সতী মাত্রই ভন্ড

শুক্রবার, জানুয়ারী ৩১, ২০২০ ২:১২ AM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


একবার এক বেশ সিনিয়ার লেখক (নারী) তার ফেসবুক পোস্টে লিখলেন তিনি নাকি কোনোদিন পর্ণ দেখেন নাই। কোনোদিন কোনো চটি পড়ে দেখেন নাই।

সেটা হতেই পারে। হয়তো হাতের কাছে পান নাই। কিন্তু তার পোস্ট পড়ে বুঝা গেলো, এই যে তিনি চটি পড়েন নাই বা পড়েন না, কিংবা তিনি যে পর্ণ দেখেন নাই বা দেখেন না, সেইটা নিয়া তার মধ্যে বিরাট এক গর্ব আছে। এই গর্বের নাম শুদ্ধতার গর্ব। বাংলার আপামর নারী সমাজ এই শুদ্ধতার ভণ্ডামি কইরা গর্বিত হওয়ার স্বভাব নিয়াই জন্মায় সম্ভবত।

তো আমি সেই আপারে বিনীতভাবে কইলাম, আপা, আপনে একজন লেখক। লেখকের কৌতুহল থাকে বেশি। আবার তার ভ্রমণও হইতে হয় সর্বব্যাপী। তাইলে কৌতুহল থেকে কিংবা জিনিসটা কী জানার ইচ্ছা থেকেও কি কোনোদিন দেখেন নাই বা পড়েন নাই? অন্তত একজন লেখক তো লেখার স্বার্থেও চটির দুনিয়া ঘুরে দেখতে পারে! আপনার কী মনে হয়?

তিনি কইলেন, তার নাকি জীবনেও এই ইচ্ছা হয় নাই। আমি মাইনা নিলাম। কিন্তু এই বক্তব্যের সাথে তার যে দেমাগটুকু সেইটা নিলাম না। হয় তিনি ভন্ড অথবা একজন নির্জীব কৌতুহলহীন মানুষ। কৌতুহলহীন মানুষ কখনও লেখক হইতে পারে না। আর এই সর্বব্যাপী অনলাইনের যুগে একজন মানুষের চোখে পর্ণ বা চটি কোনোদিন দুর্ঘটনাবশতও ধরা দিলো না, তাইলেও সেই একই কথা কইতে হয়, তিনি যথেষ্ট নেট ব্রাউজও করেন না।

তো, সেই আপা আমারে বহুকাল আগেই ব্লক দিয়া রাখছেন। সম্ভবত আমার অশ্লীল কথাবার্তা তার সতী হৃদয়ে নিয়ত আঘাত হানতো। তার পবিত্রতা নষ্ট হয়া যাইতো। সম্ভবত এই সতীত্বই তার জীবনের একমাত্র সম্পদ। আমার যেহেতু এই সম্পদ নিয়া মাথাধরা নাই, তাই আমি দিলখুশ চিত্তে কইতে পারি, পর্ণ আমি দেখসি। চটিও পড়ছি। অন্তত জিনিসটা কী, এই প্রশ্ন আমার মাথায় আসছে বইলাই আমি দেখছি ও পড়ছি।

বাংলার আপামর নারীজাতির জীবনে সতীত্ব যতোখানি মোহ, আমার কাছে সতীত্ব ততোটাই ঘেন্নার ও পরিত্যাজ্য। এই সতীত্বের ভাব লয়া বাংলার আপামর সতী আপ্পিরা কুতু কুতু ছোনাবাবু হয়া বরের বুকে মুখ লুকায়া নুকুপুষু করে। এই সতীত্ব দেখায়া অন্যের ঘাড়ে বইসা খায়। শক্ত ও ঝামেলার কামগুলা পুরুষরে দিয়া করায়। এরপর একদিন যখন বোরিং বোরিং লাগে, তখন মাথায় বান্ধাকপি বাইধা বাইরে ডেটিংয়ে যায়। বান্ধাকপির নিচে তাদের সতীত্ব সহি সালামতে থাকে। বাসায় আইসা আবার সতীত্ব দিয়া সব আদায় কইরা নেয়া যায়।

যে নারীর যৌনতার জ্ঞান নাই, আগ্রহ নাই, সেই নারী হয় অস্বাভাবিক অথবা তিনি সতী। আর সতী মাত্রেই ভণ্ড, এইটা যেদিন মাথায় ঢুকবে সেইদিন বাংলার আপামর আপ্পি সমাজের চক্ষু খুইলা মগজে আলো হান্দাইবে।


  • ৬৪৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শারমিন শামস্

সমাজকর্মী শারমিন একজন ফিল্মমেকার ও সাংবাদিক।

ফেসবুকে আমরা