেগুলো হয় পুনঃপ্রচারিত, রাতেই দেখা হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে তাও দেখি। ওদের কী হবে আগে থেকেই বলে দিই, ভবিষ্যৎকে যদি এমন করে দেখতে পেতাম, মাঝে মাঝে খুব লোভ হয়! আজ শনিবার। এই দিনে তেমন কিছু হয় না। আমির খানের অনেক পুরানো একটা সিনেমা খুলে বসে থাকি। সিনেমাটি যে কতবার দেখেছি তার ইয়াত্তা নেই। আমার যদি ভুলে যাওয়ার কঠিন কোনো রোগ থাকতো, তাহলে টিভি দেখেই দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারতাম কয়েকটি জীবন। ঘণ্টাখানেক টিভির সামনে ঠাঁয় বসে রইলাম। ৭৭টি চ্যানেল আছে, সবগুলো কয়েকবার পাক মেরে এসেছি। রিমোটের ব্যাটারি ডাউন হয়ে গেছে তাই ঝুঝি এক চাপে কাজ হচ্ছে না। বিদ্যুৎ চলে গেল। দুপুর দু’টা, এই সময় একবার যাবেই।

এ মাসের সানন্দাটা নিয়ে বাইরের রুমের সোফায় গিয়ে বসলাম। এই সংখ্যায় রূপচর্চার ওপর ভালো একটা আর্টিকেল আছে, গতকাল ট্রাই করেছিলাম। এবং মেয়েদের ব্যয়াম নিয়ে দীর্ঘ এক ফিচার আছে। আমার ঠিক কাজে লাগবে না তবুও পড়লাম। বাংলাদেশের মেয়েরা নাকি বসে থেকে থেকে মুটিয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামীর আবার স্বাস্থ্যবান মেয়ে পছন্দ সুতরাং আমার শরীরে আরেকটু মাংস লাগলে মন্দ হবে না, সে বরং খুশিই হবে। বাচ্চা হওয়ার পর মেয়েদের স্বাস্থ্য নাকি ঢিলে হয়ে যায়, আমার ক্ষেত্রে তা ঘটে নি। সানন্দায় কারিনার স্বল্প কাপড়ে বেশ বড়সড় একটা ছবি প্রিন্ট করা হয়েছে, বাঙালি মেয়েদের ব্যায়ামেরর সুফল বোঝানোর জন্য এই আয়োজন। এতে করে অবশ্য পুরুষ মহলেও সানন্দার কদর বাড়বে। পুরুষদের কিত্তির কথা ভাবলে মাঝে মাঝে আমার খুব হাসি পায়, আবার করুণাও হয়। সানন্দাটা বেশ কয়েকবার উল্টে-পাল্টে দেখলাম, পড়তে আর কিছুই বাকি নেই। প্রতি মাসে তিনটে করে বেরুলে বেশ হত। ওটা টেবিলের উপর রেখে বারান্দায় চলে আসলাম।

যখন তখন বারান্দায় আসাতে স্বামীর বারণ আছে, এ কারণে কেন যেন বারান্দায় আসাটা বেশি হয়ে যায় ইদানিং। এ বাসাতে একটিই বারান্দা। যতদূর চোখ যায় বিল্ডিং আর বিল্ডিং, উঁচু-নিচু, চ্যাপ্টা-সরু, নতুন-পুরানো, ঝকঝকে-ধূসর বিল্ডিং। আমাদের বিল্ডিং এর এই পাশে ছোট্ট একটা জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। এই জায়গাটি বেশ নোংরা। আশেপাশের বিল্ডিংগুলোর যতসব আবর্জনা এখানে এসে আবাস গড়ে, খুব বাজে একটা গন্ধ বেরোয় ওদের শরীর থেকে। আমি এই পাঁচতলা থেকেও দিব্যি টের পাই ওদের অবস্থান। জায়গাটির এক কোনায় খুব স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে একটি গাছ, গাছটির নাম জানা হয়নি আজও। আমার স্বামীকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি। ও আবার উদ্ভিদবিদ্যায় খুব কাঁচা। বাড়ির কাজের মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ও বলেছে পাতা না দেখে বলতে পারবে না। সমস্যা হল, গাছটিতে পাতা গজাতে দেখেনি কখনও। আচ্ছা, ও বেঁচে আছে তো? অনেক আগে একবার রাস্তায় একটি কুকুর দেখেছিলাম। শরীরে কে বা কারা যেন গরম পানি ঢেলে দিয়েছিল, ফলত শরীরে কোথাও কোনো লোম ছিল না। আমি দেখেই বমি করে ফেলেছিলাম। গাছটিকে দেখলে আমার ঐ কুকুরের কথা মনে হয়। এখন আর বমি পায় না আমার, খুব করুণা হয় গাছটির জন্য। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি যেন গাছটির সাথে মিশে যাচ্ছি ক্রমশঃ। বারান্দায় বসে থেকে আমি গাছটিকে দেখি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। বজ্জাত কাকের দল সব ময়লা আবর্জনা ঘেটে ঘেটে গাছটিতে চেপে বসে। আমি অনেক বারণ করেছি, ধমকও দিয়েছি, কাজ হয়নি। শূন্য গাছটির শরীর জুড়ে যখন ক্ষুধার্ত কাকের দল হা করে ঠিকরে তাকায় আমার দিকে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যায় আমি। তড়িঘড়ি করে কপাট লাগাই দরজার : পণ করি, বারান্দায় আর নয়। গাছটির মায়ায় এ পণ বেশিক্ষণ টেকে না। আজ কাকগুলো কোথায় যেন বেড়াতে গেছে। আমি অনেকক্ষণ গাছটির সাথে কথা বললাম। হঠাৎ কলিং বেলের শব্দে চমকে উঠি। কে যেন গেটে, কে আর হবে এই ভরদুপুরে, আকলির মা থাকাতে আমার ভালোই হয়েছে। গেট খুলতে না খুলতে শুরু হয়ে গেল ওর বকর বকর।


ড্রেসিং টেবিলের সামনে আরও একবার বসলাম। চুলগুলো আচড়ানো শেষ করে নতুন টিপগুলোর কয়েকটি ট্রায়াল দিলাম। গত সপ্তাহে ও আমার জন্য দুটো ড্রেস কিনে এনেছে। ওখান থেকে কালো রঙেরটা বের করলাম। ড্রেস কেনার পর আর বাইরে যাওয়া হয়নি। রুমেই যে কয়েকবার পরেছি। এখন কালো রঙেরটা পরে দেখি, হুঁম, না থাক, একবারে গোসল করে পরব। টিভিটা আবার ছাড়লাম। গতরাতে দেখা সিরিয়ালটা আবার দেখলাম। তিনটা বাজতে আর বেশি বাকি নেই। আজ ও লাঞ্চ নিয়ে অফিসে গেছে। এখন গোসল করার দরকার। টিভি অফ করে গোসলে গেলাম।


গোসল সেরে আবারও ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসলাম। অনেকক্ষণ। আমার আয়নার সামনে বসতে মোটেও ভালো লাগে না, তবুও বসে থাকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আয়নার ভেতর আমি আমার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ স্পষ্ট দেখতে পাই। টেবিল থেকে রবিনসন ক্রুসো বইটা নিয়ে বারান্দায় গেলাম।

যখন আগ-পিছ বলে কিছু নেই :
পাশের বাসায় যেতে খুব ইচ্ছে করছে। ঐ বাসায় গেলে আরজু আবার খুব রাগ করে। আরজু আমার একমাত্র ছেলে। আরজুর এক ছেলে। আরজুর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ওর ছেলেটা নিয়েই যেটুকু ব্যস্ত থাকি। বৌমা ব্যাংকে চাকরি করে। ওরা দু’জনে বেশ ভোরে বের হয়ে যায়, বাড়ি ফেরে পড়ন্ত বিকেলে, মাঝে মাঝে সন্ধ্যাও হয়ে যায়। রামিম মানে আরজুর ছেলেও বেশ ব্যস্ত। সেই সকালে স্কুলে যায়, বাসায় ফেরে দুপুরে, তারপর শুরু হয় হোম টিউটরদের আসা কেউ অংক শেখায়, কেউ ইংরেজি, কেউ ছবি আঁকা, কেউ গান, কেউবা আবৃত্তি, কোনো কোনো দিন রাত অব্দি চলে যায়। আমাকে কোনোকিছুই করতে হয় না।


এ বাড়িতে আবার কোনো বারান্দা নেই। পাশের বাড়ি যাব সেটাও বারণ। আরজুকে কত করে বললাম, বাড়িটা চেঞ্জ করে বারান্দা আছে এমন বাড়ি নিতে। আরজু কিছুই বলে নি। আরজু অনেক ব্যস্ত, ঠিক যেমনটি আমার বাবা ছিল, যেমনটি ছিল ওর বাবা। আমার বারান্দা নিয়ে ভাবার সময় ওর নেই।


আমি কী চাই, আমার ভেতরটা কী বলে ওরা কোনোদিনই জানতে চায়নি না আমার বাবা, না আরজুর বাবা, না আরজু। একদিন আমি নদী হতে চেয়েছিলাম, কাশফুলের বনে দেহ এলিয়ে ভেসে থাকতে চেয়েছিলাম, চেয়েছিলাম নগ্নপায়ে শিশিরস্নপাত ক্ষেতের আইল ধরে এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতা ঘুরে বেড়াতে। আমি ব্যস্ত থাকতে চেয়েছিলাম। আমিও ওদের মতো সমাজের কেউ হতে চেয়েছিলাম। এক সময় ছিলাম হেলাল সাহেবের মেয়ে, পরে হলাম তপনের বোন, শাফিনের বউ, আরজুর মা; আর এখন, রামিমের দাদি। শুধু পরিচয় বদলেছে থেকে থেকে, এছাড়া আর খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি আমার; ভালো ছিলাম, ভালোই আছি!


  • ১৩১৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

মোজাফফর হোসেন

লেখক ও গবেষক

ফেসবুকে আমরা