রুকাইয়া সাওম লীনা

ফ্যাশন ডিজাইনার।

মোটা হওয়াটা কোনো অভিশাপ নয়: এটা অনেকটাই জেনেটিক ব্যাপার

ইংল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিন কসমোপলিটনের নতুন সংখ্যার প্রচ্ছদের মডেল একজন মোটা নারী নাম টেস হলিডে, সেই প্রচ্ছদের ছবি নিয়ে ফেবুতে পোস্ট দেয়ায় কিছু উদ্ভট মন্তব্য পেলাম। যেমন: মোটা নারীরা নাকি নোংরা হয়, তারা নিজেদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে না! একজন বললেন, বিয়ের আগে না পরে! মোটা হওয়াটা কোনো অভিশাপ নয়। এটা অনেকটাই জেনেটিক ব্যাপার।

মেয়েরা সেক্স এর পর মোটা হতে পারে। তবে বাচ্চা হবার পরই বেশির ভাগ মেয়েরা মোটা হয়। কারণ এ সময় তাদের শরীরে ব্যপক পরিবর্তন হয়। তার মধ্যে শুধু মোটা হওয়াটাই খুব গুরত্ব বহন করে না। যেমন: গায়ের রং পরিবর্তন হওয়া, বিভিন্ন চর্ম রোগ, রক্তের শ্বেত কনিকা কমে যাওয়া, র‌্যাস ওঠা, এলার্জি হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ব্যাক পেইন, হাটুতে ব্যাথা, হাড় ক্ষয়, শরীরে পানি নামা ইত্যাদি। সব ব্যাথা বেদনা সয়ে সে মানব সমাজের জীব বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখে।

কিন্তু তার বদলে সে মানব সমাজের কাছে কতটুকু সম্মান পায়? অনেক নারীর ক্ষেত্রেই এই অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে, বহু নারীই এ সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হয় তার স্বামীর কাছে। সংসারের কাজ পূর্বের মতো সুনিপুনভাবে সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেককেই শুনতে হয়, ‘দুনিয়ার আর কেউ তো আগে বাচ্চা পেটে ধরে নি, যত সব আদিক্ষ্যেতা!’ এসময়ে নারীর প্রতি পারিবারিক অত্যাচার বেড়ে যায়। তার মধ্যে প্রধান হলো মানসিক অত্যাচার। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামীরা স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। অনেকেই এ সময় পরকিয়ায় জড়িয়ে পরে।

এসময় অধিকাংশ নারীর ক্যারিয়ারের বারোটা বাজে। অনেকেই চাকরী ছাড়তে বাধ্য হয়। যারা ছাড়ে না তাদেরকেও কম দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। দেখা যায় বেশি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রেগনেন্সির জন্য কাজে তার সাময়িক বিঘ্ন ঘটে বা সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটে। যার ফলে সে তার পুরুষ সহকর্মী থেকে বেশ পিছিয়ে পড়ে। তার ক্যারিয়ারের সেই পূর্বের উজ্জ্বল সময়ে ফিরতে তাকে আবার নতুন করে যুদ্ধ করতে হয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা আর কোনদিনও কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারে না। অনেককেই বাচ্চা পালনের জন্য কর্মক্ষেত্রকে চিরবিদায় দিতে হয়। যে ছাড়ে না তাকে শুনতে হয়, ‘সে তো মা নামের কলঙ্ক, শরীরে মায়াদয়া নাই, পাষাণী। অতটুকু দুধের বাচ্চাকে ফেলে চাকরী মা…তে গেছে। আসলে তো ব্যাটাছেলের সাথে ঢলাঢলি।’ স্বামী বলে, ‘তাহলে আমি চাকরী ছেড়ে চুড়ি পড়ে ঘরে বসে থাকি! আমার কাছে আমার বাচ্চাই সব! যাও তুমি চাকরী করো!’

আর যদি চাকরী ছাড়ে তবে শুনতে হয়, ‘কত মেয়ে চাকরী করে ঘর সংসার চালায়, বাচ্চা পালে, তোমার মতো অকর্মণ্য নয় সবাই! চাকরী ছাইড়া ঘরে বসে স্বামীর টাকায় খাও আর ফুইলা ঢোল হও। মর্জিনা আপারে দেখছো? কি ফিট শরীর!’

মর্জিনা আপা হোক আর ফারজানা আপা হোক, সবাই টেনশনে থাকে। ওজন কমানোর জন্য ক্রাশ ডায়েট করে! হাঁটুর ব্যাথা বাড়ে, হাড় ক্ষয় বাড়ে। সব সময় নিজেকে কাপড়ে মোড়কে ঢেকে রাখে। জুবুথুবু হয়। মোটা যারা তাদেরকে বলছি। অতিরিক্ত ওজন অবশ্যই স্বাস্থ্য সম্মত নয়! কিন্তু ক্রাশ ডায়েটও একেবারেই ভালো নয়! মোটা হলেই মানুষ জড় হয়ে যায় না। নিজের হীনমণ্যতা দূর করুন। সুন্দরভাবে বাঁচুন। সুস্থ্য ও সুন্দর জীবন যাপন করুন! জীবনকে উপোভোগ করুন।

1730 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।